মানিকগঞ্জে টিটিসির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণার্থীদের নানাভাবে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে কোর্স সমাপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও কতৃপক্ষ বিভিন্ন অজুহাতে প্রশিক্ষাণার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রশিক্ষণার্থীরা মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে “ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর আওতাভুক্ত হওয়ায় অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল।

এব্যাপারে সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানান, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রশিক্ষণার্থী জাহিদুল ইসলাম শাকিলের দায়ের করা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সেবা গ্রহীতার অর্থহানীসহ নানা অভিযোগ ঘটানোর বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৫৩ ধারা মতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বেলা ২ ঘটিকার সময় শুনানীতে হাজির হয়ে অধ্যক্ষ উপযুক্ত কোন প্রমানাদি দিতে পারেননি।

স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ) প্রকল্পের আওতায় জব প্লেসমেন্ট বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থায়নে পরিচালিত সরকারি কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী বুলবুলি আক্তার, তৃতীয় ব্যাচের জাহিদুল ইসলাম শাকিলসহ প্রশিক্ষণার্থী কনিকা সাঈদ ও ঝুমা আক্তারের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ করেন অধ্যক্ষ নুর মোহাম্মদ অতত্রব তাদেও কাছ থেকে নানান অজুহাতে সরকারি নিয়ম বর্হিভূত ভাবে টাকা আদায় করছেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ভর্তি হওয়ার জন্য ফরম কেনা থেকে শুরু করে পদে পদে তাদের গুনতে হচ্ছে টাকা। টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলেনা এই কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। অথচ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এই প্রকল্পে সম্পুর্ন সরকারি খরচে বদলে তাদের গুনতে হচ্ছে টাকা। তাদের অভিযোগ বিনা মুল্যের ফরম কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। বিনা মুল্যের বই বাবদ ২শত টাকা করে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে বিনা টাকার মেডিক্যাল টেষ্টেও ৩শত টাকা করে দিতে হচ্ছে। অপর দিকে পুলিশ ভেরিভিকেশনের জন্য দেড় হাজার টাকা আর লাইসেন্স পেতে বিআরটির কথা বলে ২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তারা নিয়মিত ক্লাস করলেও তাদের বিভিন্ন সময় অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। তাদের প্রাপ্য যাতায়াত খরচ ও ভাতার টাকাও আত্নসাত করা হচ্ছে।

তবে, কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) নুর আহম্মেদ অতত্রব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কতিপয় বিপথগামী প্রশিক্ষণার্থী অন্যায় ভাবে বিশেষ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এসব অভিযোগ করেছেন।

Facebook Comments