ঘিওরে নামধারী সংগঠনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ৫শতাধিক মালিক-শ্রমিক | সব খবর | Sob khobar ঘিওরে নামধারী সংগঠনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ৫শতাধিক মালিক-শ্রমিক | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :




ঘিওরে নামধারী সংগঠনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ৫শতাধিক মালিক-শ্রমিক

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ২৩৬ জন পড়েছে

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ): মানিকগঞ্জের ঘিওরে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জের ধরে অটোবাইক শ্রমিকদের তিনটি সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে যে কোন সময় সংর্ঘষের আশংকা দেখা দিয়েছে। তিন গ্রুপের পরিবহন মালিক- শ্রমিকদের পরস্পর বিরোধী কর্মকান্ডে একদিকে যাত্রী সাধারনরা যেমন ভোগান্তিতে রয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারন সিএনজি মালিকরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘিওরে সিএনজি ও অটো বাইকে কোন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে না। তারপরেও বিভিন্ন কর্মসূচি ও মিথ্যা মানববন্ধন বিষয়ে বিব্রত খোদ প্রশাসন।

সরজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘিওর বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে বানিয়াজুরি, বড়টিয়া, সিংজুরি, পয়লা, বালিয়াখোড়াসহ ছয়টি রুটে প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক অটোবাইক চলাচল করে। বাংলাদেশ অটো বাইক শ্রমিক কল্যান সোসাইটি নামে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ঘিওরে স্টিকার লাগিয়ে অটোরিকশায় চাঁদাবাজি করা হতো। অটোবাইকের মালিক ও চালকদের অভিযোগ, ঘিওর বাসস্ট্যান্ড থেকে অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি নামে রশিদ দিয়ে প্রতিটি অটোবাইক থেকে ১৫ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয়। এছাড়াও সমিতির স্টিকার লাগিয়ে মাসে চারশ টাকা আদায় করা হচ্ছে। মাসিক চাঁদা পরিশোধ করার পরেই গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। স্টিকার না লাগানো থাকলে সেই গাড়ি চলতে দেয়া হয় না। ১১ সদস্যের একটি কমিটি থাকলেও পুরো চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে সভাপতি মো. নাজমুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক আংটি মানিক খা, শাহিন, সিদ্দিক, রবি, নাছিম ব্যাপারী ও ইদ্রিস। এই চাঁদাবাজি বন্ধে চালক ও মালিকরা প্রতিবাদলিপি পেশ করেন ঘিওর থানার ওসি ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন এবং থানার ওসি ভুক্তভোগীদের সাথে আলোচনা করে ঘিওর অটোবাইক সমিতির সকল কার্যক্রম স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

এদিকে উপজেলার তিনটি সড়কে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকরা। গত সোমবার উপজেলার ঘিওর-শ্যামগঞ্জ সড়কের কুস্তা সিএনজি-অটো স্টেশনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সিএনজি চালকরা।

এ সময় ঘিওর সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি দাবী করে হাবিবুর রহমান দর্জি লাভলু জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে ঘিওর উপজেলার বরংগাইল-নাগরপুর, ঘিওর-শ্যামগ্ঞ্জ ও ঘিওর টেপড়া এই তিন রাস্তার প্রায় সহস্রাধিক সিএনজি-অটো থেকে জিপি-২০ টাকা, পাকিং এর নামে-১০ টাকা, মাসিক চাঁদা-১০০ টাকা, প্রতিমাসে অনটেষ্ট গাড়ি থেকে ২০০ টাকা, গাড়ি ভর্তি বাবদ-২০০০ টাকা করে প্রায় লক্ষাধিক টাকা প্রতিদিন সি এন জি মালিক সমিতির নামে প্রভাবশালী মহল চাঁদাবাজি করছে। আর এর প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি স্বীকার হতে হয়। সিএনজি চালক মোঃ নাদিম বেপারী, এস এম শাহিন, রুবেল বলেন, সিএনজি থেকে চাঁদাবাজি শুধু নামে নয়, বেনামে চাঁদাবাজি করছে, আমরা এই চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামরা করছি।

অপরদিকে শ্রম মন্ত্রনালয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত সংগঠন ঘিওর সিএনজি মালিক সমিতি। এই সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুল জব্বার জানান, সম্প্রতি সিএনজি চালক ও মালিকদের নামে সিএনজি ও অটোবাইকে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঘিওরের কুস্তা এলাকায় মানববন্ধন করে। প্রকৃতপক্ষে উক্ত মানববন্ধনে একজনও সিএনজি মালিক কিংবা শ্রমিক উপস্থিত ছিল না। সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগের ভূয়া নামধারী চিহিৃত একটি সংঘ তাদের ফায়দা হাসিল করতে কুস্তা ভাঙন এলাকায় রাস্তা নির্মান করার দাবীর কথা বলে এলাকার সাধারন মানুষদের মানববন্ধনে দাঁড় করায়।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার আইরিন আক্তার বলেন, অটোবাইক চালক-মালিকদের অভিযোগ পাওয়ার পর অটো বাইক শ্রমিক কল্যান সোসাইটি নামের সংগঠনটির কার্য্যক্রম বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। তারপরেও যদি অটোবাইক চালক-মালিকদের নামে বেনামে কেউ চাঁদাবাজি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ প্রসঙ্গে ঘিওর থানার ওসি মো. আশরাফুল আলম জানান, ইতিপূর্বে অটোবাইক সমিতির সকল কার্য্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ঘিওরে সিএনজি ও অটো বাইকে কোন চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে না। কোন মালিক কিংবা শ্রমিক কোন অভিযোগও করেনি। তারপরেও একটি মহলের মানববন্ধন ও মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে বিষয়ে বিব্রত প্রশাসন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্য-মিথ্যা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর