কবিত্বের দুর্দশাগ্রস্ত সময় কবিত্বের দুর্দশাগ্রস্ত সময় – সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
You cannot copy content of this page




কবিত্বের দুর্দশাগ্রস্ত সময়

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৭৮ জন পড়েছে

ডা.জয়প্রকাশ সরকার : একটি কবিতার জন্মই বলি কিংবা একটি অকবিতার জন্মই বলি, প্রতিটি সৃষ্টির পেছনেই সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে। কবির বেদনা-বিদ্ধ হৃদয়ই মূলত কবিতার জন্ম-ভূমি।

অর্থাৎ, সময়-বিশেষে কোন একটি বিশেষ সূত্রকে অবলম্বন করে কবির আনন্দ-বেদনা যখন প্রকাশের পথ পায়, তখনই কবিতার জন্ম। কবি বেদনাকে আস্বাদ করে রস-মূর্তি দান করেন।

ব্যক্তিগত বেদনার বিষপুষ্পের উপরে কবি যখন কল্পনার মৌমাছি উড়িয়ে আনন্দমধু আস্বাদন করতে পারেন, তখন বেদনা পর্যন্ত রূপান্তরিত সুন্দর ও মধুময় হয়ে উঠে। বেদনার যিনি ভোক্তা তিনি অথবা এটার দ্রষ্টা যিনি তিনিও এর অন্তর্নিহিত অংশে পৌছতে না পারলে তাঁর দ্বারা কাব্য-সৃষ্টি সম্ভব নয়। দূরদর্শী কল্পনাকারী কিংবা দ্রষ্টারাই মূলত কবি।

আজ অবধি কবিদের উৎপত্তি রহস্য অজ্ঞাত ও অজানাই রয়ে গেছে। সেই অনাদিকাল থেকে আধুনিক কাল পর্যন্ত যুগ-যুগ ধরে তাঁরা তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনাগুলোকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সৃষ্টি করে চলেছেন নিত্য-নতুন কবিতা।

কবিতাগুলো একত্রিত করে তাঁরা কবিতাসমগ্র বা কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন। কখনো কখনো কাব্যগ্রন্থটি বিরাট আকার
ধারণ করে সৃষ্টি করছেন মহাকাব্য।

পৃথিবীর প্রায় সকল ভাষায়ই কবিতা রচিত হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন ভিন্ন সময়কে উপজীব্য করে রচিত হওয়ায়এগুলোর আবেদন, উপযোগিতা এবং ভাবও সাধারণতঃ ঐ সময়ের জন্য উপযোগী।

তবে অনেক কবিতাই কালকে জয়ী করেছে বা কালজয়ী ভূমিকা পালন করেছে। প্রত্যেক সমাজ-সভ্যতা ও নির্দিষ্ট ভাষায় রচিত হওয়ায় কবিরা বহুমাত্রিক, বিচিত্র ভঙ্গিমা, সৃষ্টিশৈলী প্রয়োগ করেছেন তাদের কবিতায় যা কালের বিবর্তনে যথেষ্ট পরিবর্তিত, পরিমার্জিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে।

পরবর্তীকালে এই প্রায়োগিক বিষয়াদিই ঠাঁই করে নিয়েছে বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসের পর্দায়। সাহিত্যের ইতিহাসে উৎপাদিত এই বৈচিত্র্যময় শিল্প শৈলীই বর্তমান সাহিত্যকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ করেছে।

একসময় কবি শব্দটি ছিল অতীব সম্মানের। কবিকে মনে করা হতো দিব্যভাবের মানুষ। কবির আছে উচ্চমার্গের নৈতিকতা ও মহত্ত্ব,তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তগুলোও স্বকীয়তায় ভরা – এমনই মনে করা হতো। রাজনৈতিক কিংবা রাষ্ট্রীয় মহা বিপর্যয়েও কবিদের পরামর্শ প্রার্থনা করা হতো;এমন বহু অতীত নজির আছে।

চলতি সময়ে কবির সেই শুদ্ধ ভাবমূর্তি আক্রান্ত ও ভূলুণ্ঠিত হয়ে গেছে। সকল গৌরব, মহিমা ও গগনস্পর্শী সম্মান ধূলিসাৎ হয়েছে। কবিকে এখন দুশ্চরিত্র, নীতিহীন, লম্পট, কপট, ফাঁকিবাজ, প্রলাপী, পদলেহী, মতলববাজ, মদ্যপ,মিথ্যাবাদী ইত্যাদি ইত্যাদি বহুবিধ নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যের সমাহার বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কবিরাও কবিদের সম্পর্কে এইসব বদনামই গেয়ে বেড়ান।

আসলে কবিতা লিখলেই যে কবি হওয়া যায় না এমন কথা মানতেও এরা নারাজ। কবিরাও(স্ব-উল্লেখিত)এখন নির্দিষ্ট রাজনীতি করে বেড়ান, পদক বিক্রীর দালালী করেন! শিরোনাম অর্ডারে কবিতা লেখেন! আরও কত কি! কোনটাতে নাই তারা! বেশীরভাগেরই অবস্থাটা এরকমই। ব্যতিক্রম কেউ কেউ আছেন সন্দেহ নাই।তবে সংখ্যাগুরুরাই সমধিক বিবেচ্য।

এমন তো হবার কথা ছিলো না। কালের সকল দোষ নিজে ধারণ করে নীলকণ্ঠই তো হবার কথা কবির! কিন্তু হলো আর কৈ! কবি এখন ছ্যাঁচড়া ধরনের নতুন চারিত্রিক আদলের কেউ হয়তো!!!

ডা.জয়প্রকাশ সরকার (কবি, লেখক ও চিকিৎসক)।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর