আট জেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
আট জেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত | সব খবর | Sob khobar




আট জেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২০
  • ৭৯ জন পড়েছে
ফাইল ছবি

ঢাকা: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা বর্ষণে দেশের উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আটটি জেলা হচ্ছে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর ও পাবনা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং জামালপুর।

এতে এসব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে ও নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অনেকে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন।

সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে ডেস্ক রিপোর্ট:

সিলেট : সিলেটের সবগুলো নদ-নদীতে পানি বেড়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরের তিন উপজেলা কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। সারি-গোয়াইনঘাট সড়কসহ বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা নদীর পানি প্রবাহ তিনটি পয়েন্টে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার সদর, ফুলবাড়ী, নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর- এই সাত উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে অনেক বাড়িঘর। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় ধরলার ফেরিঘাট পয়েন্টে ৪৬ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ৪২ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।

লালমনিরহাট : গতকাল শনিবার বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ধরলা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। ফলে লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় আট হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতি হয়েছে উঠতি বাদাম ও ভুট্টা আবাদের। এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা গ্রামের ২৫টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।

দিনাজপুর: দিনাজপুরের প্রায় সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেশ কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেকের বাসাবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে জমির ফসল। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা পড়েছেন বিপাকে।

পাবনা : পাবনায় বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এরই মধ্যে ঈশ্বরদীর সাঁড়া, পাকশী, লক্ষ্মীকুড়া, সুজানগরের বরখাপুর, নাজিরগঞ্জের চর ও বেড়া উপজেলার চর পঁচাকোলা, নাকালিয়াসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা : ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া, খাটিয়ামারী, ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা ও যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, পালপাড়া, চিনিরপটল, চকপাড়া, পবনতাইড়, থৈকরপাড়া, বাঁশহাটা, মুন্সিরহাট, গোবিন্দি, নলছিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।

জামালপুর : জামালপুরের যমুনা তীরবর্তী ইসলামপুর ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ছয়টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ওই দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ জনপদ। দুর্গত এলাকার বেশিরভাগ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে। জামালপুরের বাহাদুরাবাদ এলাকায় যমুনা নদীর পানি শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎ বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জে নদীতীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় সুনামগঞ্জ শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার এবং পাহাড়ি নদী জাদুকাটার পানি বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর, কাজীর পয়েন্ট, উত্তর আরপিননগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া এলাকার চলাচলের সড়কে এবং কিছু নিচু ঘরবাড়িতেও পানি উঠেছে।

সবখবর/ নিউজ ডেস্ক




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর