গণমাধ্যমের গণশত্রু: গুজব ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
গণমাধ্যমের গণশত্রু: গুজব ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম | সব খবর | Sob khobar




গণমাধ্যমের গণশত্রু: গুজব ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০
  • ৫৮ জন পড়েছে

বিশ্বজীৎ দত্ত ভৌমিক: তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষের জীবন-মান সহজ হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের চায়ের দোকানে বসেও কেউ আর তথ্যের জন্য পত্রিকার পাতা ঘাঁটাঘাঁটি করে না। স্মার্টফোনের বদলৌতে মুহূর্তই সব তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে হাতের মুঠোয়।

আধুনিক জীবনের এক নতুন বাস্তবতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমাদের নিউজফিডে প্রয়োজনীয়, অপ্রয়োজনীয় সংবাদ, ছবি ও ঘটনায় ছড়াছড়ি। কখনো সিক্রেট গ্রুপ, কখনো প্রাইভেট গ্রুপ তৈরী করেও চলছে অপকর্ম। খুঁজে না পাওয়ার জন্য কেউ কেউ গ্রুপকে সার্চ হিডেন করে রাখে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে Facebook, Messenger, TikTok, WeChat, Instagram, QZone, Weibo, Twitter, Tumblr, Baidu, Tieba, LinkedIn, YouTube, QQ, Quora, Telegram, WhatsApp, LINE, Snapchat, Pinterest, Viber, Reddit, Discord, VK, google+, Vimeo বেশি জনপ্রিয়।

মানুষের কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সৃষ্টি করা হলেও বাস্তবে কি তাই ঘটছে? এর মধ্যে মানুষকে হেয় করা, অপপ্রচার, গুজব ছড়ানো, নৈরাজ্য সৃষ্টি সব কিছুই হচ্ছে।

গণমাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ইতিবাচক প্রভাব যেমন আছ, তেমনি আছে নেতিবাচক প্রভাবও। এতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান গণমাধ্যমকর্মীরা। কখনো কখনো মূল ঘটনাকে আড়াল করার জন্য সাংবাদিকের সামনে এসব তুলে ধরেন কিছু মহল। ফলে সত্য ঘটনা কে খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের সময় বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

আরেকটি বিষয় না বললেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমসাময়ীক বিষয় ও হালকা খবর স্থান পায়। এ কারণে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সহ সচেতনতামূলক অনেক খবরই বড় সংখ্যক একটি জনগোষ্ঠীর আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

সহজেই ভুলে ভরা তথ্য ছড়িয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি, অনুমান নির্ভর তথ্য দিয়ে কিংবা ভীনদেশি ছবিকে নিজের দেশের বলে চালিয়ে দেয়া, এমনকি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জুড়ি নেই।

কয়েকদিন ধরেই ফেইসবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি তথ্য: দুই মাসে ঢাকা মেডিকেলের কভিড চিকিৎসারত ডাক্তারদের খাবার খরচ ২০ কোটি টাকা। সকালের নাস্তার দাম ১৫০০ টাকা। সাথে পাউরুটি আর ডিমের ছবি।

এই তথ্যের উৎস কি তা নিয়ে কেউ কথা বলেনি। এমনকি সমালোচনাকারীরাও জানার চেষ্টা করেনি।

অথচ দেখা গেলাে দিনে জনপ্রতি খাবার বিল মাত্র ৫০০ টাকা!

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ফেসবুকের কল্যাণে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কমলেও নানামুথী ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হামলা, ভোলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ।

প্রত্যেক ক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা রাখে ফেসবুক। দুষ্কৃতিকারীরা স্ট্যাটাস দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করে।

জঙ্গি সংগঠনগুলো কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও নিজেদের সংগঠিত করার কাজে ব্যাপকভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহার করছে। একথা বারবার বলে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অনলাইন ম্যাটেরিয়াল তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করে তারা। কখনো কখনো ভিডিও বক্তব্য দিয়েও তরুণ-তরুণীদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

তবে একথা ঠিক যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গণমাধ্যমের উপর পাঠকের প্রভাব বাড়িয়েছে। আগে গণমাধ্যম নতুন নতুন ভাবনার বিষয় তুলে ধরতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে এখন আর সেই অবস্থা নেই। ঘটনার সাথে সাথেই এর ওপর নানামুখী সংবাদের চাহিদা তৈরি হয় পাঠকের কাছে সেসবের যোগান দিতেই ছুটতে হয় গণমাধ্যমগুলোকে।

লেখক: সহকারী বার্তা সম্পাদক, বৈশাখী টিভি




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর