প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের নারী ফুটবলাররা | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের নারী ফুটবলাররা | সব খবর | Sob khobar




প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের নারী ফুটবলাররা

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১
  • ৯০ জন পড়েছে

আশিকুর রহমান, টাঙ্গাইল: নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের নারী ফুটবলারা। তবে তাদের চলার পথ এখনও সহজ নয়। বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ বাঁধা সমাজ ও পরিবারের দুদিক থেকেই। তাই নারী সংগঠকরা বলছেন নারী-পুরুষের বৈষম্যগত মানসিকতা দূর না হলে নারী দিবসের সফলতা পাওয়া যাবে না।

বাল‌্য বি‌য়ে এড়া‌তে মাথার চুল কে‌টে ফেলা ফুটবলার মি‌লি তাদেরই একজন। প্রাথ‌মিক বিদ‌্যাল‌য়ে পড়াবস্থায় বঙ্গমাতা ফ‌জিলাতু‌ন্নেছা জেলা পর্যায়ে ফুটবল টুর্না‌মে‌ন্টে খেলার সু‌যোগ পায় মি‌লি (১৩)। সেই খেলায় ভাল পারফর্মেন্স ক‌রে সে। এ‌তে খেলার প্রতি আকৃষ্ট হয় তার। ত‌বে বাধা হ‌য়ে দাড়ায় তার প‌রিবার। ষষ্ঠ শ্রেনী‌তে পড়া অবস্থায় মি‌লি‌কে বি‌য়ে দি‌তে চায় তার প‌রিবার। এ‌তে বি‌য়ে এড়া‌তে কৌশ‌লে মাথার চুল কে‌টে ফে‌লে ফুটবল খেলায় ম‌নো‌নি‌বেশ ক‌রে। প‌রে ধী‌রে ধী‌রে মি‌লি ফুটবলে ভাল করে। ভর্তি হয় মোনালিসা ইউমেন্স স্পোর্টর্স একাডেমি‌তে। এখন মি‌লির প‌রিবার তা‌কে সহ‌যো‌গিতা কর‌ছে।

মি‌লির মত আ‌রো এক নারী ফুটবলার ঋতু (১৬)। তৃতীয় শ্রেনী‌তে পড়াবস্থায় ফুটব‌লের প্রতি নেশা তার। ঋতুর মা মারা যাওয়ায় তার নানীর কা‌ছে মানুষ। তার নানী অ‌ন্যের বা‌ড়ি‌তে কাজ ক‌রে যে রোজগার ক‌রেন সেই টাকা দি‌য়ে সংসার চা‌লি‌য়ে ঋতুর পড়াশুনার খরচ যোগা‌তেন। এবার এসএস‌সি‌তে পড়াশুনার পাশাপা‌শি খেলাধুলা চা‌লি‌য়ে যা‌চ্ছে। ঋতু বর্তমা‌নে বি‌কেএস‌পি‌ ক‌্যা‌ডেট ফুটবলার হিসাবে ভ‌র্তি হ‌য়ে‌ছে।

শুধু মি‌লি বা ঋতুই নয় টাঙ্গাই‌লে হাজারো জ‌য়িতা বৈ‌রীতা ও সামা‌জিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

মি‌লি ব‌লেন, স্বপ্ন এক সময় জাতীয় দ‌লে ফুটবল খেল‌বো। সেই স্বপ্ন থে‌কে খেলায় এত ম‌নো‌যোগ। ছোট অবস্থা‌তেই প‌রিবার থে‌কে বি‌য়ে দি‌তে চাওয়ায় মাথার চুল কাট‌তে বাধ‌্য হ‌য়ে‌ছিলাম। আ‌মি এখন বি‌কেএস‌পি‌তে চান্স পে‌য়ে‌ছি। প‌রিবারও এখন আমা‌কে সহায়তা কর‌ছে এবং বি‌য়ের জন‌্য আর চাপ দি‌চ্ছে না।

ঋতু ব‌লেন, ছোটকা‌লেই মা‌কে হা‌রি‌য়ে‌ছি। বাবাও অন‌্যত্র বি‌য়ে ক‌রে‌ছে। সেও অসুস্থ‌্য। প‌রে নানীর কা‌ছে থে‌কে মানুষ হ‌য়ে‌ছি। নানী অ‌ন্যের বাসায় কাজ ক‌রে আমা‌কে মানুষ ক‌রে‌ছে। আ‌মি এখন বি‌কেএস‌পি‌তে পড়াশুনা কর‌ছি। খেলাধুলায় ভাল ক‌রে দে‌শের জন‌্য গৌরব অর্জন কর‌তে চাই। তবে তাদের চলার পথ এখনো সহজ নয়। বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ বাধা পদে পদে।

প্রান্তিক এলাকায় পুরুষের সমানতালে ফুটবলার হতে চাওয়া মোটেই সহজ কথা নয়। তাই এই প্রত্যেকটি নারীর গল্প যেন- একেকটি জীবন যুদ্ধের কাব্য। ফুটবলার হবার নেশায় এদের কেউ ঠেকিয়েছেন বাল্যবিবাহ, কেউ হয়েছেন পরিবার বিতাড়িত। সামাজিক বঞ্চনার চিত্র যেন আরও ভয়াবহ।

ফুটবলার সে‌লিনা ব‌লেন, প্রতি‌বে‌শি অ‌নেক মানুষই আমার বাবা মা‌কে বল‌তো মে‌য়ে‌কে খেলাধুলা না করা জন‌্য। খেলাধুলা কর‌লে মে‌য়ের বি‌য়ে হ‌বে না। প‌রে এক পর্যা‌য়ে প‌রিবার থে‌কেও খেলাধুলা কর‌তে নি‌ষেধ করা হয়। এরপর অ‌নেক কষ্ট ক‌রে খেলাধুলা ধ‌রে রে‌খে‌ছিলাম। আবার যখন দুই বছর পর আ‌রো একটু বড় হলাম তখনও মানুষজন ভিন্নভা‌বে কটু কথা শোনা‌তো। এখন বড় হ‌য়ে গে‌ছি সবাই ব‌লে এখন খেলা ধুলা কর‌তে হ‌বে না হাফ প‌্যান্ট প‌রে খে‌লি এটা পছন্দ ক‌রে না অ‌নে‌কেই।

আ‌ম্বিয়া ব‌লেন, বাবা মারা গে‌ছেন অ‌নেক আ‌গেই। প‌রব‌র্তিতে কাকার কা‌ছে মানুষ হ‌য়ে‌ছি। বা‌ড়ি থে‌কে কোন সহ‌যো‌গিতা পাই‌নি। বা‌ড়ি থে‌কে বি‌য়ের জন‌্য চাপ দি‌য়ে‌ছে অ‌নেক। প‌রে কৌশ‌লে বা‌ড়ি থে‌কে চ‌লে আ‌সি। প‌রে ফুটবল ক্লা‌বের মেডা‌মের সহতায়তায় খেলাধুলা কর‌ছি। বা‌ড়ি‌তে সম্প্রতি ফোন ক‌রে খরচ চে‌য়ে‌ছিলাম দেয়‌নি। তারা ব‌লে‌ছে আমার জন‌্য খরচ চালা‌নো না‌কি হারাম। সবার অমতে খেলাধুলা করায় প‌রিবার থে‌কে কোন সহায়তা পায় না। বা‌ড়ি‌তে গে‌লেই তারা আমা‌কে জোর ক‌রে বি‌য়ে দি‌য়ে দি‌বে। আ‌মি খেলাধুলা কর‌তে চাই।

জেলার নারী সংগঠকরা বলছেন, নারী-পুরুষের বৈষম্যগত মানসিকতা দূর না হলে নারী দিবসের সফলতা পাওয়া যাবে না। বর্তমান প্রান্তিক সমাজে পুরুষের সমানতালে ফুটবলার হতে চাওয়া মোটেই সহজ কথা নয়। তাই একদিন বৈষম্যময় মানসিকতা দূর হবে। পুরুষের সমানতালে বাধাহীন এগিয়ে যাবে সকল নারী।

অ‌ভিভাবকরা ব‌লেন, মে‌য়ে‌দের খেলাধুলা কর‌তে দেয়ায় সামা‌জিকভা‌বে অ‌নেক কটু কথা শুন‌তে হয়। অ‌নে‌কেই ব‌লে মে‌য়ে‌দের কেন খেলাধুলা কর‌তে হ‌বে কেন? তারপরও অনেক প‌রিবার এগিয়ে আসছে। যা‌তে পড়াশুনার পাশাপা‌শি খেলাধুলাও ভাল কর‌তে পা‌রে।

টাঙ্গাই‌লের মোনালিসা ইউমেন্স স্পোর্টস একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা কামরুন্নাহার খান মু‌ন্নি ব‌লেন‌, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার দূর না হলে নারীর চলার পথ সহজ হবে না। সামা‌জিকভা‌বে তা‌দের সহ‌যো‌গিতা কর‌তে হ‌বে। অর্থবিত্ত বা স্ট‌্যাটাস না দে‌খে অসহায় ও দ‌রিদ্র এসব কি‌শোরী‌দের সহায়তায় সক‌লের এ‌গি‌য়ে আসা উ‌চিত। এ‌তে সরকার স‌চেতনতাবৃ‌দ্ধির পাশাপা‌শি আ‌র্থিকভা‌বে তা‌দের সহায়তা করার আহ্বান জানা‌চ্ছি।

সবখবর/ নিউজ ডেস্ক




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর