1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :

সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

আশিকুর রহমান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮৫৪ জন পড়েছে

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নির্ধারিত জমি সংক্রান্ত জটিলতায় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার লোকজন ও প্রতিপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এঘটনায় তথ্য চিত্র সংগ্রহ করতে গেলে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে স্থানীয় এক সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে প্রান নাশকের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই সাংবাদিক কৌশলে সেখান থেকে ফিরে তার নিরাপত্তার জন্য থানায় একটি সাধারণ ডাইরী (জিডি) করেছেন।

সোমবার দুপুরে উপজেলার কস্তুরিপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জানাযায়, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কস্তুরিপাড়া বাজারে বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের কাছ থেকে ২৪শতাংশ জমি ক্রয় করে ইউনিয়ন পরিষদ। তবে সেখানে থাকা একটি বাড়ির জমি বিক্রি করতে রাজি হয়নি বাড়ির মালিক। এদিকে (১১ নভেম্বর) সোমবার দুপুরে ডিডিএলজির এক কর্মকর্তা ক্রয়করা জমি পরিদর্শনে যান। পরে পরিদর্শন শেষে তিনি বাড়ির জমি বাদ দিয়ে ভবন তৈরী করার নির্দেশ দেন।

এসয়ম স্থানীয় কয়েকজন সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পরে ওই কর্মমর্তা চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা লোকদের উপরে হামলা চালানো হয়। সে খবর শুনে স্থানীয় সাংবাদিক মুনসুর হেলাল ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মোবাইল ফোন দিয়ে তথ্যচিত্র সংগ্রহ করেন। এসময় চেয়ারম্যানের লোকজন ওই সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে তার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে সব তথ্য ডিলিট করে দেয়। এবং এবিষয়ে কোন সংবাদ করলে তাকে হত্যার পর তার লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করেন। পরে তিনি সেখান থেকে কৌশলে ফিরে (১২ নভেম্বর) কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডাইরী (জিডি) করেন।

সাংবাদিক মুহাম্মদ মুনসুর হেলাল জানান, বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবনের নির্ধারিত জমি সংক্রান্ত জটিলতায় মারামারি হচ্ছে। এমন খবরে সেখানে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করায় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ২০-২৫জন লোক আমাকে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সেখান থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ও আমার ব্যাক্তিগত ছবিসহ অনান্য সকল তথ্য মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেয়। পরে মারামারি ও অবরুদ্ধের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেয় তারা। আর সাগর-রুনির যে পরিণতি হয়েছিলো আমারো একই রকম পরিণতি হতে পারে হবে বলে হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় আমার জীবন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিরাপত্তা জনিত কারণে কালিহাতী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছি।

এলাকাবাসী জানান,টাঙ্গাইল থেকে পরিদর্শনে আসা ওই কর্মকর্তা জমি পরিদর্শন শেষে বাড়ির জমি বাদ দিয়ে ভবন তৈরী করতে বলেন।এসময় স্থানীয় করেকজন সন্তুষ্টি প্রকাশ করায় ওই কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের লোকজন তাদের উপস্থিতে সেখানে হামলা চালায়।এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন ও স্বরভানুকে গুরুতর আহত অবস্থায় কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আহত জয়নাল আবেদীন বলেন, ডিডিএলজির ওই কর্মকর্তা বাড়ির জমি বাদ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ভবন তৈরী করতে বলায় আমি মাশাআল্লাহ বলি। পরে ডিডিএলজির ওই কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান বলে তুই মাশাআল্লাহ বললি কেন? এসময় তিনি তার লোকদেরকে আমাকে ধরে বলে। পরে ৬-৭জন লোক আমাকে ধরে মারতে থাকে। চেয়ারম্যান সেখানে দাড়িয়ে ছিলো। এঘটনায় জয়নাল আবেদীনসহ এলাকাবাসী চেয়াম্যানের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এবিষয়ে বীরবাসিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছোহরাব আলী সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন,নতুন ভবনের জমি নিয়ে কোন মারামারি এবং কোন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করা হয়নি। সেখানে যাতে নতুন ইউনিয়ন পরিষদের ভবন না হয় সেজন্য এরকম সাজানো নাটক করা হচ্ছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

এবিষয়ে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের ডা:মো: রুমি আলম জানান, হাসপাতালে ভর্তির সময় রুগীদের যে অবস্থা ছিলো সে অনুযারী তারা এখন অনেক সুস্থ আছেন। ২-৩দিনের মধ্যে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হবে।

এবিষয়ে কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হাছান আল-মামুন জানান, চেয়ারম্যানের লোকজন ও স্থানীয়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উভয় পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া সাংবাদিকের সাথে চেয়ারম্যানের লোকজনের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়েও অভিযোগ পেয়েছি। এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সবখবর/ আওয়াল




Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর



ফেসবুকে সব খবর