অ্যাপ্রোচহীন কালভার্ট, বাঁশের খুঁটিই চলাচলের একমাত্র ভরসা - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
অ্যাপ্রোচহীন কালভার্ট, বাঁশের খুঁটিই চলাচলের একমাত্র ভরসা - সব খবর | Sob khobar




অ্যাপ্রোচহীন কালভার্ট, বাঁশের খুঁটিই চলাচলের একমাত্র ভরসা

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬২ জন পড়েছে

আশিকুর রহমান, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার এক বছর পরেও কালভার্টের অ্যাপ্রোচ রাস্তা নির্মাণ হয়নি। ফলে কালভার্টে উঠতে মানুষজনকে ব্যবহার করতে হয় বাঁশের খুঁটি বা সাঁকো। উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের তেবাড়িয়া- দপ্তিয়র-কদিম কাটনা রাস্তার তিনটি নবনির্মিত কালভার্ট এভাবেই পার হচ্ছে তিনটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। ফলে বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ চরম দূর্ভোগে পড়েছে। এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কালভার্ট পার হতে হচ্ছে তাদের।

তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী, বন্যা ও দেশে করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন থাকায় কালভার্টের অ্যাপ্রোচ রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের তেবাড়িয়া- দপ্তিয়র-কদিম কাটনা রাস্তার নবনির্মিত কালভার্টে উঠতে উভয়পাশে বাঁশের খুঁটি বা সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। কালভার্টে উঠতে একটি বাঁশ দিয়ে কোন রকমে পার হচ্ছে। আর এতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কালভার্টগুলো পার হচ্ছে ওই সড়ক ব্যবহারকারী হাজার হাজার মানুষ।

জানা গেছে, কালভার্টের অ্যাপ্রোচ রাস্তার অভাবে দপ্তিয়র ইউনিয়নের কয়েক হাজার গ্রামবাসী এবং পাশর্^বর্তি ধুবড়িয়া এবং সলিমাবাদ ইউনিয়নের মানুষজন তাদের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য এই সড়ক ব্যবহার করেন। ফলে সড়ক দিয়ে পরিবহন চলাচল না করায় মানুষজন কালভার্টতে উঠতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন। এতে চরম ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা কালভার্ট পাড় হচ্ছে।

উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তেবাড়িয়া- দপ্তিয়র-কদিম কাটনা রাস্তায় ১,৫০০ মিটার অ্যাপ্রোচ রাস্তার সাথে তিনটি বক্স কালভার্ট নির্মাণে দুই কোটি ১৬ লাখ টাকার প্রকল্পটির কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস কনস্ট্রাকশন। এতে প্রকল্পের কাজ ২০২০ সালের আগস্ট মাসে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়। এতে তিনটি কালভার্ট নির্মাণ করলেও এখন পর্যন্ত অ্যাপ্রোচের কাজ শেষ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয়রা জানান, উন্নয়ন প্রকল্পটি সঠিকভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং এলজিইডির প্রকৌশলীদের অবহেলা রয়েছে। রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণের কাজের সময়ও তারা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল এবং এখন তারা নবনির্মিত কালভার্টগুলিতে অ্যাপ্রোচ রাস্তার অভাবে ভুগছে।

ঠিকাদার আনিসুর রহমান বলেন, তিনি সময়মতো তিনটি কালভার্ট নির্মাণ করেন। কিন্তু বন্যা, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া এবং লকডাউনের মতো বেশ কয়েকটি অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে তিনি সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেননি।

দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ফিরোজ সিদ্দিক বলেন, দপ্তিয়র, ধুবড়িয়া এবং সলিমাবাদ ইউনিয়নের অধীনে বিভিন্ন গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অসম্পূর্ণ নির্মাণ কাজের কারণে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিসের ঠিকাদার ও প্রকৌশলী উভয়কেই অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি।

উপজেলা এলজিইডির সহকারি প্রকৌশলী মাইনুল হক বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য নবনির্মিত কালভার্টগুলোর উদ্বোধন করেন। তবে ঠিকাদার এখনও অ্যাপ্রোচ রাস্তা নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেননি। কালভার্টের অ্যাপ্রোচের কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে বার বার তাগাদা দেয়া হয়েছে। অতিদ্রুতই অ্যাপ্রোচের কাজ শেষ করা হবে।

নাগরপুর এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বেশ কয়েকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এতেও ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কোন পাত্তা দেয়নি। পরবর্তিতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করার জন্য জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর