ডিম একটি কমপ্লিট ফুড প্যাকেজ - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
ডিম একটি কমপ্লিট ফুড প্যাকেজ - সব খবর | Sob khobar




ডিম একটি কমপ্লিট ফুড প্যাকেজ

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫০ জন পড়েছে

ডাঃ মোঃ আমির হোসেন: ডিম খেতে বয়সের কোন বাধা নেই। জন্মের আগে থেকেই মায়ের শরীরে পুষ্টির চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে ডিমের কার্যকারিতা শুরু হয়। এরপর জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষের ডিমের পুষ্টি দরকার। শৈশব-কৈশোর-যৌবন এবং জীবনের বাকিটা সময় শরীরের জন্য মূল্যবান অত্যাবশ্যকীয় আমিষের চাহিদা পূরণে ডিমের কোনো তুলনা হয় না।

ডিমকে বলা হয় কমপ্লিট ফুড বা পরিপূর্ণ খাদ্য। কেউ কেউ একে বলা সুপার ফুডও বলে। ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ এমন একটি প্রাকৃতিক আদর্শ খাবার পৃথিবীতে খুব কমই আছে। সম্প্রতি জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডভান্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি গবেষকরা এমন একটি মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন যে, মুরগির ডিম ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম হবে।

প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন, সর্বোপরি ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে এ দিবসটি বিশ্ব জুড়ে একযোগে পালিত হয়ে আসছে। মানুষকে বেশি বেশি ডিম খাওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো সারা দেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব ডিম দিবস-২০২১। ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য– ‘প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই’। প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন–ডিমের খাদ্যমান ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা। একইসঙ্গে ভোক্তার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম অন্তর্ভুক্তি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রতি বছর ডিম দিবস পালিত হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছরই বাড়ছে ডিমের উৎপাদন। সুখের সংবাদ হলো বর্তমানে বাংলাদেশ ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ৫৭৪.২৪ কোটি। ২০১৯-২০ সালে সেটা বেড়ে ১৭৩৬ কোটিতে দাঁড়ায়। গত ১০ বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন প্রায় তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। জনপ্রতি বছরে ১০৪টি ডিম হারে বর্তমানে জনপ্রতি পাওয়া ১০৪.২৩টি।

বাংলাদেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও স্বাস্থ্যবান এবং মেধাবী জাতি গঠনের লক্ষ্যে ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো উচিৎ

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG)-২০৩০ বাস্তবায়নে জনপ্রতি ১৬৫টি ডিম বছরে খাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশর প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০২১-৪১) বাস্তবায়নে মাথাপিছু ২০৮টি ডিম বছরে ধরা হয়েছে। সে হিসাব অনুযায়ী ২০৩১ সাল নাগাদ বাংলাদেশে ডিমের বার্ষিক উৎপাদন হতে হবে প্রায় ৩২৯৩.৪ কোটি এবং ২০৪১ সাল নাগাদ ৪৬৪৮.৮ কোটি।

ডিমের পুষ্টিগুণঃ ডিমের রং ভেদে পুষ্টিগুণের কোন পার্থক্য হয় না। প্রতিটি ডিমে প্রায় ৫-৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম উন্নত ফ্যাটি এসিড, এনার্জি(শক্তি) ৭২-৭৭ কিলোক্যালরি, ১০৪-১৪০ মিলিগ্রাম কোলিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপকরণ থাকে। চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়াতে সাহায্যকারী উপাদান লিউটিন ও জেক্সানথিন থাকে, সাথে থাকে ডেনসিটি লিপোপ্রোটিন যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

সব বিবেচনায় বাংলাদেশে ডিমের চাহিদা পূরণে খামারিদের আরো বেশী মনোযোগি হতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকে খামারীদের সমস্যা সমাধানে এবং ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে পোল্ট্রি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। একটি সুখী সমৃদ্ধশালী ও স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে ডিমের কোন বিকল্প নেই।

লেখক : লেকচারার, পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগ, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর