আজও স্মৃতিতে অম্লান সাংবাদিকতার গুরুদেব মানিক চন্দ্র সাহা ! | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
আজও স্মৃতিতে অম্লান সাংবাদিকতার গুরুদেব মানিক চন্দ্র সাহা ! | সব খবর | Sob khobar




আজও স্মৃতিতে অম্লান সাংবাদিকতার গুরুদেব মানিক চন্দ্র সাহা !

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২০১ জন পড়েছে

অরুণ কুমার শীল: ১৯৯১ সালের মার্চ মাসের ৫তারিখ প্রথম যে মানুষটির হাত ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত হয়েছিলাম, যার অকৃত্রিম ভালবাসা আর স্নেহের কারনে অনেক দু:সাহসিক সংবাদ লেখার সাহস পেয়েছিলাম, যিনি নিজের হাতে আমাকে দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক মরহুম হুমায়ুন কবীর বালু সারের কাছে নিয়ে বলেছিলেন এটি আমার ছোট ভাই ওকে জন্মভূমিতে কাজ করার ব্যবস্থা করে দিন।

মানিকদার এক কথায় বালু স্যার আমাকে জন্মভূমিতে কাজ করার সুযোগ দিয়েছিলেন এবং আজিবন স্নেহের দৃষ্টিতে রেখেছিলেন। আন্তর্জাতিক সততা পুরস্কারপ্রাপ্ত বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক মানিক সাহার মৃত্যুবার্ষিকী আজ । একাত্তরের রণাঙ্গনের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা মরণোত্তর একুশে পদকেও ভূষিত হয়েছেন। মানিক চন্দ্র সাহা (১৯৫৮ – ১৫ জানুয়ারী ২০০৪) ছিলেন মুক্তিকামী মানুষের মানবতার ফেরীওয়ালা এক সাংবাদিক। ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে সাংবাদিকতায় মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন।

কর্মজীবনে তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক সংবাদ ও একুশে টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরোপ্রধান ও বিবিসি বাংলা বিভাগের অবদানকারী এবং দেশের সর্বপ্রাচীন বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির নিবেদিত প্রান একজন স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে ছোট মির্জাপুর নামক স্থানে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের পৈশাচিক বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অকুতোভয় কলমসৈনিক, কন্ঠযোদ্ধা ও মানবাধিকারকর্মী মানিক সাহা।

মৃত্যুকালে তিনি ‘দৈনিক সংবাদ’ ও ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ এর খুলনাস্থ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিবিসি’র খন্ডকালীন সংবাদদাতা এবং বিশ্বনন্দিত মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল- খুলনা চ্যাপ্টারের সভাপতি ছিলেন। এর আগে খুলনা প্রেসক্লাব ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সভাপতিও ছিলেন তিনি।

মানিক সাহা আইনশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ ও খুলনা আইনজীবী সমিতির সদস্যপদ পেলেও আইন ব্যবসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি। সাধারণ মানুষের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অপেক্ষাকৃত কম উপার্জনের পেশা সাংবাদিকতাকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়া মৃত্যুর আগপর্যন্ত তিনি কমরেড রতন সেন পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক, ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর খুলনা জেলার সহ-সভাপতি, জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর, খুলনা জেলার উপদেষ্টা, শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অরতীর্থ বিদ্যাপীঠের সহ-সভাপতি এবং খুলনার ঐতিহ্যবাহী ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাউথ হেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো- মানবমুক্তির লড়াইয়ে আমৃত্যু নিবেদিতপ্রাণ এই গুণী মানুষটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও এর ন্যায়বিচার পাননি তাঁর স্বজন, সহকর্মী ও সুহৃদরা।

হত্যার দীর্ঘ ১২ বছর পর ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর খুলনার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং জেলা ও দায়রা জজ এম এ রব হাওলাদার চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করলেও রায়ে ১১ জন আসামির ৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

আদালতে দেয়া পুলিশের ত্রুটিপূর্ণ চার্জশিটে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা, তাদের পৃষ্ঠপোষক ও ভাড়াটিয়া খুনীদের নাম নেই। যে কারণে প্রকৃত অপরাধীরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার আঁড়ালে।

মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে সাংবাদিক মানিক সাহার উদ্দেশে এতোটুকুই বলবো-

‘সাহসী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন সাংবাদিকতা এবং মানবমুক্তির অসম লড়াইয়ে তুমি চিরদিন দিশারী রবে।’

মৃত্যুঞ্জয়ী মানিক সাহা- তোমার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, শত সহস্র রক্তিম অভিবাদন।

লেখা আশিষ দে দাদার সৌজন্যে।আজ মানিকদা( সাংবাদিক মানিক সাহা)’র হত্যা বার্ষিকী। ২০০৪ সালের এইদিনে দৈনিক সংবাদ, একুশে টেলিভিশন, বিবিসি বাংলার কন্ট্রিবিউটর মানিকদাকে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে খুন হ’ন ঘাতকের বোমায়। তার অপরাধ ছিল, তিনি ছিলেন সৎ ও সাহসী সাংবাদিক। কিছুতেই মাথা নোয়াতেন না।আর লড়াই করতেন ধর্মনিরপক্ষ -গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য। এ দেশে জঙ্গীবাদের স্বরুপ তিনিই প্রথম উন্মোচন করেন। সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনকে বেগবান ও বৈশ্বিক করেন তিনি।

নারী, ভূমিহীন, কৃষক, শ্রমিক, আদিবাসী ও সংখ্যালঘুর অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সবার আগে। নৈতিক সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অগ্রনী। মানুষকে ভালবাসার এমন মানুষ-আজ আর দেখি কই! আপনার অভাব খুব বোধ করি ,আজিবন করব দাদা। ওপারে অনেক ভাল থাকবেন।

লেখক: সাংবাদিক ও এনজিও কর্মকর্তা




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর