প্রবল স্রোতে বিপর্যস্ত পাটুরিয়া ফেরি ঘাট | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
প্রবল স্রোতে বিপর্যস্ত পাটুরিয়া ফেরি ঘাট | সব খবর | Sob khobar




প্রবল স্রোতে বিপর্যস্ত পাটুরিয়া ফেরি ঘাট

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২০
  • ১১২ জন পড়েছে

শহিদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ: নদীতে প্রবল স্রোত ও বাতাসে সৃষ্ট ঢেঁউয়ে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্পর্শকাতর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটের ফেরি সার্ভিস। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘাট এলাকায় জমা হচ্ছে পারের জন্য আসা বিভিন্ন যানবাহন। মাওয়া রুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া রুটে যানবাহনের চাপ অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস-কোচ, মাইক্রো, প্রাইভেটকারসহ জরুরী পরিবহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরি পার হলেও আটকে যাচ্ছে পণ্যবাহী যানবাহন। এ পরিস্থিতিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আটকে পড়া পণ্যবাহী যানবাহন মালিক-শ্রমিকদের। কখন শেষ হবে এ দুর্ভোগ তাও বলতে পারছেন না ঘাট সংশ্লিষ্টরা।

রোববার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটে ট্রাক বুকিং কাউন্টারের সামনে কথা হয় পারের অপেক্ষায় প্রহরগুনা বেশ কয়েক পরিবহন শ্রমিকের সাথে, ভারাক্রান্ত মনে তারা বলেন- গাড়ী নিয়ে ঘাটে ডুকতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে একদিন, ফেরি টারমিনালে ৩দিন সব মিলিয়ে ৪ দিন অপেক্ষা করছি ফেরি পারের জন্য। তবুও মিলছেনা ফেরি পারের বুকিং টিকিট।

ট্রাক চালক শেখ মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে এ ঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। পথিমধ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলী স্কেলের কাছে ও উথলী মোড়ে রাত-দিন পুলিশ গাড়ি আটকিয়ে রাখার ২দিন পর পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালে পৌঁছাই। ট্রাক টার্মিনালে তিন দিন ধরে ফেরি পারের অপেক্ষা করছে। রাস্তায় দু’দিন এবং ঘাটে আসার পর ৩দিন অতিবাহিত হলে রবিবার দুপুরেও ফেরির নাগাল পাইনি। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ১৯ হাজার টাকার ভাড়া পাচ্ছি মাত্র ১২ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘাটে ৪/৫ দিন বসে থাকলে খাওয়া খরচ বাদ দিয়ে মালিককে কি দিব ? আর আমরাই বা কি নিব !

অপর ট্রাক চালক হাফেজ আলী বলেন, চার দিন ধরে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালে ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষা করে বৃষ্টিতে ভিচ্ছি আর রোদে পুরছি- জীবনটা শেষ। আমার আগে আসা গাড়ী গুলো এখনও পার হতে পারিনি। জানি না কবে কখন টিকিট মিলবে।

পারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাক চালক মোছলেম উদ্দিন বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে পাটুরিয়া টার্মিনালে প্রবেশ করি। রবিবার দুপুরেও ফেরির নাগাল পাইনি। আমার পড়ে এসেও অনেকেই টিকিট নিয়ে ফেরি পার হয়েছে। ঘাটে বসে থেকে খাওয়ার টাকাও শেষ হয়ে গেছে। মালিক-মহাজনের কাছে ফোন দিলে তারা ফোন ধরে না।

দিলিপ, কালাম, হাসেম, নজরুল, সামাদ, কাঞ্চন, ইব্রাহিম নামে কয়েক চালক অভিযোগের সুরে সাংবাদিকদের বলেন, ফোনে-ফোনে গাড়ি পার হচ্ছে। আর আমরা সিরিয়াল নিয়ে টার্মিনালে দিনের পর দিন বসে আছি। ডানে-বামে অনেক গাড়িই ইর্মাজেন্সি দেখিয়ে বুকিং টিকিট পাচ্ছে। দয়া করে সে দিকে একটু নজর দেন। আপনারা চাইলে সহজেই আমাদের পারের ব্যবস্থা করতে পারেন।

ট্রাক বুকিং কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা জনৈক কর্মকর্তা জানান, গত ৩ দিনে প্রায় ২২শ’ ট্রাক বুকি হয়েছে। এর মধ্যে শনিবার ৪৩৩, শুক্রবার ২৯৫ ও বৃহস্পতিবার ৬৭১ টি পন্যবাহী ট্রাক সিরিয়াল মোতাবেক পার হয়েছে। ঘাটে ফেরি স্বল্পতা ও যাত্রীবাহী পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় পন্যবাহী পরিবহন পারাপারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে, ঘাট এলাকা যানজট মুক্ত রাখতে প্রশাসন ঘাটমুখী পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলী ও উথলী মোড় থেকে আরিচা ঘাটের দিকে মহাসড়কের উপর সাড়ি বদ্ধভাবে আটকে রাখছেন। রবিবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উথলী মোড় থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পণ্যবাহী ট্রাকের সাড়ি দেখা গেছে। মহাসড়কের ফাঁকা জায়গায় আটকে থাকা পণ্যবাহী ট্রাক শ্রমিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এরা খাবার সংকট ও খোলা জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সারা দেওয়াসহ নানা ধরনের অসুবিধায় ভুগছেন বলেও জানান।

শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে থাকা শ্রমিকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ ও আনসার মোতায়েন রয়েছে। সিরিয়ালের বাইরে ফেরিতে যানবাহন পারের কোন রকম সুযোগ নেই। সকল ধরনের গাড়িই সিরিয়াল মোতাবেক পার করা হচ্ছে। তবে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার মাইক্রোবাস, এ্যাম্বুল্যান্সসহ পঁচনশীল জরুরী পণ্যবাহী পরিবহন অগ্রাধিকারের ভিত্তিত্বে পার করা হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, মাওয়ায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ, যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি, ফেরি সংকট ও নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি সার্ভিসের এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ৬ টি রো-রো এবং ৭টি ইউটিলিটি ফেরি যোগে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। ঈদুল আযহার বাড়তি চাপ মোকাবেলায় ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে। এরি মধ্যে আরো দু’টি রো-রো ফেরি বহরে যোগ হতে পারে বলে তিনি আরো জানান।

সবখবর/ নিউজ ডেস্ক




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর