প্রতারক স্বামীর বন্দীদশা থেকে ফিরে এসে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন নারী আইনজীবী - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
প্রতারক স্বামীর বন্দীদশা থেকে ফিরে এসে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন নারী আইনজীবী - সব খবর | Sob khobar




প্রতারক স্বামীর বন্দীদশা থেকে ফিরে এসে নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন নারী আইনজীবী

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৫ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৫১৯ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ : টাকার জন্য প্রতিদিন আমাকে মারধর করতো। সমস্ত শরীর থেথলে দিয়েছে পাথরের আঘাতে। আমার বিবস্ত্র ছবি-ভিডিও রেকর্ডিং করে হুমকি দিত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার।

নির্যাতন সইতে না পেরে আত হত্যার কথাও চিন্তা করেছি। পালিয়ে আসতে পারবো তা ভাবতেও পারিনি। মানিকগঞ্জ বারের আইনজীবী কামরুন্নাহার সেতু এভাবেই স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন।

স্বামীর কবল থেকে পালিয়ে এসে সোমবার রাতে কামরুন্নাহার সেতু আশ্রয় নেন মানিকগঞ্জ সদর থানায়। সেতু জানান তার প্রথম স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। ছেলে বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনীর ছাত্র। কিছুদিন আগে পরিচয় হয় মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার শাওন সাথে। শাওন নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিত।

ঢাকায় অফিস এবং ফ্লাট থাকার কথাও বলতো। চলাফেরা করতো ব্যক্তিগত গাড়িতে। কথাবার্তা, আচার আচরণ দেখে ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। শাওন এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিছুটা দ্বিধা থাকলেও শাওনের চাপাচাপিতে সেতু রাজি হন। গত ৯ সেপ্টেম্বর কাজীর মাধ্যমে বিয়ে হয়। তবে শাওনের কথামত বিয়ের কথা পরিবারের কাছে গোপন রাখেন সেতু।

সেতু জানান গত ১৭ অক্টোবর হঠাৎকরে শাওন এসে জরুরী কথা আছে বলে কোর্ট থেকে ডেকে নেয় তাকে। ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠিয়ে সাভারের নবীনগর কহিনুর গেটের তুনু হাজীর ৬ তলা বাড়ির ৪ তলার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিবেশিদের কাছে সেতুকে স্ত্রী হিসাবে পরিচয় কারিয়ে দেয় শাওন। প্রথম দুদিন ভাল ব্যবহার করলেও তৃতীয় দিন থেকে নিজমূর্তি ধারণ করে শাওন। মারধরের ভয় দেখিয়ে মানিকগঞ্জ ডাকঘরে সেতুর কয়েকটি সঞ্চয় হিসেব থেকে তাকে টাকা উঠিয়ে দিতে বলে।

বাধ্য হয়ে তিন দফায় ১৪ লাখ টাকা শাওনের হাতে তুলে দেয় সেতু। কিন্তু আরও টাকা দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে শাওন। আর কোন টাকা না থাকার কথা বললে সেতুর নামের জমি লিখে দিতে বলে শাওন। রাজি না হওয়ায় শুরুহয় নির্যাতন। তার কাছ থেকে মোবাইর ফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়। বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়ি দেয়ার হুমকী দেয়। সারাদিন একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর করতে থাকে। সেতু জানান শিলপাটার পাথর দিয়ে তার মুখমন্ডলসহ সমস্ত শরীর থেতলে দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ গত ২ নভেম্বর রাতেও তাকে নির্যাতন শুরু করে শাওন। তার চিৎকারে পাশের ফ্লাটের লোকজন এসে তাকে রক্ষা করে। এক পর্যায়ে তারা সেতুকে নিজেদের ফ্লাটে নিয়ে যায় এবং আত্বীয় স্বজনকে ছাড়া তাকে দেয়া হবেনা বলে শাওনে জানিয়ে দেয়। বাড়িতে নিয়ে যাওয়া কথা বলে শাওন সেতুকে নিয়ে ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। তবে বাড়িতে না নিয়ে সেতুকে ঢাকার একটি হাসাপাতালে (ল্যাবএইড) নিয়ে উঠে শাওন। শাওনের অবস্থা দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়।

বিষয়টি বুঝতে পেরে শাওন সেখান থেকে সরে পড়ে। সেতু জানান হাসপাতাল থেকে তিনি তার পরিচিত ঢাকা বারের একজন আইনজীবীকে পরিস্থিতি জানিয়ে ফোন করেন। তিনি এসে তাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যান। পরে উত্তরায় পরিচিত একজনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। কিছুটা সুস্থ্য হওয়ারপর গতকাল সোমবার রাতে তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানায় এসে আশ্রয় নেন।

সেতু বলেন এখন বুঝতে পারছি শাওন আমার টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার জন্য পরিকল্পনা করে নেমেছিল। আমার টাকা পয়াস কোথায় আছে, কি পরিমান জমি আছে আমার পারিবারিক অবস্থা সব খবর সে সংগ্রহ করেছিল। সরল মনে তাকে বিশ্বাস করেছিলাম আমি।

এদিকে নিখোঁজ থাকায় সেতুর বাবা মোঃ সফিউদ্দিন গত ৩ নভেম্বর মেয়েকে অপহরনের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তিনি অভিযোগ করেন মোবাইলফোনে তারা ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে সেতুকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি তদন্ত) মো. হানিফ সরকার জানান সফিউদ্দিনের দায়ের করা মামলায় কামরুন্নাহার সেতুকে উদ্ধার দেখানো হয়েছে। মৌখিক বক্তব্য রেকর্ডের জন্য কামরুন্নাহর সেতু মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দী দেয়। এঘটনায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সময়ে কোন মামলা হয়নি।

অভিযুক্ত মো. শাওন মিয়ার দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

সবখবর/ আওয়াল




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর