করোনায় শিক্ষা খাতে গতি ফিরানোর এক অভিনব কৌশল | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
করোনায় শিক্ষা খাতে গতি ফিরানোর এক অভিনব কৌশল | সব খবর | Sob khobar




করোনায় শিক্ষা খাতে গতি ফিরানোর এক অভিনব কৌশল

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০
  • ১৩৬ জন পড়েছে
করোনায় শিক্ষা খাতে গতি ফিরানোর এক অভিনব কৌশল
আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক শিক্ষাকে কার্যকরি ও সকলের কাছে পৌঁছে দিয়ে সুশিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য আমরা দুটি কৌশল গ্রহণ করতে পারি। যথা: শহর এলাকার ক্ষেত্রে ও অপেক্ষাকৃত অনুন্নত এলাকার ক্ষেত্রে। 

শহর এলাকায় লোক বসবাসের ঘনত্ব অনেক বেশি বলে করোনায় সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী করোনা বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। এই সংবাদটি শিক্ষা খাতের জন্য এক বুমেরাং সংবাদ। কারণ এতে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি মূলত কো-অপারেটিভ। অর্থাৎ হাতে-কলমে শিক্ষা পদ্ধতি। যা এই করোনাকালীন সময়ে চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার বিষয়টি অনুধাবন করে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছেন মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এই সময়ে সরকার কর্তৃক গৃহীত ‘ঘরে বসে শিখি ‘কার্যক্রম নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবিদার। কিন্তু এই পদক্ষেপ ও আমাদের বিপুলসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের দোরগোড়ায় পৌছানো সম্ভব হয়নি। তাই শিক্ষা খাতে করোনা ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে শুরু করছে। যা থেকে আমাদের অতি দ্রুত বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে ‘আমাদের সোনার বাংলা’ বির্নিমাণ বাঁধাগ্রস্ত হবে। ভিশন -২০২১ বাস্তবায়ন করা ও আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশনেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জয়লাভের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ঘোষণা করেন রূপকল্প -২০২১। যাতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ২২টি প্রকল্প। উক্ত প্রকল্পগুলোর মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় নিট ভর্তির হার ৯৭.৮৫% এবং শিক্ষার হার ৭৩.৯%। তাই এমতাবস্থায় শিক্ষা খাতের উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ।

শহর এলাকা: বাংলাদেশের শিল্পোন্নত ও জনবহুল এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য ঢাকা জেলায় ৫২২০২ জন চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে যথাক্রমে ১৩৫০৩ জন ও ৫৮২৫জন( ০৫-০৮-২০২০)। তাই শহরাঞ্চলের কোমলমতি শিশুরা করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে। কারণ শহরের রাস্তাঘাট তাদের চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়। কিন্তু শহরাঞ্চলের শিশুরা প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে আছে। শহরের প্রায় পরিবারেই স্মার্টফোন আছে। তাই আমাদের উচিত হবে এই ডিজিটাল পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহার করা।

শহরাঞ্চলের শিক্ষা পদ্ধতির নমুনা:
১) প্রত্যেক স্কুলের নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে তাতে সকল শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা।
২) শ্রেণি ভিত্তিক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপ খুলে তাদের পড়াশোনা খোঁজখবর নেওয়া এবং ঘরে বসে শিখি এর পাঠদান তদারকি করা।
৩) প্রত্যেক স্কুলের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকেরা ভিডিও তৈরি করে শ্রেণি ভিত্তিক গ্রুপে প্রেরণ করা এবং তদারকি করা।
৪) শ্রেণি ভিত্তিক প্রত্যেক শিক্ষক ফোন অথবা ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে পাঠ আদায় করার চেষ্টা করা।
৫) পরীক্ষার সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা।

গ্রাম এলাকা: বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। জনসংখ্যার প্রায় ৪০% কৃষি কাজের সাথে জড়িত। তাই তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতাও আছে। বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ‘গ্রাম হবে শহর’ প্রকল্পে গ্রামের অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে গ্রাম আধুনিক প্রযুক্তি থেকে পিছিয়ে আছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া তাদের লাগতে শুরু করছে মাত্র। শহরাঞ্চলের মতো তারা স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শী না। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি সম্পর্কে তারা খুব ভালো জানে না। তাছাড়া দেশের পাহাড়ি ও চরাঞ্চলে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক খুবই কম থাকে আর ইন্টারনেট গতি থাকেই না বললে চলে। এমতাবস্থায় অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা তাদের কোন কাজেই আসছে না। উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের মোট শিক্ষার্থীর ৭২ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে লেখাপড়া করে। বাকি ২৮ শতাংশ লেখাপড়া করে শহরাঞ্চলে। তাই এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে পিছিয়ে রেখে দেশের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব।

অনুন্নত এলাকায় শিক্ষার কার্যকরী নমুনা:
১) Shifting system চালুকরণ। উদাহরণ স্বরুপ – শিক্ষার্থী সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে শুধু এক শ্রেণির (৫ম শ্রেণি) অথবা দুটি শ্রেণির (৩য় +৪র্থ) শিক্ষার্থী একত্র করে পৃথক পৃথক রুমে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ক্লাস পরিচালনা।
২) ক্লাসের সময় বৃদ্ধিকরণ।
৩)শ্রেণিতে ধারণ ক্ষমতার তিনভাগের এক ভাগ শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস করতে হবে।
৪) সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করতে হবে।
৫) করোনাকালীন করণীয় সম্পর্কে প্রথম ৫মিনিট সচেনতা মূলক আলোচনা করতে হবে।
৬) স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা যাতে কোথাও অহেতুক ঘোরাফিরা না করে সে বিষয়ে অভিভাবকগণ সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।

পরিশেষে বলতে চাই, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তন এসেছে, এই প্রক্রিয়ার সাথে তালমিলিয়ে চলে আমাদের উন্নয়নের গতিকে সামনের দিকে অগ্রসরমান করাই হোক আমাদের সকলের অঙ্গিকার।

লেখক: আব্দুর রাজ্জাক, শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর