বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ও বাংলাদেশ | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ও বাংলাদেশ | সব খবর | Sob khobar




বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ও বাংলাদেশ

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ১১৪ জন পড়েছে

বর্তমান বিশ্ব এমন একটা সময় পার করছে যার অভিজ্ঞতা পূর্বে কারোরই ছিল না। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে বিশ্বকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির এইসব চ্যালেন্জকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মত এবারও সারা বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস-২০২১।

পূর্বের বছর গুলোতে মহা সমারোহ করে দিবসটি পালিত হলেও এবার খুব সীমিত আকারে পালিত হচ্ছে এই দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্যঃ Veterinarian response to covid-19 crisis। প্রাণি চিকিৎসা, প্রাণি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়োজিত সকল পেশাজীবী, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এই দিবসটি উৎযাপন করে।

ভেটেরিনারি দিবসের ইতিহাসঃ ১৮৬৩ সালে এডিনবার্গ ভেটেরিনারি কলেজের প্রফেসর জন গ্যামেজ ইউরোপে বিশ্বের ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়ে একটি সভা করেন যার নাম দেয়া হয় আন্তর্জাতিক ভেটেরিনারি কংগ্রেস। পরবর্তীতে এটি বিশ্ব ভেটেরিনারি কংগ্রেস হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৫৯ সালে গঠিত হয় বিশ্ব ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন। প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বিশ্ব ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ), ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর এনিম্যাল হেল্থ (ওআইই), ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউ এইচ ও), ওয়ার্ল্ড ফুড অর্গানাইজেশন (ডব্লিউ এফ ও) সংস্থা গুলোর সাথে কাজ করে আসছে।

২০০১ সালে ভেটেরিনারি পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পেশাজীবীদের জন্য একটি বিশেষ দিনের সুপারিশ করা হয়। সেই থেকে প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ শনিবার পালিত হয় বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস।

২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রথম পালিত হয় বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস। দেশের ভেটেরিনারি পেশার সকল সরকারি, বেসরকারি পেশাজীবী, প্রতিষ্ঠান, সংস্থা দিবসটি নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে পালন করে। বিভিএ প্রকাশ করে বিশেষ ক্রোড়পত্র, র্যালী, শোভাযাত্রা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিনামূল্যে প্রাণী চিকিৎসা ইত্যাদি থাকে কর্মসূচীর মধ্যে।

চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও প্রাপ্তিঃ বিশ্বের ৭০ ভাগ রোগ জীবাণুর উৎস প্রাণি আবার বিশ্বের প্রাণিজ আমিষের চাহিদাও পূরন করছে প্রাণি সুতরাং প্রাণি স্বাস্থ্য রক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মহামারি ইতিহাস থেকে জানা যায় বড় সব জীবাণু যেমন মার্স, সার্স, বিভিন্ন ফ্লু ইত্যাদির প্রধান উৎস ছিলো প্রাণি। বর্তমানে করোনার জীবাণুও প্রাণি থেকে এসেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে যদিও করোনা প্রাণির মাধ্যমে ছড়ায় এমন কোন প্রমান পাওয়া যায়নি। মহামারিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা যাওয়ার পেছনে রয়েছে প্রাণি স্বাস্থ্য। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে চাইলে প্রাণি স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত করতে হবে। সুতরাং হিউম্যান মেডিকেল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিকেল সায়েন্স একীভূত হয়ে কাজ করাটা হবে বিশ্বের জন্য সুখকর।
করোনা মহামারিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাগত ভাবে সহোযোগিতার পাশাপাশি টেকনিক্যাল সাপোর্ট, টিকা উৎপাদন ও প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে ভেটেরিনারিয়ানরা যার ফলে তারা এখন করোনা সম্মুখ সারির যোদ্ধা। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও করোনা যুদ্ধ জয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ভেটেরিনারিয়ানরা।

ডা. বিজনের রেপিড করোনা টেস্ট কীট আবিস্কার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনা টেস্ট ল্যাব স্থাপন, RTPCR মেশিন প্রদান, সরকারের আই ই ডিসি আর এক্সপার্ট পোলে কাজ করা সহ সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নানা ভাবে করোনা মোকাবেলায় কাজ করছে বাংলাদেশের ভেটেরিনারিয়ানরা।

মানুষের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিম, মাংস, দুধ উৎপাদনে করোনা চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন তারা যার ফলাফল আমরা এখন পাচ্ছি। করোনাতে যেখানে সব কিছু স্থবির আমাদের দেশ সেখানে ডিম, মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই সব কিছুর অবদানে ভেটেরিনারিয়ানরা নিরলস পরিশ্রম।

করোনায় অনেক ভেটেরিনারিয়ান মারা গেছেন, অনেকে আক্রান্ত, অনেকে আবার করোনা যুদ্ধ জয়ী। এতো স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যেও তারা কাজ করছেন পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। দেশে এতো বড় একটা খাত খুবই অবহেলিত।

সুতরাং এই অবহেলিত খাতকে শক্তিশালী করার জন্য উপজেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগে অর্গানোগ্রাম দ্রুত পাশ করা, সরকারি চাকুরিতে প্রবেশ সীমা ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য ৩২ বছর করা, কোয়াক বানানো বন্ধ করা, গবেষণায় অর্থ বরাদ্দ সহ বেসরকারি খাতে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেয়া সময়ে দাবী।

লেখক-

ডাঃ মোঃ আমির হোসেন

প্রভাষক, পোল্ট্রি সায়েন্স ডিপার্টমেন্ট

ভেটেরিনারি, এনিম্যাল এন্ড বয়োমিডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদ।
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর