গণমাধ্যমের গণশত্রু : অনিবন্ধিত টেলিভিশন ও আইপিটিভি - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
গণমাধ্যমের গণশত্রু : অনিবন্ধিত টেলিভিশন ও আইপিটিভি - সব খবর | Sob khobar




গণমাধ্যমের গণশত্রু : অনিবন্ধিত টেলিভিশন ও আইপিটিভি

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০
  • ৩৯১ জন পড়েছে

বিশ্বজীৎ দত্ত ভৌমিক: প্রায়ই ফোন করে মফস্বল সংবাদিকরা জানতে চান নতুন নতুন নামের টিভি আসছে কি-না? আমার কাছে তথ্য না থাকলে এড়িয়ে যাই। কারণ, ডাউনলিংক প্যারামিটার দিয়ে চালানো এসব অনিবন্ধিত চ্যানেলের অপকর্ম বলে শেষ করা যাবে। তারপরও কিছু অংশ তুলে ধরছি।

এসব অনিবন্ধিত টিভি চ্যানেল জেলা, উপজেলা এমন কোথাও কোথাও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়। এর বিপরীতে নেয়া হয় বিপুল অর্থ। পঞ্চাশ হাজার থেকে কয়েক লাখ পর্যন্ত টাকা নেন কর্তৃপক্ষ। বিনিময়ে কোন নিয়োগপত্র ছাড়া শুধু পরিচয়পত্র ও লগো সংবলিত একটি বুম। এক্ষেত্রে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা কি তা কেউ দেখে না।

এসব প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন তো দুরের কথা কোন ফুটেজ বিলও পান না। তাহলে প্রশ্ন আসে তারা চলেন কিভাবে? নিজের এবং ক্যামেরাম্যানের খরচ, সংসার চালানোর পাশাপাশি অফিসের কর্তা ব্যক্তিদেরও সন্তুষ্ট করতে হয় তাদের। ফল স্বরূপ জড়িয়ে পড়েন নানা অপকর্মে। আশ্রয় নেন অন্যায় কাজের।

যেহেতু এসব টেলিভশন চ্যানেলের নিবন্ধন নেই, সেহেতু এর কর্মীদেরও দায়বদ্ধতা নেই। যা খুশি তাই করছেন। এসব প্রতিনিধিদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ। আর এতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মূলধারার সাংবাদিকদের।

এসব টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কার্যকরী কোন উদ্যােগ নেই। আর অনুমোদনহীন এসব চ্যানেলের রমরমা বাণিজ্য শুধু রাজধানীতেই নয়, ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। এর সংখ্যা কত তাও কেউ বলতে পারে না। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে বার বার অনুমোদনহীন চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ দেয়া হলেও কোন কাজ হয়নি। এসব চ্যানেলে মূলত সংবাদ প্রচারের নামে প্রতিনিধি বাণিজ্য, বাংলা ছবি ও অশ্লীল বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়।

অবৈধ সম্প্রচারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সম্প্রচার শিল্পে। বিজ্ঞাপণ কমে যাওয়ায় খরচ চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশের নিবন্ধিত টিভি চ্যানেলগুলোকে।

অনুমোদহীন টিভি মুভি বাংলা, আনন্দ বাংলা, চ্যানেল-৭, এসবি টিভি (স্বাধীন বাংলা) এবং ঘড়ি ও এমবি লোগোসংবলিত টিভি চ্যানেল বন্ধের জন্য অনেক আগেই বিটিভিকে চিঠি দিয়েছিলো তথ্য মন্ত্রণালয়। আর এখন শত শত চ্যানেল, কোনটা ডাউনলিংক, কোনটা আইপি টিভি (ইন্টারনেট প্রোটোকল টেলিভিশন সার্ভিস) কিউবাংলা.টিভি, ইউটিভি আরো কত শত নাম। সম্প্রতি আলোচনায় এসেছে সিএনএন বাংলাটিভি নামে একটি অনিবন্ধিত টিভি চ্যানেল।

প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খোদ মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের ছেলের নাম জড়িয়ে অপকর্ম করছে। যদিও এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি পুত্র ও সংসদ সদস্য রেজোয়ান আহমেদ তৌফিক।

এসব টিভি বাসায় কম্পিউটারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কম্পিউটারে ভিডিও সম্পাদনা করে সম্প্রচারের জন্য ইসরাইলে ফ্রি স্যাটেলাইট স্টেশনে পাঠানো হয়। সেখান থেকে দেশের কিছু অসাধু কেবল অপারেটর ডাউনলিংক করে সম্প্রচার করে।

ইসরাইলে স্থাপিত ফ্রি স্যাটেলাইট বিষয়টি সামনে আসে ২০১৪ সালে। অনুমোদনহীন চ্যানেল-১৬ এর ব্যাপারে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে।

চ্যানেল-১৬ বন্ধ করার পর নানা নামে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালায় এর সঙ্গে জড়িতরা। কখনও এমবি, কখনও মুভি বাংলা এবং অন্যান্য নামও ব্যবহার করে তারা। তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কেবল টিভি নেটওয়ার্কে সম্প্রচার করা হচ্ছে। এসব চ্যানেলে প্রচার করা হয় অশ্লীল বিজ্ঞাপন।

আগে ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোতে বিভিন্ন ধরণের আয়ুর্ব্বেদিক ঔষধের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। দেশটিতে বেশ কিছু বিজ্ঞাপন সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর থেকে উৎপাদকরা বাংলাদেশে কিছু এজেন্ট বসিয়ে এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করছে।

টেলিভিশন শিল্পকে বাঁচাতে হলে অনিবন্ধিত এসব টিভি চ্যানেল ও আইপি টিভি নিয়ন্ত্রণে কঠোর হওয়া এখন সময়ের দাবি।

লেখক: সহকারী বার্তা সম্পাদক, বৈশাখী টিভি




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর