অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ন করতে স্ট্যাম্পে মুচলেকা, শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর অভিযোগ - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ন করতে স্ট্যাম্পে মুচলেকা, শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর অভিযোগ - সব খবর | Sob khobar




অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ন করতে স্ট্যাম্পে মুচলেকা, শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর অভিযোগ

পার্থ হাসান, পাবনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৪৩০ জন পড়েছে

পাবনা: ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পাবনা জেলার প্রাচীনতম মাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলির একটি পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নারী শিক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার পাশাপাশি মানসম্মত লেখাপড়া ও ভাল রেজাল্টের জন্য সুনাম রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বালিকা বিদ্যালয়টির। অথচ স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ওপরের শ্রেণীতে উত্তীর্ন করতে একশত টাকার স্ট্যাম্পে নেয়া হচ্ছে মুচলেকা এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট বা কোচিং না করলে ফেল করিয়ে দেয়ার মত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের থেকে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ায় শঙ্কিত ও প্রাইভেট না পড়লে ফেল করিয়ে দেয়ার অভিযোগে চরম ক্ষুদ্ধ অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়ের দেয়া তথ্যে জানা যায়, পাবনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণী থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজার পাঁচশতর অধিক। প্রতি শ্রেণীতে প্রভাতী ও দিবা দুই শাখা মিলিয়ে ক,খ,গ,ঘ সেকশন মোট চারটি। এ বছর ৯ম শ্রেনীর চারটি সেকশনে মোট ২৪০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এক ও তার অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে প্রায় ৬০জন শিক্ষার্থী। এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১০ম শ্রেণীতে উত্তীর্ন হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। তিন বা তার অধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়ে বিশেষ বিবেচনায় ১০ম শ্রেণীতে উত্তীর্ন হওয়ার সুযোগ দেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের থেকে স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়াকে যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন না বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও।

পাবনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বলেন, স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ার সিন্ধান্ত আমার কাছে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। অভিভাবকরা যেন তাদের সন্তানদের পড়ালেখার প্রতি আরও সতর্ক হয় সে কারনেই হয়তো এই সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৯ম শ্রেণীর একধিক শিক্ষার্থী বলেন, যেসকল শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে তাদের থেকে মুচলেকা নিয়ে ওপরের ক্লাসে ওঠার সুযোগ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়ের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের সঠিক মনে হয়নি। যেসকল শিক্ষার্থী লেখা পড়ায় মনযোগী না ও একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয় তাদের এতো সহজে পরের ক্লাসে উঠতে না দিয়ে কিছুটা শাস্তি দেয়া উচিৎ ছিল। যেন তারা পরবর্তীতে লেখা পড়ায় মনযোগী হয়।

এছাড়া পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালযয়ের শিক্ষার্থীর একাধিক অভিভাবক শিক্ষকদের স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ার কথা নিশ্চিত করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের ফেল করিয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে অভিভাবক মিনা হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের নাম্বার কম দেয়া এমনকি ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকি দেন শিক্ষক। এমন হলে শিক্ষকদের কাছ থেকে কি শিকবে শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিৎ।

অভিভাবক ঝর্না খাতুনের অভিযোগ, তাদের কাছে পরলেই পাশ না পড়লে ফেল। আমার সাথেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ে এমন ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। আমি আমার মেয়ের পরীক্ষার খাতা দেখেছি। খাতার সাথে প্রাপ্ত নাম্বারের কোন মিল নেই। শিক্ষকদের সাথে কথা বললে মেয়েকে তাদের কাছে প্রাইভেট পড়াতে বলা হয়। এমনকি স্কুল পর্যায়ে আপনারা ফলাফল খারাপ করাতে পারলেও বোর্ড পরীক্ষায় তো আপনারা তা পারবেন না, আমার এমন কথার প্রেক্ষিতে আমাকে বলা হয় ব্যাবহারিক পরীক্ষার নাম্বার তো আমাদের হাতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য আরেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমার মেয়ের পরীক্ষার ফলাফল চ্যালেঙ্গ করলে দেখা যায় অধিকাংশ বিষয়ে কম নাম্বার দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে খাতার নাম্বার ঠিক করে দিলেও আমার মেয়ের রোল কিন্তু অনেক পেছনে পড়ে রইলো, রোল এগিয়ে আনার কোন ব্যবস্থা করা হলনা।

তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রিতুস কুণ্ডু বলেন, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সঠিক নয়। পরীক্ষার খাতা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখার ব্যবস্থা আছে। চাইলে তারা নিজেরা অথবা তাদের মনোনীত কোন শিক্ষককে দিয়ে যাচাই করাতে পারেন। অভিভাবকদের এমন অভিযোগের কোন ভিত্তি।

স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল জব্বার বলেন, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়া হয়েছে, যেন পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখায় মনযোগী হয়। তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে কোচিং না করলে ফেল করানোর হুমকির বিষয়ে কোন অভিভাবক অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়া হচ্ছে এমন কোন বিষয়ে আমি অবগত নই এবং বিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের স্ট্যাম্পের কোন দায়বদ্ধতার সম্পর্ক নেই। স্ট্যাম্পে মুচলেকা নেয়ার ঘটনার তদন্ত করে দ্রত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে আমি নিশ্চিত করছি কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইভেট না পড়লে ফেল করানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সেই শিক্ষার্থীর খাতা খুঁজে বের করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সবথবর/ আআ




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর