প্রতিবন্ধী বলে কটাক্ষ করায় সরকারী স্কুলে ভর্তি হলো না লিতুন - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
প্রতিবন্ধী বলে কটাক্ষ করায় সরকারী স্কুলে ভর্তি হলো না লিতুন - সব খবর | Sob khobar




প্রতিবন্ধী বলে কটাক্ষ করায় সরকারী স্কুলে ভর্তি হলো না লিতুন

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩৪১ জন পড়েছে

যশোর: ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা প্রতিবন্ধী লিতুন জিরার সামনেই তার মায়ের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন যশোরের মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী। প্রধান শিক্ষকের আচরণে কষ্ট পেয়ে ভর্তিযুদ্ধে মেধা তালিকায় স্থান করেও ভর্তি হয়নি লিতুন জিরা।

বস্তাভর্তি ধান নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পারলে মেয়েকে নিয়ে উপরে উঠতে পারবে না কেন? আর এমন পঙ্গু মানুষকে নিয়ে কীভাবে স্কুলে আনানেয়া করবেন? এসব কথা বলেই লিতুনের মা বাবাকে।

লিতুনের মা জাহানারা বেগম জানান, ২৩ ডিসেম্বর মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মেয়েকে নিয়ে উপরে উঠতে কষ্ট হবে বিধায় প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী স্যারকে নিচ তলার একটি কক্ষে লিতুন জিরার পরীক্ষা নেয়ার অনুরোধ জানাতেই প্রধান শিক্ষক তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন। এক পর্যায়ে লিতুন জিরা ও তার বাবার সামনে তাকে প্রধান শিক্ষক এসব বলেন। শিক্ষক আরও বলেন, আপনার পঙ্গু মেয়ের জন্য তো আলাদা ব্যবস্থা করতে পারব না। অন্যখানে ভর্তি করান। প্রধান শিক্ষকের এহেন আচরণে অঝোরে কাঁদেন লিতুন জিরা ও তার বাবা-মা। হতবাক হয়ে যান তারা।

মুখে ভর দিয়ে লিখে পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী অদম্য মেধাবী লিতুন জিরা মনিরামপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখে। সে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান করে নেয়। প্রধান শিক্ষকের আচরণে কষ্ট পেয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও কোনোভাবেই মেয়ে এখানে ভর্তি হতে রাজি হয়নি। মেয়েকে সরকারি স্কুলে পড়ানোর জন্য কাছাকাছি বাসা খুঁজছিলেন তারা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের মেধা যাচাইয়ের ইচ্ছা ছিল লিতুন জিরারও।

লিতুন জিরা জানায়, প্রধান শিক্ষক স্যার যদি এমন আচরণ করেন তাহলে তার সহপাঠীরা তাকে কীভাবে দেখবে। তার ধারণা ছিল প্রধান শিক্ষক হবে সহানুভূতিশীল। কিন্তু স্যারের কাছ থেকে উল্টো আচরণে সে ভর্তির ইচ্ছা বাদ দেয়। বাবা হাবিবুর রহমান জানান, শুধু প্রধান শিক্ষকের খারাপ আচরণে লিতুন জিরাকে ভর্তি করতে কোনোভাবেই রাজি করাতে পারেনি। প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেন ভর্তি হল না বুঝতে পারছি না।

জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মুনা আফ্রিন জানান, প্রধান শিক্ষকের এমন খারাপ আচরণের কথা লিতুন জিরার বাবা-মা তাকেও জানিয়েছেন। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

শিক্ষানীতি-২০১০ এ বলা হয়েছে, প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো শিশুকে শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রাখা যাবে না। শিক্ষানীতি অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর সম-সুযোগভিত্তিক শিক্ষা অধিকার ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার শেখ পাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে লিতুন জিরা হাত-পা ছাড়াই জন্ম নেয়।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর