পাতা কোঁকড়ানো রোগে লোকসানে দুই শতাধিক মরিচ চাষী - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
পাতা কোঁকড়ানো রোগে লোকসানে দুই শতাধিক মরিচ চাষী - সব খবর | Sob khobar




পাতা কোঁকড়ানো রোগে লোকসানে দুই শতাধিক মরিচ চাষী

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৪৬০ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ : কাঁচা মরিচের পাতা কুঁকড়ানো রোগে লোকসানের মুখে পড়েছেন মানিকগঞ্জের দুই শতাধিক চাষী। সম্প্রতি এমন রোগে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মরিচ খেত। এতে করে এবছর মরিচের উৎপাদন খরচ উঠানোই দায় হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের মরিচ চাষীদের। কৃষকদের অভিযোগ, এমন দুর্দিনে পাশে নেই কৃষি কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের উকিয়ারা, গড়পাড়া ইউনিয়নের রানাদিয়া, গোসাইনগর, বিশ্বনাথপুর ও বাঙ্গলা, সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের সলাইগোবিন্দপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মরিচ খেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত মরিচ গাছের পাতা কুঁকড়ে মারা যাচ্ছে গাছ।

সদর উপজেলার গড়াপাড়া ইউনিয়নের রানাদিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া জানান, এবছর তিনি ২৫ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। গত ১৫ দিনে তার মরিচ খেত পাতা কুঁকড়ানো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। অগ্রাহায়ন মাসে রোপন করা এই মরিচ চৈত্র মাস পর্যন্ত তোলা যায়। মরিচের আবাদে তার খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। এপর্যন্ত তিনি ৪ হাজার টাকা মরিচ বিক্রি করেছেন। এই রোগে তার পুরো খেতের মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। গত বছর এই খেত থেকেই ৫০ হাজার টাকা মরিচ বিক্রি করেছিলেন তিনি। এবছর পুরো লোকসানের মধ্যে পড়েছেন তিনি।

বাঙ্গলা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম জানান, গত বছর ৩০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলাম। ভাল ফলন পাওয়ায় এবছর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আরো ২০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছি। কিন্তু এবার পুরো মাথায় হাত।

রানা দিয়া গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন জানান, এবার মরিচের আবাদ করে পুরোটাই লোকসান। পাতা কুঁকড়ানো রোগে ঔষধ দিয়েও কিছু করা যাচ্ছেনা।

সাটুরিয়ার তিল্লি ইউনিয়নের সলাইগোবিন্দপুর গ্রামের কৃষক রুবেল মিয়া জানান, আমাদের কৃষকদের মাঝে এখন চরম হতাশা কাজ করছে। আমাদের এমন দুর্দিনে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাইনি। তারা আমাদের কোন খোঁজও নেয়নি।

স্থানীয় কীটনাশক বিক্রেতা মো. ফরিদ হোসেন বলেন, প্রতিবছরই মরিচক্ষেতে পাকা কুঁকড়ানো রোগ দেখা দেয়। সেটা খুব সামান্য কিন্তু এবছর এর ব্যাপকতা অনেক বেশি। কিন্তু এবছর এর পরিমান প্রায় ৯০ শতাংশ। সানমেট্রিট, কুমুলাক্স, রিবলেল, ক্যাব্রিয়টন, ইমিটাপ ওষুধ দিয়েও এবার রোগ সারানো যাচ্ছেনা। এবার কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সরকার জানান, গড়পাড়া ইউনিয়নসহ পাশ^বর্তী আরো কয়েকটি ইউনিয়নের মরিচ খেত এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে দুই শতাধিক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহযোগিতার দাবী জানান তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী জানান, বর্তমানে ১০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করেছেন চাষীরা। এটি বীজ ও মাটি বাহিত ভাইরাস রোগ। আক্রান্ত গাছগুলিকে পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়ে অন্যত্র মাটিতে পুতে ফেলতে হয়। কিন্তু এবার এর ব্যাপকতা একটু বেশি।

তিনি আরো জানান, কৃষকরা তাদের পরামর্শ অনেক সময় নিতে চায়না। কৃষকদেরকে বলা হয়েছে একই জমিতে বারবার একই ফসল আবাদ না করার জন্য।

কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় মাঠ পর্যায়ে আমাদের জনবল পর্যাপ্ত নেই, তারপরও আমারা সাধ্যমত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে থাকি।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর