ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক আবাসিক হলে চুরি | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক আবাসিক হলে চুরি | সব খবর | Sob khobar




ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একের পর এক আবাসিক হলে চুরি

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১
  • ১০৬ জন পড়েছে

আদিল সরকার, ইবি প্রতিনিধি: কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নিরাপত্তা কর্মীদের অসচেতনতায় ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে ঘটছে একের পর এক চুরি। ঘটনার পর চোরদের খোঁজে বের করা হবে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলেই দায়সারা হয়ে পড়ছেন বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে বন্ধ ক্যাম্পাসে নিজেদের কক্ষে রেখে যাওয়া মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে সর্বদায় শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এনিয়ে কমতি নেই তাদের ক্ষোভেরও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী নাহিদ নুর মঙ্গলবার প্রশাসনের অনুমতিক্রমে রুম থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনতে গেলে রুমের তালা ভাঙ্গা অবস্থায় দেখে। পরবর্তীতে রুমে ঢুকে নিজস্ব আলমারী ও ট্রাংকের তালাও ভাঙ্গা দেখে সে। এসময় আলমারী থেকে তার বইপুস্তক, জুতা, জামা-কাপড়, দুইটি রাইস কুকারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নাহিদ। এছাড়াও ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরজমিনে গেলে হলের উত্তর ব্লকের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলার গোসলখানার প্রত্যেকটির ঝরণা ও প্রাসঙ্গিক রডসমূহ চুরি হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে এসব চুরির বিষয়ে হলে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মীরা ওয়াকিবহাল না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, যেহেতু হলের আভ্যন্তরীণ রুম থেকে জিনিসপত্র চুরি হয়েছে বা রুমের তালা ভেঙ্গে চোর ভিতরে প্রবেশ করেছে। সেহেতু বাহির থেকে চোর ঢুকে তালা ভাঙ্গতে গেলে আওয়াজ হওয়ার কথা। কিন্তু এসব ভাঙ্গার সময় নিরাপত্তাকর্মীদের কেউই টের পাননি। তাই প্রথমত নিরাপত্তাকর্মীরা কোন ভাবে এসব ঘটনায় সম্পৃক্তত কিনা সে বিষয়েও তাদেরকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের দাবি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের।

এবিষয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, চুরির ঘটনা জানতে পেরেছি। এঘটনায় তদন্ত করছি, কিভাবে নিরাপত্তাকর্মীরা থাকা সত্বেও হলে চুরি হয় তা বোধগম্য নয়। কার গাফলতির করণে চুরি হয়েছে তাকে বের করে শোকজ করবো।

এরআগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দক্ষিণ ব্লকের ১২০ নম্বর কক্ষে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই কক্ষের মূল দরজা সিলগালা করা থাকলেও বেলকনির লোহার পাতের গ্রিল কেটে চোর ভেতরে প্রবেশ করে বলে জানা যায়। পরে লকারের তালা ভেঙে ফ্যান, ব্যাগ, পোশাক, থালাবাসনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায় বলে রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক নিশ্চিত করেন। তবে চুরির এ ঘটনা আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত করার পূর্বে এ বিষয়ে হলের নিরাপত্তা কর্মীরা কিছুই জানতেন না বলে জানা গেছে।

এছাড়াও গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর শেখ রাসেল হলে লক্ষাধিক টাকার সাবমারসিবল পাম্প চুরি হয়। ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করা হলেও সর্বশেষ কোন প্রকার দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে পারে নি তারা।

এছাড়া এবছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতের বেলায় রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের পাশ থেকে নির্মাণ সামগ্রী চুরি করতে এসে আটক হয়েছে শাহরিয়ার নাফিস হিমেল (১৪) এক কিশোর। তাকে আটকের পর বিশ^বিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ও আনসার সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছিল তাদের কিশোর গ্যাং এর গল্প। যারা সম্মেলিতভাবে এর আগে শেখ রাসেল হলের সাবমরসিবল পাম্প, রবীন্দ্র নজরুল একাডেমিক ভবন থেকে দুই ভ্যান চাইলস, আট কার্টুন ক্যাবল চুরিসহ নির্মাণাধীন ভবনের ছোটখাট লোহা ও অন্যান্য জিনিস চুরি করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয়। যেখানে তার সহযোগী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের কর্মচারী তোজামের ভাগ্নে সাব্বির হোসেন, শৈলকুপার সাতগাছী এলাকার সাগর আলী, পদমদী গ্রামের জব্বার আলীর ছেলে তরিকুল এবং একই গ্রামের ক্যাম্পাসের ঝালমুড়ি বিক্রেতা জামালসহ রুঞ্জু মিয়া, আকাশ ও সুমন সম্পৃক্তত ছিল বলে জানায় হিমেল। পরে ঘটনায় হিমেলকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইবি পুলিশ থানায় সোপর্দ করেন। তবে ঘটনার পরদিন সকালেই হিমেলকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিশোর হওয়ায় শুধুমাত্র হুশিয়ারী দেওয়ার মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় জড়িতদের তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রীয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বন্ধের সময় হলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিতে গেলে হলের আইডি কার্ড, আবেদন পত্র জমা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তাহলে কীভাবে হলের ভিতর থেকে নিয়মিত এরকম চুরির ঘটনা ঘটে যাচ্ছে? শিক্ষার্থীদের ঢুকার ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি বেশি না করে ক্যাম্পাসে বহিরাগতসহ হলের নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দেওয়া দরকার। সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি হলে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা দেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, হল কর্তৃপক্ষ আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে থানায় মামলা করবো। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জবাবদিহি করাবো, কেন দিনের পর দিন চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়াও এর আগের চুরির বিষয়ে তিনি জানান, আমরা চুরির সাথে সংশ্লিষ্ট শৈলকূপা অঞ্চলের তিন জনের নাম পেয়েছি, শৈলকূপা থানায় ওই নাম নাম পাঠিয়েছি। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

সবখবর/ নিউজ ডেস্ক




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর