এবার গণপূর্তের রাঘব-বোয়ালরা দুর্নীতি নির্মূলের জালে - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
এবার গণপূর্তের রাঘব-বোয়ালরা দুর্নীতি নির্মূলের জালে - সব খবর | Sob khobar




এবার গণপূর্তের রাঘব-বোয়ালরা দুর্নীতি নির্মূলের জালে

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৫৯৩ জন পড়েছে

ঢাকা : গণপূর্তের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের উচ্চ পর্যায়ের সিন্ডিকেট সেভেন স্টারগ্রুপসহ অন্যসবের।

দুর্নীতি ও অনিয়মের স্বর্গরাজ্য বানানো সরকারের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী এই সংস্থাটির টেন্ডার মাফিয়া পুলিশের হেফাজতে থাকা যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসে সরকার।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরে দীর্ঘদিন চেয়ারে বসে বসে কমিশন বাণিজ্যের টাকা খাওয়া কর্মকর্তাদের খোঁজে নামে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এরই মধ্যে দুর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তার নামের তালিকা সরকারের হাতে চলে এসেছে। এবার শুরু হচ্ছে অ্যাকশন।

গতকাল বুধবার গণপূর্ত অধিদফতরের সেভেন স্টার গ্রুপের প্রধান উৎপল কুমার দে’সহ ১১ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সন্দেহভাজন অন্য কর্মকর্তাদেরও ব্যাংক হিসাব এবং টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ নানা অনিয়মের পোস্টমর্টেম চলছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নাম আসা গণপূর্ত অধিদফতরের ১১ কর্মকর্তা হলেন- কর্মকর্তাদের সেভেন স্টার গ্রুপের প্রধান ঢাকা ও মেট্রোজোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী থেকে সম্প্রতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া উৎপল কুমার দে, তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের চৌধুরী, আফসার উদ্দিন, ইলিয়াস আহমেদ, স্বপন চাকমা, শেরেবাংলানগর-১ গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী বর্তমানে তদন্ত কোষের দায়িত্বে থাকা ফজলুল হক মধু, শওকত উল্লাহ ও আবদুল মোমেন চৌধুরী এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাজ্জাদ হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান মুমিতুর রহমান।

সন্দেহের তালিকায় থাকা অন্যসব কর্মকর্তার নাম পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এরই মধ্যে জি কে শামীমের জবানবন্দিতে নাম উঠে আসা গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। তদন্ত চলছে সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাইয়ের বিষয়েও।

গণপূর্তের টেন্ডার মাফিয়া জি কে শামীম গ্রেফতারের পর থেকেই মূলত অচলাবস্থা চলছে গণপূর্ত অধিদফতরে। পূর্তভবনে কর্মরতদের অধিকাংশই অফিস এড়িয়ে চলছেন। যারা অফিস করছেন তাদের কেউই আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীমের চলমান প্রকল্পগুলোর নানা ধরনের বিলের ফাইল স্বাক্ষর তো দূরে থাক, টেবিলে রাখারও সুযোগ দিচ্ছেন না।

উচ্চপদস্থ থেকে শুরু করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পর্যন্ত বেশিরভাগ কর্মকর্তাই বন্ধ রাখছেন মোবাইল ফোনটিও। কেউ কেউ খুলে রাখলেও অতিপরিচিত লোকজন ছাড়া অন্য কারো ফোন ধরছেন না। তবে তারা সক্রিয় রয়েছেন ইমো ও হোয়াটস অ্যাপে। অতিপ্রয়োজনীয় কাজের কথা সারছেন এই দুটো মাধ্যমেই।

এদিকে গণপূর্তের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব তলব এবং জি কে শামীমের পাওয়া কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সরকার। এরই মধ্যে এনবিআর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাইয়ের হিসাব তলব করেছে। আরেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে’কে দুটি জোনের দায়িত্ব থেকেই অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। লাকি সেভেন গ্রুপের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী উৎপল কুমার দে মিডিয়া ম্যানেজের অপচেষ্টা চালিয়েই শেষ রক্ষা পাননি।

দুর্নীতিবাজদের লেনদেন অনুসন্ধান : গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত প্রকৌশলী আব্দুল হাইয়ের সব ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ দুজনের ব্যাংক হিসাব তলবের পাশাপাশি লেনদেন অনুসন্ধান করছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) আবেদনের প্রেক্ষিতে তাদের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য তলব করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অনৈতিকভাবে কাজ পাইয়ে দিতে প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ১১০০ কোটি ও আব্দুল হাই ৪০০ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে জানান স¤প্রতি গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এর পরই তাদের লেনদেন অনুসন্ধান করতে ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম আরো জানান, প্রতি টেন্ডারে ৮-১০ শতাংশ কমিশন দিতে হতো তাকে। অনেক সময় নির্দিষ্ট কমিশনের পরও ঘুষ দিতে হতো। পূর্ববর্তী ও ভবিষ্যতের কাজ পেতে এ পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে তিনি ঘুষ হিসেবে ১১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন। গণপূর্তের ঢাকা জোনের আরেক সদ্য সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইকে ৪০০ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলে জানান জি কে শামীম।

নজরদারিতে প্রধান প্রকৌশলীও : গণপূর্ত সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের অনিয়মের চিত্র বেড়ে যায় আগের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সময়ই। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন চলতি বছরের প্রথমার্ধে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের এই গ্রুপটিতে নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুল ইসলামের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের সাথে আগে থেকেই সখ্য ছিল জি কে শামীমসহ প্রভাবশালী ঠিকাদারদের। কাজের বিপরীতে প্রধান প্রকৌশলীর জন্য পূর্বনির্ধারিত হারে (১০ শতাংশ) কমিশনের টাকা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যথাসময় পেয়ে যান শাহাদাত হোসেন। তাই প্রভাবশালী ঠিকাদাররা হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ সহজেই পেয়ে যান।

বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগের প্রধান প্রকৌশলীরা প্রতিটি কাজের জন্য পৃথক টেন্ডার আহ্বান করলেও ইজিপি এড়িয়ে ওটিএমের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দিতে পুরো প্রকল্পের টেন্ডার একসাথেই করেন শাহাদাত। যে কারণে একদিকে যেমন ঢাকার বাইরে থাকা ঠিকাদাররা কাজে অংশ নিতে পারেন না অপরদিকে সামর্থ্যরে বাইরে হওয়ায় ঢাকায় থেকেও টেন্ডারে অংশ নিতে পারেন না ছোট ঠিকাদাররা।

এ ছাড়া হুমকি-ধমকি তো থাকেই। ফলে জি কে শামীমসহ প্রভাবশালী ঠিকাদাররাই বড় বড় সব কাজ পেয়ে যান সহজেই। এদিকে বদলি বাণিজ্য, পোস্টিং বাণিজ্য, পদোন্নতি বাণিজ্য, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়া, অসাধু কর্মকর্তাদের গোপসী টেন্ডার অনুমোদনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে।

প্রতিটি বদলি এবং পোস্টিংয়ের জন্য ক্ষেত্র ভেদে ১০ লাখ থেকে শুরু করে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন বলে চাউর রয়েছে। নানা অভিযোগে শাস্তিমূলক বদলি হওয়া বাপিডিপ্রকৌসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সরকারকে দুই মাসের মাথায় ঢাকায় পোস্টিং দিয়ে নিয়ে আসেন অনৈতিকভাবে।

পূর্তভবনে চাউর রয়েছে এই কাজের জন্য তিনি ৭০ লাখ টাকা নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে। তার মতের বিরুদ্ধে যাওয়ায় মন্ত্রী দেশের বাইরে থাকার সুযোগে গণহারে বদলির ঘটনাও ঘটিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এসব কারণে তিনিও রয়েছেন নজরদারির মধ্যেই।

সবখবর/ আওয়াল




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর