জাবিতে মানবেতর জীবন পাড় করছে আনসার সদস্যরা
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
জাবিতে মানবেতর জীবন পাড় করছে আনসার সদস্যরা




জাবিতে মানবেতর জীবন পাড় করছে আনসার সদস্যরা

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৯২ জন পড়েছে

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অবকাঠামো, স্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের গেইটগুলোতে নিরাপত্তা রক্ষায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি কয়েক যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে বাংলাদেশ আনসার বাহিনী ।

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের গুরুত্ব বিবেচনায় ১৯৯০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা বাজার এলাকায় (নির্মাণাধীন নতুন ছাত্র হলগুলোর পাশে) একটি স্থায়ী আনসার ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ক্যাম্পের  তিনটি মাঝারি আকৃতির কক্ষে গাদাগাদি করে থাকছেন জাবিতে পদায়নকৃত ৯২ জন আনসার সদস্য। ক্যাম্পটিতে অবস্থান ও ঘুমানোর পরিবেশ নিয়ে আপত্তি ও অসন্তোষ আছে জাবিতে কর্মরত আনসার সদস্যদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আনসার সদস্য এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই, আমরা সারা রাত নাইট ডিউটি করি। দিনে কখনোই আমাদের ডিউটি থাকে না। সারা রাত ডিউটি দিয়ে আইসা দিনেও ঘুমাবার পারি না। এখন গরম আসছে। এই সময়েও এক বিছানায় (সিঙ্গেল বেড) ২ কি ৩ জন কইরা ঘুমান লাগে। এমনে সুস্থ থাকা যায় না ভাই।’ এ সময় জাবিতে ডিউটি বাতিল করে অন্যত্র পদায়নের চেষ্টা করছেন বলেও জানান ওই আনসার সদস্য।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পের ৩ টি বড় কক্ষে স্টিল রডের সিঙ্গেল বেড সারি করে ফেলে গণবিছানা বানিয়ে নিজেদের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন আনসার সদস্যরা। গ্রীষ্মের শুরুতেই টিনের চালের ঘরগুলোতে ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া। পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা না থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করছেন অনেকে। কেউ শুয়ে ঘুমাচ্ছেন, কেউ গরম সহ্য করতে না পেরে ঘুম ঘুম চোখে বিছানায় বসে আছেন।

৯২ জন আনসার সদস্যের এই ক্যাম্পে নেই কোনো নামাজখানা। নেই কোনো ডাইনিং কক্ষ বা বসে খাওয়ার ব্যবস্থা। গোসলখানার সুব্যবস্থা নেই; স্যাঁতস্যাঁতে ও শৈবালে ভরা চৌবাচ্চা থেকে পানি নিয়ে গোসল সারতে হয় আনসার সদস্যদের।

ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়ে আনসার ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা প্লাটুন কমাণ্ডার মোঃ আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ‘আরেকটি রুম আমাদের খুব জরুরি দরকার। গরম পড়ে গেলে এভাবে গাদাগাদি করে থাকতে গেলে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীনের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সরেজমিন অনুসন্ধানে পাওয়া ক্যাম্পের পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আরও তিন বছর আগে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের তৎকালীন উপাচার্যকে জানিয়েছিলাম, আনসার ক্যাম্পটি মনুষ্য বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়ে কাজ না হওয়ায় আমরাই উদ্যোগ নিয়ে যথাসম্ভব গোসলখানার চৌবাচ্চা ও এর ঢাকনার সংস্কার করেছি। টানা শিডিউল ডিউটিতে সারা রাত দায়িত্ব পালন করে মানসিকভাবে বিপর্যপ্ত আনসার সদস্যদের অবসাদ দূর ও বিনোদনের জন্য ভলিবল ও ক্যারাম খেলার ব্যবস্থা করে দিয়েছি।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘নাইট ডিউটিতে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অনাগ্রহ ও কর্মচারী রাজনীতির নানা ফাঁদে পড়ে আনসার সদস্যদের দিনের পর দিন নাইট ডিউটি করে যেতে হচ্ছে। একটি মানুষকে এভাবে একটানা রাতে না ঘুমাতে বাধ্য করিয়ে আমরা আনসার সদস্যদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছি। একইসাথে, বিশ্ববিদ্যালয় ও এর স্টেকহোল্ডারদের নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও বেশি সংখ্যক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ অতীব প্রয়োজনীয়।’

এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাস সংলগ্ন গ্রাম গেরুয়ায় আনসারদের আবাসন করার ব্যাপারে ভাবছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও এ ব্যাপারে এখনও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি।

আআ




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর