দেশপ্রেমিক ডাঃ জাফরুল্লাহর চৌধুরীর গল্প | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
দেশপ্রেমিক ডাঃ জাফরুল্লাহর চৌধুরীর গল্প | সব খবর | Sob khobar




দেশপ্রেমিক ডাঃ জাফরুল্লাহর চৌধুরীর গল্প

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০
  • ৫৫ জন পড়েছে
দেশপ্রেমিক ডাঃ জাফরুল্লাহর চৌধুরীর গল্প
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

দেশ প্রেমিক ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী। বর্তমান সমাজে অনেকে যাকে ভালোভাবে চেনেন না। ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য অবদান সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা: দেলওয়ার হোসেন। নিচে পাঠকদের উদ্দেশ্যে সেটা তুলে ধরা হলো:

১৯৭১ সালে বিলেতে (বর্তমানে ইংল্যান্ড) চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চতর ডিগ্রী এফ আর সি এস সেকেন্ড পার্ট পরীক্ষা না দিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে, এমনকি বিলেতের (ইংল্যান্ড) হাইট পার্কে জনসম্মুখে নিজের পাকিস্তানি পাসপোর্ট ছিড়ে দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধের জন্য আবু সাঈদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে রসদ জোগাড় করে ভারতের আগরতলায় হাসপাতাল তৈরি করেছেন ও যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করেছেন এই সেই ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী। দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ চলার পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু নিজে দিয়েছেন সেই হাসপাতালের নাম গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের গরীব জনগোষ্ঠীর নিকট চিকিৎসা সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেওয়া। এ প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বহু সাব সেন্টার খোলা হয়েছে।

পরবর্তী সময় ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী দেশে ঔষধ নীতি প্রণয়ন করেছেন। তাঁর আসল উদ্দেশ্য হলো গরীব শোকার্ত মানুষ যাতে ঔষধ স্বল্প মূল্যে কিনে খেতে পারে। তার কিছুদিন পর অর্থ্যাৎ ১৯৮৯ সালে পুনরায় তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এনে স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ণ করেছিলেন যা এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী জীবনের একটি মুহূর্তও উনি বসে থাকেননি। সবর্দাই চিন্তা ছিল কিভাবে দেশের সাধারণ মানুষেকে সঠিক পথ দেখানো যায়। সেজন্য তিনি বিনা লাভে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং গনস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস এর পাশে ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে, অদ্যবধি তা শুরু করতে পারেননি। ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর তৈরি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল ধানমন্ডিতে ৫০০ টাকার ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা করেছেন। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর একটি যুগান্তকারী অধ্যায়।

গত কয়েক বছর যাবত উনি কিডনি রোগে ভুগছেন। এজন্য উনাকে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করতে হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্ববাসী করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে এবং তা নির্ণয়ের জন্য আমাদের দেশে কোন ব্যবস্থা নেই। ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী তখন হঠাৎ করে চিন্তা করেন আমাদের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের ন্যায় মানসম্মত ল্যাব আছে এবং বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য ডক্টরেট অধ্যাপক আছেন। তিনি তাদের সাথে পরামর্শ করেন।

ড. বিজন কুমার শীল নামক একজন ভেটেরিনারিয়ান বিজ্ঞানীকে তিনি দুই বৎসর পূর্বে নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং এই ড. বিজন কুমার শীল সার্স ভাইরাস কিট উদ্ভাবনে কাজ করেছেন, যেটা চীন ওনার নিকট থেকে কিনে নিয়েছেন। ড. বিজন কুমার শীল আরও তিন গবেষক নিয়ে করোনা ভাইরাস নির্ণয়ের জন্য কিট আবিষ্কারের কথা ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীকে জানান। ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী সেই অনুযায়ী জাতির ক্রান্তিলগ্নে প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মার্চ মাসে কিট আবিষ্কারের ঘোষনা দেন।

প্রথমদিকে সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি ছিল না। যখনই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গিয়েছেন তখনই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা উদ্ধার পেয়েছে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য স্বল্প ব্যয়ে ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে কিট প্রস্তুত করে, সেই কিট দিয়ে ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সবার পরীক্ষা করে করোনা পজিটিভ ফলাফল পেয়েছেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত এই কিটটি স্বীকৃতি পায়নি তাই সাধারণ মানুষ তার ফল ভোগ করতে পারছেন না। ডাঃ জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর মন্তব্য এটা ঔষধ নয় যে খেলেই কেউ মারা যাবে। এটি রোগ নির্ণয়ের জন্য একটি কিট মাত্র। যার মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে করোনা নির্ণয় করা সম্ভব।

সর্বোপরি আমরা আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টি দেখবেন এবং দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণেই কিটগুলো ব্যবহারে যথার্থ সার্থকতা লাভ করবে।

অধ্যাপক ডাঃ মোঃ দেলওয়ার হোসেন, উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত), গণ বিশ্ববিদ্যালয়, মিজানগর, সাভার, ঢাকা।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর