বিদায় নিয়েছে শীত, আজ পহেলা ফাল্গুন বিদায় নিয়েছে শীত, আজ পহেলা ফাল্গুন – সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :




বিদায় নিয়েছে শীত, আজ পহেলা ফাল্গুন

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ২৪ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ : বিদায় নিয়েছে শীত! সহাস্যে উঁকি দিয়েছে ঋতুরাজ বসন্ত। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘ফুল ফুটুক আর না ফুটুক/আজ বসন্ত।’ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন পহেলা ফাল্গুন আজ।

ইতোমধ্যে পলাশ-শিমুলেরা পাপড়ি মেলে ধরেছে আর গাছে গাছে আম্র-মুকুলের মনকাড়া গন্ধে বসন্তের রং লেগেছে বেশ আগেই। ফুলের সৌন্দর্য্যে চারিপাশে যেন সুখকর উৎসবের রোমাঞ্চ বয়ে যায়। বসন্ত বাতাসের ছোঁয়ায় নেচে ওঠছে প্রকৃতি, উৎফুল্ল হয়ে ওঠছে মানুষের মন। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানেই নতুন সাজে প্রকৃতি মুখরিত হওয়ার দিন। ফুল ফোটার পুলকিত সময়। শীতের জরাগ্রস্থতা কাটিয়ে নতুন পাতায় ঋদ্ধ হয়ে উঠবে রুক্ষ প্রকৃতি।ফাগুনের ঝিরঝিরে বাতাস আর কোকিলের মিষ্টি কলতানে উন্মাতাল হবে প্রকৃতি। ফুলেল বসন্ত যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনে। আনন্দ আর উচ্ছ্বাস মুখরতায় মন-প্রাণ ভরিয়ে তোলে।

পুরনো বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুয়ায়ী বসন্তের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা ফাল্গুন ছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের পর এক দিন পিছিয়েছে বসন্ত। বাংলা বর্ষপঞ্জি সংশোধনের কাজ করেছে বাংলা একাডেমির গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ বিভাগ। সংশোধিত বর্ষপঞ্জিতে বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত প্রথম ছয় মাস ৩১ দিন, কার্তিক থেকে মাঘ মাস ৩০ দিন এবং ফাল্গুন মাস ২৯ দিন ধরে গণনা করা হবে। তবে গ্রেগরীয় পঞ্জিকার অধিবর্ষে (লিপ ইয়ার) ফাল্গুন মাস ২৯ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিন গণনা করা হবে।

‘ও পলাশ .. ও শিমুল কেন এ মন মোর রাঙালে / জানি না জানি না আমার এ ঘুম কেন ভাঙালে . . . লতা মুঙ্গেশকারের কালজয়ী এ গান শিমুল-পলাশকে ভীষণ মনে করিয়ে দেয় আমাদের। এমন অজস্র গানের কথায় কিংবা কবিদের কবিতার ছন্দে উঠে এসেছে বসন্তের এই প্রতীক। পলাশ-শিমুল আমাদের বাঙালির ফুল। ফাগুনের-বসন্তের-ভালোবাসার ফুল।

বসন্তের মাতাল সমীরণের টকটকে লাল বর্ণচ্ছটায় মন রাঙ্গানো শিমুল-পলাশ প্রকৃতিতে এনে দেয় নতুন মাত্রা। আমাদের সংস্কৃতির আবাহনে হৃদয়কে সাজায় পলাশ-শিমুলের লাল আভা। শিমুল পলাশেরা ছন্দায়িত করে তোলে মন। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে শিমুল এসেছে এই বাংলায়। ইংরেজি নাম সিল্ক কটন। বৈজ্ঞানিক নাম বোমবাক্স সিইবা। মালভেসি গোত্রভূক্ত শিমুল ১৮ রকম হারবাল ওষুধে ব্যবহৃত হয়।পাতাহীন গাছের নগ্ন ডালে প্রকৃতি তার আপন লীলায় মত্ত হয়ে দৃষ্টিকটু গাছে উজ্জ্বল লাল বা গাড় কমলা রঙের পলাশ ফুটিয়ে মানুষের আদর ভালোবাসা বাড়িয়ে তোলে। ফুলে ফলে সমৃদ্ধি বাংলার হাজার হাজার বৃক্ষের মধ্যে পলাশ অন্যতম। রঙেভরা বসন্তে এই ফুলের বিশাল দখলদারিত্ব। যার বৈজ্ঞানিক নাম-ইঁবধ সড়হড়ংঢ়বৎসধ।

দ্বিজেন শর্মা তার বইয়ে লিখেছেন-পলাশ মাঝারি আকারের পত্রমোচী দেশীগাছ। তিনটি পত্র নিয়ে যৌগিকপত্র। ফুল ফোঁটে বসন্তে। ৭.৫ থেকে ১০ সে.মি. আয়তনের শিম ফুলের মতো। বাংলা সাহিত্যে পলাশের প্রভাব অতিশয়।

মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষকরে গায়ের মেঠো পথের ধারে অয়ত্নে অবহেলায় শিমুল পলাশের কোলজুড়ে হেসে ওঠেছে রক্তিম ফুল।তবে সৌন্দর্য্যের এই লীলাভূমি বাংলার দৃশ্যপট আস্তে আস্তে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে অনেকটা হারিয়ে য়াওয়ার পথে এই গাছগুলো। আগে গ্রামগঞ্জের সবখানে এই ফুলের দেখা মিললেও এখন দেখা পাওয়া খুবই দুস্কর। অনেকের মতে এটি ফলজ বৃক্ষ নয় শুধু ফুল। ফুল ও জ্বালানি ছাড়া কোনো কাজে আসে না বলে এই গাছ লাগাতে মানুষের অনীহা। আবহমান বাংলার প্রকৃতির রূপ ও দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে পলাশ -শিমুল গাছ থাকার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

বেসরকারী কৃষি ও প্রকিৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠান “বারসিক” এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায় জানান, বসন্তে পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। দিন দিন শিমুল-পলাশ গাছ উজাড় হওয়ায় প্রকৃতির রুপ ম্লান হয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে প্রকৃতি রাঙানো গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বরোপ করা উচিত।

মানিকগঞ্জ পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন নেত্রী লক্ষী চ্যাটার্জ্জী বলেন, এ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল। তাই কেবল প্রকৃতি আর মনে নয়, বাঙালির জাতীয় ইতিহাসেও বসন্ত আসে এক বিশেষ মাহাত্ম্য নিয়ে।

সবখবর/ আওয়াল




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর