ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে | সব খবর | Sob khobar




ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ২১ জুন, ২০২০
  • ১১৪ জন পড়েছে

ইসরাত জাহান: বাবা শাশ্বত, চির আপন, চিরন্তন। বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ আর নিঃসীম নিরাপত্তার চাদর। তিনি বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের তলে সন্তানের অমল-শীতল ছায়া। তিনিই বাবা।

আজ ২১জুন, রবিবার। বিশ্ব বাবা দিবস।জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সারা বিশ্বের সন্তানরা পালন করবেন এই দিবস।রাগ শাসন আর রাশভারী চেহারার আবডালে যে মানুষটির একটি কোমলহৃদয় লুকিয়ে থাকে তিনিই বাবা। সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসা এতটাই স্বার্থহীন যে, সন্তানের জন্য নিজের প্রাণ দিতে ও তাঁরা কুন্ঠাবোধ করেন না।

ইতিহাস ও যেন সাক্ষী হয়ে আছে সন্তানের প্রতি বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার।বাবার ভালোবাসা অসীম। ‘মরিয়া বাবর অমর হয়েছে, নাহি তার কোন ক্ষয়/পিতৃস্নেহের কাছে হয়েছে মরণের পরাজয়।

মোঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবর সন্তানের প্রতি বাবার ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে আছেন। তিনি সন্তান হুমায়ুনের জীবনের বিনিময়ে নিজের জীবন ত্যাগ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি।এমন স্বার্থহীন যার ভালোবাসা,সেই বাবাকে সন্তানের খুশির জন্য জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। পিতৃদিবসে সন্তানদের সামনে সুযোগ আসে বাবাকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ধন্যবাদ জানানোর। পিতার প্রতি সন্তানের সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে। সন্তানরা তাদের প্রিয় জন্মদাতার জন্য নানা উপহার কিনবে,দিবে। যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়ত আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি হাতড়াবে।

আমার বাবা, আমার অনুপ্রেরণার আশ্রয়স্থল।আমার বাবা, আমার পৃথিবী। আজ বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ছোটবেলার একটি কাহিনির কথা মনে পড়ে যায়। আজ থেকে ১৩ বছর আগের কথা। তখন আমি ২য় শ্রেণিতে পড়ি।স্কুল ছুটির পর আমার বাবা ই সবসময় আমাকে বাসায় নিয়ে আসত। রাস্তাঘাট ও এতটা চিনতাম না। বাবার সাথে যেতাম,আবার ছুটি হলে বাবার হাত ধরে ফিরে আসতাম। তবে ছুটি হলেই আমি দোলনা, মই এগুলো চড়তাম,এজন্য বাবা আমাকে বলে দিতেন খেলা শেষে আমি যাতে স্কুলের বড় বটগাছ তলায় থাকি;আর বাবা সেখান থেকেই এসে নিয়ে যেতেন আমাকে।

২য় শ্রেণি থেকে ৩য় শ্রেণিতে পর্দাপণের ঐসময়ে নতুন আরেকটি স্কুলে ভর্তির জন্য আবেদন করা হয়েছিল।যথারীতি ডিসেম্বর মাসে ভর্তি পরীক্ষা ছিল। সকাল থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বাবা আমাকে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে গেলেন। আমার ছোট্ট জীবনের প্রথম ভর্তি পরীক্ষা। এসে দেখলাম মেইন গেট থেকে রাস্তা অবধি পুলিশ দাঁড়ানো।বলা হলো,অভিভাবকদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এখানেই লাইনে দাঁড়াতে হবে। তো বাবা ও আমাকে লাইনে দাঁড়িয়ে কিছুটা দূর থেকে আমাকে সান্ত্বনা দিতে লাগলেন। যাক,সবকিছু মিলিয়ে পরীক্ষা শেষ হলো সকাল ১০ টায়। ছুটির ঘন্টা বাজার সাথে সাথে কক্ষ থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম।

বাইরে বেরিয়ে এত মানুষের ভিড়ে আমার বাবা কই? মনে হয়েছিল, আজ হয়ত আমি আর বাড়ি যেতে পারব না। কারণ এত মানুষের ভিড়ে আমি তো আমার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বিশাল মাঠে মানুষ যেন পিপঁড়ার দলের মতো ভিড় করেছিল। বুঝতে পারছিলাম না,কি করব,কোথায় যাব,কোথায় ই বা খুঁজে পাব আমার বাবাকে। প্রতিদিনের মতো আজকে তো বলে দেওয়া হয়নি কোথায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
আমি একবার পিছনের মাঠে, একবার অফিসঘরের সামনে মাঠে খুঁজলাম বাবাকে। খুঁজে খুঁজে না পেয়ে কান্না করতে করতে স্কুলের ভেতর পুকুর ধারের কাছে চলে যাচ্ছিলাম। আমি জানতাম না,সেখানে পুকুরঘাট। হঠাৎ একজন ভদ্রমহিলা আমাকে দেখতে পেলেন, হয়ত কোন শিক্ষিকা ছিলেন। জিজ্ঞেস করলেন আমার কান্নার কারণ। সব খুলে বলেছিলাম। ইতিমধ্যে, মাঠে লোকজন কমে আসছিল। তখন সেই মহিলা অ্যাসাম্বলির মাইকে আমার পরিচয়-বৃত্তান্ত সব বলেছিলেন।

দশ মিনিট পর,দেখলাম অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে বাবা মাঠের দিকে দৌড়ে আসছিলেন আমার কাছে। আমিও বাবাকে দেখে মহিলার হাত ছেড়ে দৌড়ে চলে গিয়েছিলাম বাবার কাছে।এক মুহূর্তের জন্য সবকিছু যেন থমকে গিয়েছিল। হারিয়ে যাওয়া বাবা এবং মেয়ে দুজন যেন দুজনকে খুঁজে পেয়েছিল। দেখলাম বাবার দুচোখে পানি। বাবা কাদঁছেন। এই প্রথম আমি বাবার চোখে পানি দেখেছিলাম। বাবা যেন একদম কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। বাবার মুখের কথার বাঁধ যেন ভেঙে গিয়েছিল।

মনে আছে, আমি বাবার চোখের পানি মুছে দিয়েছিলাম। তারপর এই কাঁদো কাঁদো চেহারায় বাবার ঠোঁটের কোণে একটু স্বস্তির হাসি যেন দেখা যাচ্ছিল। তারপর দুজন আস্তে আস্তে বাসার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছিলাম।

আজকে এই বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে লিখতে বসে যেন নিজের পুরাতন স্মৃতিতে হারিয়ে গিয়েছিলাম।বাবা দিবসে বাবাকে নিয়ে সবচেয়ে সেরা স্মৃতি ছিল এটি ; যা কখনো ভুলবার নয়। বাবা তোমাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসি,কখনো বলা হয়নি।

বাবার মাধ্যমেই সন্তানের জীবনের শুরু। পিতা হলো সেই ব্যক্তি যে সন্তানের মাথার উপর স্নেহচ্ছায়া বটবৃক্ষের মতো অবস্থান করে। সন্তান বাবার ঋণ কখনো পরিমাপ করতেও পারে না। এ উদ্দাম গতিময়তার যুগে বাবা শুধু লালনকর্তা,পালনকর্তা এবং প্রয়োজনের যোগানদাতাই নয় বরং আরো বড়কিছু। বৃক্ষ যেমন ছায়া দেয়, ফল দেয়, জ্বালানী দেয়,কাঠ দেয়, দেয় বাঁচার জন্য অক্সিজেন…..তেমনি বাবা ও দেন ছায়া, প্রয়োজনের ফল-জ্বালানী-কাঠের যোগান। আর দেন সমাজে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার আত্মপরিচয়ের অক্সিজেন।

ভরসা ও ছায়ার নাম বাবা। পরম নির্ভরতার প্রতীক ; বাবা দিবসে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা পূর্ণতাপাক,দৃঢ় হোক পরিবারের বন্ধন। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

লেখক: শিক্ষার্থী,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর