এক ঘুমেই সাতদিন পার! | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
এক ঘুমেই সাতদিন পার! | সব খবর | Sob khobar




এক ঘুমেই সাতদিন পার!

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮১ জন পড়েছে

এক ঘুমেই কাটিয়ে দেন টানা সাতদিন। টয়লেটেও পরেন ঘুমিয়ে। গোসল করতে পুকুরে নামলে সকাল পেরিয়ে হয় বিকাল। একাই খেয়ে ফেলেন আট দশ জনের খাবার। মানিকগঞ্জে এমনই এক অদ্ভুত প্রকৃতির এক মানবের সন্ধান পাওয়া গেছে।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের অক্ষয় শীলের ছোট ছেলে ভম্বল শীল। প্রায় ২০ বছর ধরে এমন অস্বাভাবিক জীবন-যাপন চলছে বলে জানান তার পরিবারের সদস্যরা। পনের বছর বয়স পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল ভম্বল। তারপর থেকেই তার এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ভম্বল শীলের ভাই সংকর শীল জানান, আমার ছোট ভাই ভম্বলের বয়স ৩৮ বছর। ওর এমন সমস্যা প্রায় ২০ বছর যাবৎ। আগে এত গুরুতর ছিলনা এই সমস্যা। দিন যাচ্ছে সমস্যা আরো বাড়ছে। আমি ফুটপাতে সেলুনের কাজ করি। দিনে দেড় দুইশো টাকা আয় হয়। আমার যে আয় তা দিয়ে নিজের পরিবারই চলেনা।

তিনি আরো জানান, দু/তিনবার পাবনা মানুষিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। তারা বলেছিল দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসা করলে সে ঠিক হয়ে যাবে। আমি অভাবী মানুষ। ভাইকে চিকিৎসা করানোর মত সামর্থ্য আমার নেই। অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা হচ্ছেনা ভম্বলের। সমাজের কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমার ভাইকে চিকিৎসা করানোর দায়িত্ব নিতো তাহলে ভম্বল স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতো।

ভম্বলের ভাবী কল্পনা শীল জানান, ওনি নিজের ইচ্ছা মতই চলে। কেউ ডাকাডাকি করলেও শুনেনা। সারাদিন পড়ে পড়ে ঘুমায়। ১৫/২০ দিন পরপর গোসল করে। সকালে গোসল করতে গেলে বিকালে আসে। আর ওনি একাই কয়েক জনের খাবার খেতে পারে। সব সময় পেট ভরে খাবার খেতে দিতে পারিনা আমরা। আমাদের সামর্থ্যমত যতটুকু দিতে পারি তাতে ওনার হয়না। কোন অনুষ্ঠানের দাওয়াতে গেলেই পেট ভরে খেতে পারে।

প্রতিবেশী বিপুল গোস্বামী জানান, ভম্বল না খেয়েই পাঁচ/ সাতদিন পার করে দেয়। বাড়ির লোক ডাকাডাকি করলেও বলে একটু পরে উঠবো। এই বলে আবার ঘুমায়। আর ও একাই এক/দেড় কেজি চালের ভাত ক্ষেতে পারে। ওর ভাইতো অভাবী মানুষ। ঠিকমত ওর চাহিদা অনুযায়ী খাবারও দিতে পারেনা। দাওয়াতের কোন অনুষ্ঠানে গেলেই তৃপ্তি সহকারে পেট ভওে খেতে পারে।

ভম্বল শীল জানান, একটানা পাঁচ/সাতদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি কোন কিছু না খেয়েই। হাজার হাজার দিন চলে গেছে দুই/চারদিন ঘুমিয়েই। একফোটা পানিও খাইনি তখন।

তিনি আরো বলেন, ৬ বছর আগে আমাকে বিয়ে করানো হয়েছিল। স্ত্রী এখন আর আমার সাথে থাকেনা। বালিরটেক বাজারে দীর্ঘ কয়েক বছর রাতে পাহাড়াদারের কাজ করেছি। তার বিনিময়ে বাজার কমিটির লোকরা আমাকে কোন পারিশ্রমিকই দেয় নাই। মাঝে মাঝে ৫০/৬০ টাকা দিয়েছে। এভাবেই আমাকে ঠকাইছে তারা।

কেন এত ঘুমান জানতে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমার শরীর অত্যন্ত দুর্বল, অস্থির অস্থির লাগে তাই খালি ঘুম আসে। আগেতো পাহাড়াদারের কাজ কাম করতাম কিন্তু এখনতো কোন কাজকাম বা আয়রোজগার নাই তাই ঘুমাই। আর ঘুমাইলে ক্ষুধা লাগেনা।

এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, ভম্বল শীল জটিল মানুষিক রোগে আক্রান্ত। যত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যাবে তত তাড়াতাড়িই সুস্থ হবেন তিনি।

সবখবর/ আআ




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর