বাড়তি দামে সার বিক্রি, টেনশনে কৃষক - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
বাড়তি দামে সার বিক্রি, টেনশনে কৃষক - সব খবর | Sob khobar




বাড়তি দামে সার বিক্রি, টেনশনে কৃষক

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১ নভেম্বর, ২০২১
  • ৫৬ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জের কৃষি নির্ভর শিবালয় উপজেলায় কৃষকদের সাথে সার নিয়ে চলছে প্রতারনা। সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে টিএসপি সারের দাম হাকানো হচ্ছে বস্তা প্রতি ৩শ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত বেশী। পাশাপাশি ইউরিয়া,পটাশ ও ডিএপি সার বেচা কেনাতেও নেয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। বেশী দামে সার ক্রয় করতে না পেরে অনেক কৃষক এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন ডিলারসহ খুরচা সারের দোকানে। আবার অনেকে নিরুপায় হয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে সার নিচ্ছেন। কৃষকদের অভিযোগ বাড়তি টাকায় সার পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এমন চিত্র দেখা গেলো ঐহিত্যবাহী শিবালয় উপজেলার বরংগাইল হাটে ।

সরজমিন সোমবার দুপুরে বংরগাইল হাটে গিয়ে দেখা গেলো, সার নিয়ে কিভাবে কৃষকের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। এই হাটের তিনজন সারের ডিলার প্রকাশ্যেই কৃষকদের কাছ থেকে বেশী টাকা নিয়ে সার বেচা কেনা করছে। এই রমরমা বিকিকিনির এই হাটের তেমনি এক সাব ডিলার মেসার্স নিজাম বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. নিজাম উদ্দিন। সব সময়ই কৃষকের ভীর পড়ে থাকে তার দোকানে। মাঝে মধ্যে সাথে কৃষকদের সাথে সার বেচা কেনার দর দাম নিয়ে চলে বাক বিতন্ডা। মো. নিজাম উদ্দিন মহাবেদপুর ইউনিয়নের সাব ডিলার। সার বেচা কেনায় অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করতে সোমবার বেলা ১১টায় সাংবাদিকরা তার দোকানের সামনে যাওয়ার সাথে এগিয়ে আসেন সার নিতে আসা বেশ কয়েকজন কৃষক। সবার মুখে অভিযোগের একই সুর সারের বাড়তি দাম নিয়ে। অনেকেই বাড়তি টাকা দিয়ে সার নিলেও আবার দামে বনিবনা না হওয়ায় অনেক কৃষককে চলে যেতে দেখো গেলো ।

তবে বেশি দামে সার বেচা কেনার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন সাব ডিলার মো. নিজাম উদ্দিন নিজেই। ইউরিয়া,পটাশ ও ডিএপি সার প্রতি বস্তা সরকার নির্ধারিত দাম থেকে অল্প কিছু টাকা বেশী বিক্রি করলেও মুলত টিএসপি সার বিক্রিতে চালাচেছন বড় ধরনের প্রতারনা। বস্তা প্রতি টিএসপি সার ৩শ থেকে ৪শ টাকা বেশি নিচ্ছেন। যেখানে সরকার ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা টিএসপি সার নির্ধারন করে দিয়েছে ১১শ টাকায়। বেশি দামে সার বেচা কেনার ফলে কৃষকদের কাছে বিক্রিত সারের লিখিত কোন রিসিটও দেয়া হচ্ছে না।

এই বরংগাইল হাটে সরকারের তালিকাভুক্ত তিনটি সারের দোকানে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বাজার মনিটর্নিংয়ে দেখা যায়নি কোন কৃষি অফিসারকে। এ নিয়েও কৃষকদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

কথা হয় মো. নিজাম উদ্দিনের দোকানে সার নিতে আসা কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে। শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের লক্ষীপুরা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, দুই বস্তা টিএসপি সার নিয়েছি ২৭শ টাকা দিয়ে। এক বস্তার দাম পড়েছে সাড়ে ১৩শ টাকা। অথচ সরকারী রেট প্রতি বস্তা ১১শ টাকা। দুই বস্তা সারে আমার কাছ থেকে ৫শ টাকা বেশী নিয়েছে। আমারা যেখানে ফসল উৎপাদন করে মানুষের খাদ্যর চাহিদা মেটাই সেখানে আমাদের সাথে সার নিয়ে এমন প্রতারনা মেনে নিতে কষ্ট হয়। একই গ্রামের কৃষক মো. আলমাছ মিয়া বলেন, জমি থেকে পানি নেমে গেছে,এখন ফসল আবাদ করতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ১১শ টাকা বস্তার টিএসপি নিলাম ১৩৫০ টাকায় আর ৭৫০ টাকা বস্তার পটাশ নিলাম ৯০০ টাকা দিয়ে । সব মিলে ১০ বস্তা সার নিয়েছি। ইচ্ছে মতো এভাবে সারের দাম বাড়ানো হলে কৃষক কোথায় যাবে।

উপজেলার ডাকিজোড়া তাড়াইল গ্রামের কৃষক মো. লিটন মিয়া বলেন, পিয়াজ ও রশুন আবাদের জন্য আমার ক্ষেতে প্রস্তত করা হয়েছে। এখন জমিতে সার দিতে হবে, তাই এক বস্তা টিএসপি ১৩৫০ টাকায় নিয়ে গেলাম। দাম বেশী না দিলে সার পাওয়া যায় না। কি আর করার ফসলতো বুনতে হবে।

ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের কৃষক রজ্জব আলী বলেন, নিজ গ্রাম পুখুরিয়া বাজারে সারের দোকানে টিএসপি সার কিনতে গেলে বস্তা প্রতি ১৪শ টাকা চেয়েছে। তাই বরংগাইল হাটের নিজাম বীজ ভান্ডারে দাম যাচাই করতে এলে এখানেও একই দামে সার বেচা কেনা হচ্ছে। অনেক জায়গায় ঘুরেছি সব খানেই বস্তা প্রতি টিএসপি সার ৩শ থেকে ৪শ টাকা বেশী চাচ্ছে । আমার মোট ২০ বস্তা সার প্রয়োজন । এক বস্তা সারে যদি ৩-৪শ টাকা বেশি লাগে তাহলে ২০ বস্তায় আমার কত টাকা লাগবে আপনারাই বলুন? এই অনিয়ম আসলে কৃষকদের সাথে অন্যায় করা ছাড়া আর কিছুই না।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের কাছিধারা গ্রামের কৃষক জামাল খান বলেন, দুই বস্তা পটাশ সারের জন্য বরংগাইল হাটের সাব ডিলার নিজামের দোকানে গেলে সংকট দেখিয়ে আমাকে সার দেয়নি। আসলে সাংবাদিকদের সামনে দাম বেশী চাইতে না পারায় আমাকে সে বলেছে পটাশ সার নেই। দামে বনিবনা না হলে আমার মতো অনেক কৃষককেই সার না দিয়ে সংকট দেখিয়ে দোকান থেকে চলে যেতে বলে। আমাদের মতো দরিদ্র অসংখ্য কৃষক সার নিতে এসে প্রতিদিনই প্রতারনার শিকার হলেও দেখার কেউ নেই ।

দেখা গেলো,সাংবাদিকরা যখন বরাংগাইল হাটে সারের দাম নিয়ে ডিলার এবং সাব ডিলারের সাথে কথা বলতে চায় তখন শুরু হয় নানা তালবাহানা। সাব ডিলার নিজাম উদ্দিন সাংবাদিক দেখা মাত্র কিছুটা বিচলিত হয়ে উঠেন। এসময় তিনি সারের দাম বেশী নেয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেন। পাশাপাশি কৃষকদের সাফ সাফ জানিয়ে দেন কৃষি কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া এখন থেকে এক কেজি সারও বিক্রি হবে না। এ কথা শোনার পরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন উপস্থিত কৃষকেরা। ওই সাব ডিলারের নিজের মনগড়া ও বানানো নিয়মের কোন ভিত্তি নেই এবং এমন নির্দেশনা আমার কাছে নেই বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মানবজমিনকে জানিয়েছেন।

সার বেচা কেনায় অনিয়ন নিয়ে সাব ডিলার নিজাম উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, টিএসপি সার সংকট হওয়ায় সেই সার বাড়তি টাকা দিয়ে কিনে এনেছি। তাই বাধ্য হয়ে দাম বেশি নিতে হচ্ছে। এক বস্তা টিএসপি সার বিক্রি করছি ১৩৫০ টাকা।

সরকারী রেট ১১শ টাকা,আপনি কেনো বেশী নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন করা হলে নিজাম উদ্দিন বলেন,ডিও’র মালামাল না থাকায় আমরা নারায়নগঞ্জ থেকে অন্য উপায়ে বেশী টাকা দিয়ে টিএসপি সার আনার কারনেই দাম বেশি নিতে হচ্ছে। দাম বেশী নেয়া হলেও সেটা কৃষকের কাছে বলে চেয়েই নেয়া হচ্ছে। এই কথার কিছুক্ষণ পরেই সুর পাল্টে ফেলে নিজাম উদ্দিন। কৃষকদের উদ্দেশ্যে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের সামনেই বলে উঠেন,সরকার যে দামে সার বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছেন সে দামেই বিক্রি করবো তবে এখন থেকে কৃষি কার্ড,ভোটার আইড কার্ড ছাড়া এবং মহাদেবপুর ইউনিয়নের বাইরের কারো কাছে এক কেজিও সার বিক্রিয় করবো না।

শিবালয় উপ-সহকারী কৃষি অফিসার (বরংগাইল ব্লক) মো. সাজ্জাত হোসেন জানান,সারের দাম বেশী নেয়া হচ্ছে কিনা এ নিয়ে প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করা হয়। তবে সোমবার প্রশিক্ষণ থাকায় বরংগাইলে যেতে পারিনি। লাল শালুর কাপড়ে লেখা সারের দামের তালিকা প্রতিটি ডিলার ও সাব ডিলারের দোকানে টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। আমি নিজে কৃষককে বলেছি সঠিক দাম দিয়ে সার ক্রয় করতে। আমরা থাকা কালিন সময়ে দাম বেশি নেয়ার কোন সুযোগ নেই।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.রিয়াজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, সারের দাম নিয়ে এর আগে কয়েকজন কৃষক আমাকে অবগত করেছিলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি সেই সাব ডিলারদের সতর্ক করে দিয়েছিলাম। এখন যদি কোন ডিলারের বিরুদ্ধে সারের দাম নিয়ে কোন অনিয়মের অভিযোগ পাই সেক্ষেত্রে আমি কঠোর ব্যবস্থা নেবো। আর আমার লোকজন যখন বাজার মনিটনিংয়ে যায় তখন সঠিক দামেই সার বিক্রি করে। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট চালানো হবে।

তিনি আরো বলেন, এই সপ্তাহ থেকে আমার প্রধান টার্গেট কৃষকদের মাঝে পর্যাপ্ত সার থাকা এবং সারের দাম ইনসিয়ন করা। সার সংকট আছে কিনা সে বিষয়ে তিনি বলেন,প্রত্যেক ডিলার ও সাব ডিলারের কাছে আমাদের অফিসার পাঠিয়েছিলাম। তথ্য অনুযায়ী ডিলার ও সাব ডিলারের কাছে যথেষ্ট পরিমান সার রয়েছে। কেউ যদি সংকটের কথা বলে সেক্ষেত্রে কাগজ পত্র ঘাটলেই বেরিয়ে আসবে সংকট আছে কিনা। আর যদি কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃষি কার্ড দিয়ে সার নেয়ার কোন বিধান আছে কিনা সে সম্পর্কে কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান বলেন, এ নিয়ম ত্ববধায়ক সরকারের সময় ছিল। সেটা এখন এ্যাকটিভ নেই। তাছাড়া এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোন নির্দেশনা নেই যে, সার পেতে কৃষিকার্ড লাগবে।

আ/লি




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর