ছুটিতে কেমন সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
ছুটিতে কেমন সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা | সব খবর | Sob khobar




ছুটিতে কেমন সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২০
  • ২০৫ জন পড়েছে
ছুটিতে কেমন সময় পার করছে শিক্ষার্থীরা
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

ইহসানুল কবির আনিন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়:  করোনা আতঙ্কে সারাদেশের মানুষ ঘরে বন্দি সময় কাটাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনলাইনে ক্লাসের নির্দেশনা দিলেও বাস্তবতা ভিন্ন। দেশের গ্রামাঞ্চলগুলোতে দুর্বল ইন্টারনেট সেবার কারণে অনেকেরই এই ক্লাসে অংশ নেয়া হয়ে উঠছে না। একজন শিক্ষার্থীর প্রধান কাজ নিয়মিত পড়ালেখা করা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কেমন কাটছে তাদের সময়। সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইহসানুল কবির আনিন তুলে ধরেছেন তারই বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর দিনলিপি।

সুমাইতা মেহজাবিন প্রমি পড়ছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগে। থাকেন ঢাকার সাভারে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, করোনার প্রাদূর্ভাবের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি পেয়েছি। অনেক দিন পর পরিবারের সবাই মিলে একসাথে অনেক সময় কাটাতে পারছি। এজন্য বেশ ভালো লাগছে। তবে এখন একঘয়েমি লাগছে এই দীর্ঘ ছুটি। বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখার প্রতি আমার একটা আগ্রহ আগে থেকেই ছিল। তাই বাসায় বসে অনলাইনে এখন কোরিয়ান, তুর্কী এবং জার্মান ভাষা শিখছি। পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় আরও দক্ষতা অর্জন করছি। আর একজন মেয়ে হিসেবে নিজের প্রয়োজনেই মায়ের কাছ থেকে রান্না শেখার চেষ্টা করছি। বাবা আর আমি মিলে আমাদের ছাদে বাগান করেছি। নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করছি। করোনার ভয়াল অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নিজেদের অধীনস্থ কিছু মানুষের জন্য আনুমানিক এক মাসের খাবার, ঔষধ এবং কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করেছি। তাছাড়া আমাদের বাসার সামনে রাস্তার পাশে সাধারন মানুষের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি।

মেডিকেল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৮ম সেমিষ্টারের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান জিকের সাথে। বর্তমান করোনা কালীন সময়ে তার প্রতিদিন কিভাবে পার করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি স্কুল জীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলাম। দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় সাধারণ দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষদের নিজের সাধ্যমত ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা করেছি। করোনা ভাইরাসের মত ভয়ঙ্কর একটি মহামারীতে যেখানে পুরো বিশ্ব এমনকি নিজের দেশ অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন, ঠিক এমন সময়ে একজন সচেতন নাগরিক ও ছাত্র হিসেবে নিজেকে লকডাউন করে রাখতে পারিনি। করোনা মহামারির জন্য যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, তা সত্ত্বেও গণ বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ ছাত্র পরিষদের পক্ষে আমি, আমাদের সংগঠন ও ক্যাম্পাসের কিছু সাধারণ শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীদের কিছু খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। আমার নিজ এলাকায় আমার বাবার গড়া একটি সংগঠন থেকে প্রায় একশত পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছি। যেহেতু ছোট থেকেই লেখালেখির প্রতি একটা ঝোক আছে তাই সম্প্রতি একটি উপন্যাস লিখছি। আশা করছি লকডাউনের মধ্যে শেষ হবে এবং পরের বছর একুশে বই মেলায় সেটি প্রকাশ করার চিন্তা রয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে থিসিসের পড়া ও বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন বই পড়ে।

ঝিনাইদহের মেয়ে নাজিয়া তাবাচ্ছুম নদী। এবারই ভর্তি হয়েছেন ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগে। ক্যাম্পাসকে ঠিকঠাক চেনার আগেই করোনার কারণে অবস্থান করছেন নিজের বাড়ীতে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ক্রান্তিলগ্নে আমি এবং আমরা পরিবারের মানুষ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করছি। আশেপাশের কিছু গরিব, অসহায়, দুঃস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে নিজের দায়িত্ববোধ থেকে তাদের পাশে দাড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এছাড়া বাসার ছাদে কিছু সবজি এবং ফুল গাছ লাগিয়েছি। যা থেকে নিজেদের প্রয়োজনীয় শাক-সবজি কিনতে অনেক বেশি বাড়ি থেকে বের হতে না হয়। এইগুলো আমি এবং আমার বাড়ির ছোট ছোট ভাই-বোন পরিচর্যা করি। ছোটরা যেন বাহিরে বের হয়ে আক্রান্ত না হয় এবং তারা বাড়িতে থাকতে আনন্দ পায় সেজন্য তাদের সাথে কাজ করি। আর যেহেতু আমি ভেটেরিনারি শিক্ষার্থী সেহেতু যতটুকু পারছি যারা খামার করছে তাদের পশুপালন, পশুর সঠিক পরিচর্চা, পশু ও খামারের পরিষ্কার-পরিছন্নতার সম্পকে কিছু প্রাথমিক ধারণা দিচ্ছি। একই সাথে মানুষকে পশুপাখি থেকে যে করোনা ছড়াই না, সে সম্পর্কে সচেতন করছি।

আশীষ কুমার সৌরভ পড়ছেন ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের ৭ম সেমিষ্টারে। কেমন সময় পার করছেন এমনটা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন এক মহামারীর মধ্যে দিয়ে অতিক্রম করছে। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় বাসায় পরিবারের সাথে সময় কাটছে। এ রকম ছুটি সাধারণত পাই না। তবে প্রথমে আনন্দ লাগলেও এখন ক্যাম্পাসের দিনগুলো প্রচন্ড মিস করছি। ভেটেরিনারির শিক্ষার্থী হয়ে এই বিপদের দিনে দুস্থ মানুষের পাশে দাড়ানো আমাদের কর্তব্য। ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের বাংলাদেশ ভেটেরিনারি স্টুডেন্ট’স ফেডারেশনকে। তাদের উদ্যোগে আমরা কর্মহীন মানুষ এবং ভেটেরিনারির অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছি। আশা করি আগামীতে আমাদের সাহায্য অব্যাহত থাকবে। নভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ শনাক্তকারী কিট উদ্ভাবনকারী ভেটেরিনারিয়ান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল স্যারকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানাই। তিনি আমাদের ক্যাম্পাসের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান। আমরা সকল শিক্ষার্থীরা তাঁর এ উদ্ভাবনে দারুণ গর্ব অনুভব করছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ১ম সেমিষ্টারের ছাত্রী বিদুষী চাকমা। করোনা পরিস্থিতির কারনে বর্তমানে অবস্থান করছেন রাঙ্গামাটিতে। সে কিভাবে এই সংকট কালীন সময় পার করছেন শুনবো তার কাছ থেকেই। করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমি নিজের বাড়িতে পরিবারের সাথে আছি। বর্তমানে চারপাশের পরিবেশ খুবই থমথমে। আমাদের রাঙ্গামাটি জেলাও লকডাউন করা হয়েছে। তাই দরকারি কোন কাজ ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারছি না। তবে আমাদের আশেপাশে এখনো অনেক পরিবারের সদস্যদের দেখি দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড়ের জন্য প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বাইরে যাচ্ছে। এসব দেখে আমাদের আশেপাশের কিছু কর্মহীন পরিবারকে যতটুকু সম্ভব আর্থিক সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।

প্রথম দিকে ছুটি পেয়ে তারা সবাই অনেক উচ্ছ্বসিত থাকলেও বর্তমানে ক্যাম্পাস লাইফটা খুব মিস করছেন। সবারই আশা দ্রুতই পৃথিবী সুস্থ্য হবে এবং তারা ফিরতে পারবে তাদের প্রাণের ক্যাম্পাসে।

সবখবর/ আআ




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর