দুমকিতে বেড়িবাঁধই গলার কাটা, পানি প্রবাহে স্লুইজগেট নির্মাণের দাবী

সোহাগ হোসেন, দুমকি (পটুয়াখালী) : দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়ায় গ্রামের রাজগঞ্জের খালটি পাউবো’র বেড়িবাঁধে আটকে থাকায় ৫গ্রামের অন্তত: ২শ’ হেক্টর ফসলি জমিতে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চলতি আউশ ও আমনের মৌসুমে এসব ফসলি জমির চাষাবাদ ও ফসলের উৎপাদন নিয়ে চিন্তিত কৃষকরা। জোয়ার ভাটার স্বাভাবিক পানির প্রবাহ আটকে থাকায় উত্তর পাংগাশিয়া, মধ্য পাংগাশিয়া, রাজগঞ্জ, চান্দখালীসহ ৫গ্রামের অন্তত: ২শ’ হেক্টর জমিতে পানি ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। এতে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পনি সংকট আর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় চাষাবাদে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। অতি কষ্টে কৃষকরা ওইসব জমিতে কোন ক্রমে চাষাবাদ করলেও কাঙ্খিত ফলন পাচ্ছেন না।

অপেক্ষাকৃত নীচু জমিতে চাষাবাদ হলেও ফসলে মার খাচ্ছে কৃষক। রাজগঞ্জের খালের এ বাঁধটি এখন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দেখা দিয়েছে। বাঁধ কেটে দিলে পায়রা নদীর জোয়ারের পানিতে গ্রামগুলো তলিয়ে যায়, আর আটকে রাখলে পানির ওঠা নামা বন্ধে দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। খালের বাঁধের স্থলে দ্রুত একটি স্লুইজগেট নির্মাণে উদ্ভুত সমস্যা নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীরা। মধ্য

পাংগাশিয়া গ্রামের কৃষক মোস্তফা মুন্সী বলেন, বেরিবাঁধ দিয়ে রাজগঞ্জ খাল আটকে ফেলায় ৫গ্রামের কৃষি আবাদ নিয়ে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। রবি ও আউশ মৌসুমে পানির সংকটে যথাসময়ে চাষাবাদ ব্যহত হয়ে কাঙ্খিত ফলন হয় না, আবার আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারনে যথাসময়ে চাষাবাদ করতে পারছেন না। অসময়ের রোপা আমনেও ফসলহানী ঘটছে।

একই অভিযোগ দক্ষিন পাংগাশিয়ার আবদুল বারেক হাওলাদার, চান শরীফ, সেকান্দার মল্লিকসহ অনেকের। তাদের দাবি, বাঁধের স্থলে একটি স্লুইজগেট নির্মাণ করা হলে পরিকল্পিত ভাবে পানি ওঠা-নামায় এলাকার ফসলের স্বাভাবিক আবাদ নিশ্চিত হবে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আ: বারেক খান বলেন, মধ্য পাংগাশিয়া, দক্ষিণ ও উত্তর পাংগাশিয়া গ্রামের ফসলি জমির চাষাবাদ নির্বিঘ্ন করতে স্লুইজগেট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকতা মো: হুমায়ুন সিকদার বলেন, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি সংকট থাকায় কৃষকদের রবিশস্যের আবাদ ব্যহত এবং বর্ষা মৌসুমের অতিবৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার ফলে যথাসময়ে চাষাবাদ করা দুরহ হয়ে পড়ছে। এ সমস্য নিরসনের জন্য পানি সরবরাহ ও নি:স্কাশণ জরুরী। তাই ক্ষেতের পানি নিস্কাশন করতে হলে রাজগঞ্জের খালে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিকল্পিত উন্নত প্রযুক্তির স্লুইজগেট আবশ্যক। স্লুইজগেট দিয়ে জোয়ার-ভাটায় পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে কৃষকরা সকল মৌসুমেই ফসলের আবাদে অধিক ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন।

পাংগাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আলমগীর সিকদার বলেন, পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৫,৬,৭,৮ও ৯নং ওয়ার্ডের ফসলের ক্ষেতের পানি ওঠা-নামার অত্যন্ত গুরুপূর্ণ রাজগঞ্জ খালটি আটকে থাকায় মানুষের বিশেষত: চাষাবাদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাঁধটির স্থলে যতদ্রুত সম্ভব একটি স্লুইজগেট নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি পাউবো’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন।

সবখবর/ ডেস্ক নিউজ

Facebook Comments