মানিকগঞ্জে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবী হত্যা
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
মানিকগঞ্জে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবী হত্যা




মানিকগঞ্জে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবী হত্যা

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২২
  • ১১৯ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ শহরের একটি বাসার ফ্ল্যাট থেকে সানজিদা আক্তার ওরফে রূপা (২৫) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার রাতে উত্তর সেওতা এলাকার ওই বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী পলাতক রয়েছন।

গৃহবধূর স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুক এবং দাম্পত্যকলহের কারণে গৃহবধূকে তাঁর স্বামী শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

নিহত সানজিদা টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। মানিকগঞ্জ শহরের উত্তর সেওতা এলাকায় একটি বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে এই দম্পতি থাকেন। লাবিব হোসেন নামে তাঁদের তিন বছরের এক সন্তান রয়েছে।

গৃহবধূর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার বছর আগে নাগরপুরের বনগ্রাম এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে শহীদুল ইসলামের সঙ্গে পাশের মাহমুদনগর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সানজিদার বিয়ে হয়। মানিকগঞ্জ শহরের উত্তর সেওতা এলাকার জনৈক নূরুল ইসলামের বাসার পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে শহীদুল স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকেন। শহীদুল মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফার্মেসিতে ওষুধের ব্যবসা করেন। আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই ফ্ল্যাট থেকে খাটের ওপর পড়ে থাকা অবস্থায় সানজিদার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত সানজিদার ভাই মনিরুল ইসলাম বলেন, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে শহীদুলের ভগ্নিপতি নাসির হোসেন তাঁকে মুঠোফোনে জানান, তাঁর বোন আত্মহত্যা করেছেন। সন্ধ্যায় এসে তাঁর বোনের লাশ ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে খাটের ওপর পরে থাকতে দেখেন।

মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে স্বর্ণালঙ্কার ও আসবাবসহ গৃহস্থলাদির মালামাল দেওয়া হয়। বিয়ের দুই বছর পর থেকে সানজিদার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা দাবি করে আসছিলেন শহীদুল। এ নিয়ে সানজিদাকে মারধরও করতেন। তাঁর বোনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর খাটের ওপর রাখেন। এরপর ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার প্রচার করেন।

সরেজমিনে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা খাদেজা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আজ বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শহীদুল ইসলাম তাঁর কক্ষে এসে বলেন, তাঁর স্ত্রী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এরপর শহীদুলের সঙ্গে ওই কক্ষে গিয়ে তিনি দেখেন, লাশ খাটের ওপর পড়ে রয়েছে।

এ ঘটনার পর থেকে শহীদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। পরে অভিযোগের বিষয়ে কক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। প্রাথমিক তদন্ত শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা ভাস্কর সাহা বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর