মানিকগঞ্জে শ্রমিকলীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
মানিকগঞ্জে শ্রমিকলীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব - সব খবর | Sob khobar




মানিকগঞ্জে শ্রমিকলীগের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৬৯৩ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ : সাত দিনের ব্যবধানে জাতীয় শ্রমিকলীগ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার দুটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে বিভ্রান্তিতে পড়েছে মানিকগঞ্জ শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা। এক পক্ষের দাবি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়ম বহির্ভুতভাবে বিদ্যমান পুর্নগঠিত কমিটি থাকা সত্ত্বেও বিএনপি জামাত নেতাদের সমন্বয়ে আরেকটি কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন। ওই কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছে আগের অনুমোদিত কমিটির নেতাকর্মীরা। নেতা-কর্মীরা এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটি মো. আব্দুল জলিলকে সভাপতি এবং মো. হানিফ আলীকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১-সদস্যবিশিষ্ট মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। জাতীয় শ্রমিক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ইসলাম সাক্ষরিত ওই কমিটি অনুমোদন করেন।

১৫ অক্টোবর বাবুল সরকারকে সভাপতি ও কাজী মতিউর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয় শ্রমিকলীগ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটি। ২০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের কার্যালয়ে গিয়ে বাবুল সরকারের হাতে ওই অনুমোদনের কপি তুলে দেন। এসময় সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সাত দিনের ব্যবধানে দুটি কমিটি গঠনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুকুর মাহামুদ সাংবাদিকদের বলেন, ৭ অক্টোবর যে কমিটির অনুমোদন দেয়া হয় তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি বাবুল সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলীর দ্বন্দ্বের কারণে দুটি কমিটি জমা পড়ে। হানিফ আলীর কমিটিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ ফটো সুপারিশ করেন।

অপর দিকে বাবুল সরকারের কমিটিতে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম মহীউদ্দীন, পৌর সভার মেয়র গাজী কামরুল হুদাসহ অঙ্গন সংগঠন সুপারিশ করেন। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে বাবুল সরকারের কমিটিকে অনুমোদন দেয়া হয়।

ন্যাম ভবনে গিয়ে এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয় এমপি ও মমতাজ বেগম এমপি’র উপস্থিতিতে অনুমোদিত কমিটি হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি বলেন, তিনি জাতীয় শ্রমিকলীগের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে সেখানে গিয়ে তাদেরকে পেয়েছেন।

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৭ তারিখে ঘোষিত কমিটিতে তার স্বাক্ষরের কথা তিনি অস্বীকার করেন। আর ন্যাম ভবনে গিয়ে অনুমোদিত কমিটি হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন তিনি সেখানে তিনি যাননি এবং সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে তাকে কেউ জানায়নি। পরে কমিটি কি ভাবে অনুমোদন করা হলেও সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেন নি।

৭ অক্টোবর ঘোষিত জেলা শ্রমিকলীগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ আলী বলেন, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর বাবুল সরকারকে সভাপতি এবং তাকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের কমিটি অনুমোদন দেন। কিন্তু দীর্ঘ ২২ মাস অনুপস্থিত থাকা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে জেলা কমিটির সভায় ৭১ সদস্যের মধ্যে ৫৫ জনের উপস্থিতির স্বাক্ষরে জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বাবুল সরকারকে বহিস্কার করা হয়। ৭ অক্টোবর আব্দুল জলিলকে সভাপতি করে কমিটি পুর্নগঠন করা হয়। সেই কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনুমোদন দেন। কিন্তু সাত দিনের মাথায়, বাবুল সরকারকে সভাপতি করে আরেকটি কমিটির অনুমোদন দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দলীয় কর্মকান্ড। এই অবৈধ কমিটি বাতিলের দাবীতে ২২ অক্টোবর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনা বরাবর আবেদন করেছেন জেলা শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা।

৭ অক্টোবর ঘোষিত জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, পরিবন সেক্টরে চাঁদাবাজির কারণে বাবুল সরকার বিতর্কিত একজন ব্যক্তি। জেলা শ্রমিকলীগের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে চাঁদাবাজ বাবুল সরকারকে জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতির পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। একজন বহিস্কৃতকে কি ভাবে জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি বানানো হলো তা বোধগম্য নয়। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধ অভিযান চলার পরও শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি শুকুর মাহামুদ অর্থের বিনিময়ে অবৈধ ভাবে একটি কমিটি থাকার পরও সাত দিনের মাথায় আরেকটি কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন।

এব্যাপারে ১৫ অক্টোবর ঘোষিত কমিটির সভাপতি বাবুল সরকার বলেন, জেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলীর সাথে দ্বন্দ্বের কারণে জেলা কমিটির মেয়াদ থাকার স্বত্তেও দুইজনেই আলাদা আলাদা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেই। দুই কমিটিতেই নেতৃবৃন্দ সুপারিশ করেন। গত ১৫ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কমিটির তার ও হানিফ আলীর অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নেন। কেন্দ্রীয় কমিটি সভায় তার দাখিল কৃত কমিটি অনুমোদন দেন। এই কমিটিকে যারা অবৈধ বলেন তারা আসলে দল করেন কি না সন্দেহ আছে। প্রতিহত করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন পেশি শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি বন্ধ করা যায় না । সময় এলেই এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শ্রমিকলীগের কার্যালয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ওই প্রতিবাদ সমাবেশে বাবুল সরকার ও মতিউর রহমানের কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা প্রতিহত করার ঘোষনা দিয়েছেন। বিএনপি জামাত সমন্বয়ে ওই কমিটির কোন কর্মসূচি মানিকগঞ্জে পালন করতে দিবেন না বলে ঘোষনা দেন নেতাকর্মীরা।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর