প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | সব খবর | Sob khobar




প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫৪ জন পড়েছে
প্রাথমিক শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

“তথ্য যেখানে অপর্যাপ্ত, যোগাযোগ যেখানে সীমিত, প্রযুক্তির ব্যবহারে যেখানে অনীহা, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন সেখানে দুরুহ”। একটা সময় ছিল যখন বলা হতো “যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি ততো বেশি উন্নত”। কালের বিবর্তে, সময়ের আবর্তে সেই ধারনা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। যেহেতু বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ, তাই যে জাতি যত বেশি তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নত সে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থা ততো বেশি মানসম্মত এবং তাদের উন্নয়নও ততো বেশি টেকসই। বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য “ Knowledge is power” এর পরিবর্তে বর্তমানে বলা হচ্ছে  ”Information is power”.  যদিও Knowledge অর্থ্যাৎ জ্ঞান এবং Information অর্থ তথ্য এর মধ্যে তাত্ত্বিক তেমন কোন পার্থক্য নেই।

১৯৯৬ সালে বিজয়ী হয়ে বর্তমান সরকার প্রথম “ডিজিটাল বাংলাদেশ” গড়ার অঙ্গীকার করে। ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় এসে সকল সরকারী দপ্তরে ওয়েব পোর্টাল চালুসহ ডিজিটাল সেবা চালু করে। পাসপোর্টের আবেদন, অনলাইনে চাকুরীর আবেদন, শিক্ষার্থী ভর্তি, ফলাফল প্রদান, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ব্যাংকে অনলাইন লেনদেন, পেনশন, বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিট, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিলসহ বহুবিধ কাজ বর্তমানে ঘরে বসেই করা যাচ্ছে।

শিক্ষাখাতও এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। অ২র প্রোগ্রামের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দ্যোগে ২০১০ সাল থেকে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহারের মাধ্যমে গতানুগতিক শিক্ষাদান পদ্ধতির পরিবর্তে শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পাঠদান করা হচ্ছে। ডিজিটাল কন্টেন্ট হচ্ছে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত বিষয়ের শব্দ ও ছবিতে তৈরি অডিও ভিজ্যুয়াল উপকরণ। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু ভালোভাবে আয়ত্ব করার পাশাপাশি মুখস্ত করার প্রবণতাও কমে এসছে। একদিকে যেমন তাদের একঘেয়েমি দূর হয়েছে, অন্যদিকে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য প্রযুক্তিগত শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাকে বাস্তব জীবনমূখী করার প্রয়াস অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বার্ষিক শুমারী প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরিতে সরকার এখন পর্যন্ত ৬৫৫৯৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫৪ হাজার বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর এবং সাউন্ড সিস্টেম বিতরন করেছে। পাশাপাশি না পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর জন্যও ল্যাপটপ কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এগুলোর ব্যবহার, ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি, ইন্টারনেট ব্রাউজিংসহ বিবিধ কাজে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য দেশের ৬৬টি প্রাইমারী টিচার্স ট্রেইনিং ইনিস্টিটিউটে (পিটিআই) আধুনিক ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬৫ হাজারের বেশি শিক্ষককে ১২ দিন ব্যাপি আইসিটি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের আলোকে বিদ্যালয় পর্যায়ে কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ৩ হাজার ৭০০ ট্যাব বিতরন করা হয়েছে।

বর্তমান করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক লেখাপড়া বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। যদিও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতে তড়ড়স অঢ়ঢ়, মেসেঞ্জার, হোয়াটস আ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিভিন্ন উপজেলায় অনলাইন স্কুল এর মাধ্যমে পাঠদান করে শিক্ষার্থীদের ঘরে বসে শেখার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরীক্ষাও গ্রহণ করছে এবং মূল্যায়ন করে ফিডব্যাক দিচ্ছে।। বিদ্যালয় পর্যায়ে উপবৃত্তি কার্যক্রম, ই-প্রাইমারী তথ্য হালনাগাদ, APSC তথ্য এন্ট্রি, E-Monitoring তথ্য এন্ট্রি, সংসদ টিভি তথ্য, বইয়ের চাহিদা-বিতরন এন্ট্রি, শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় করতে হচ্ছে।

এতকিছুর পরও কিছু কিছু সীমাবন্ধতার জন্য কাক্সিক্ষত মান অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর অন্যতম কারন হলো শিখণ শেখানোর দায়িত্বরতদের পর্যাপ্ত ICT জ্ঞানের অভাব। এ অবস্থা হতে উত্তোরণে কিছু করণীয়:

১। শিক্ষকগণের ICT দক্ষতা বৃদ্ধিও প্রধান উপায় হলো নিয়োমিত অনুশীলন, অনুশীলন এবং অনুশীলন।
২। যে সকল শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন তারা তাদের বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের এ বিষয়ে আগ্রহী করে চর্চার মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করনে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেন।
৩। প্রশিক্ষণ পেলে কাজ করব, প্রশিক্ষণ বিহীন শিক্ষকদের এই মানসিকতা ত্যাগ করে শিখনে আগ্রহী হতে হবে।
৪। প্রধান শিক্ষক সাপ্তাহিক নিদিষ্ট সময় বা সুবিধাজনক সময়ে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে পারেন।
৫। শিক্ষা অফিস বা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের আয়োজনে মাঝে মধ্যে ICT রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ করা যেতে পারে।
৬। প্রাথমিক স্তরের কোন নির্দিষ্ট শ্রেণি হতে ICT শিক্ষা কারিকুলামে ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে।
৭। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকের মতো ICT শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে।
৮। উপজেলা, ক্লাস্টার বা ইউনিয়ন ভিত্তিক ল্যাব স্থাপন করা যেতে পারে।
৯। প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারীভাবে উচ্চগতির Wi-Fi সংযোগ থাকলে Youtube ব্যবহার করে শিক্ষামুলক ভিডিও দেখানোসহ উপজেলার ICT পারদর্শী শিক্ষকদের দিয়ে ভার্চুয়াল পাঠদানের মাধ্যমে ICT শিক্ষা দেওয়া সহজ হবে।

সর্বপরি ICT জ্ঞান অর্জন এবং এর ব্যবহারে সকলের আন্তরিকতা থাকতে হবে। অ্যানন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করতে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদেরও যেমন কোন ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়না। শুধুমাত্র ইচ্ছা এবং চর্চার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ঐ দক্ষতা অর্জিত হয়। তেমনি প্রাথমিক শিক্ষায়ও ব্যক্তি প্রচেষ্টায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অনেকাংশেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

লেখক: উজ্জল কুমার বিশ্বাস, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মধুখালী, ফরিদপুর




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর