মেঘে ঢাকা আকাশ | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
মেঘে ঢাকা আকাশ | সব খবর | Sob khobar




মেঘে ঢাকা আকাশ

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ১০৯ জন পড়েছে

সুলেখা আক্তার শান্তা

আজাদের বয়স হয়েছে রুজি রোজগার করতে পারে না। পাঁচ মেয়েকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত সে। আজাদ ভাবে মৃত্যুর আগে মেয়েগুলোর বিয়ে দিয়ে যেতে পারলে, মনে একটু শান্তি পেতাম। ভাবনায় অস্থির হয়ে থাকে সে সব সময়।

আজাদের বোনের জামাই বশির বাড়িতে বেড়াতে এলো সাথে একজন লোক নিয়ে। লোকটির পরনে ধর্মীয়-ধরনের পোশাক, তার নাম রহিম। রহিমের বয়স আজাদের চেয়ে পাঁচ বছরের ছোট হতে পারে আনুমানিক। আজাদের সবচেয়ে ছোট মেয়ে রুপা দেখতে ভীষণ সুন্দরী। রুপাকে দেখে রহিমের ভালো লেগে যায়। সে তার মনের কথা খুলে বলে বশিরকে। রুপাকে আমি বিয়ে করতে চাই? বশির চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে রহিমের দিকে! রহিম বলে, এমন করে তাকিয়ে আছো কেন? আমি কি খারাপ কিছু বলেছি? উনার পাঁচ মেয়ে কোন মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। আমি যদি তার এক মেয়েকে বিয়ে করি তার উপকার হবে তাতে দোষের কি।

বশির বলে, এসব আপনি কি বলছেন? মাথা কি আপনার খারাপ হয়েছে? এই বুড়া বয়সে বিয়ে করতে চান ছোট একটা মেয়েকে। ওর কি বিয়ের বয়স হয়েছে?

মেয়েদের বিয়ে হইতে বয়স লাগে না রহিম বলে, এই বাড়ির সব কথা জেনে শুনে আমি কথাগুলি ভেবে বললাম। তুমি কাজ করো বিয়ের প্রস্তাবটা মেয়ের বাবার কাছে দাও।

বশির নিজের রাগ চাপা না পারে বলে, আপনি একটা বুইড়া খাটাশ। আমি বিয়ের কথা বলতে পারবোনা।

দেখো তুমি বললে বলো না বললে না বলো, আর না হয় আমার নিজের বিয়ের কথা নিজেই বলতে হবে।

বশির বলে, আমার সাথে বেড়াতে এসে, এখন আমার মান-সম্মান নিয়ে টানছেন।

রহিম কখন ভিন্ন পথ ধরে বলে, তোমার পায়ে পড়ি রূপাকে তুমি আমার সাথে বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও।

বশিরের বিবেকে লাগে। বশির কোনো ভাবেই সে রুপাকে বুড়া রহিমের সাথে বিয়ে দিতে রাজি হয় না।

রহিম ভাবে এরে বলে তো কোন কাজ হচ্ছে না। আমার নিজের বিয়ে নিজেই সরাসরি বলতে হবে মেয়ের বাবার কাছে। পরে রহিম কায়দা করে রুপার বাবা আজাদের কাছে নিজেই তার বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আজাদ বেকুব হয়ে যায়। আপনার মত এই বয়সী একজন লোকের কাছে আমার বড় মেয়েদের রেখে তাও ছোট মেয়েকে বিয়ে দেবো। আপনি আমার বাড়ির মেহমান, আপনি বাড়াতে এসেছেন বেড়িয়ে যান।

রহিম তখন মরিয়া হয়ে, খপ করে আজাদের হাত ধরে বলে, দেখেন আপনি আমাকে না বলবেন না। আমি রুপাকে সুখে শান্তিতে রাখবো।

আজাদ ঝাড়া দিয়ে হাত ছাড়িয়ে নেয়, আপনি আমার হাত ছাড়ুন।

দিশেহারা রহিম দেখল অনুনয়-বিনয় করে কোন কাজ হবে না সে আসল রূপে আবির্ভূত হয়। রহিম বলে, আমার সাথে আপনার মেয়ে রুপার বিয়ে না দিলে আপনার অনেক ক্ষতি হবে। আমি আপনার সব মেয়েদের নামে বদনাম দেব। তখন এক মেয়ে কেন কোন মেয়েরই বিয়ে দিতে পারবেন না, ভেবে দেখেন এখন আপনি কি করবেন। মেয়ে নিয়ে চিন্তায় ছিল আজাদ কিন্তু এখন পড়ে গেল বিপদে। মহা বেড়া জালে পড়ে গেল আজাদ। এমন চক্রান্তজাল ছিন্ন করে বের হবার কোন উপায় দেখে না সে। রহিমের স্বভাবের যে পরিচয় পাওয়া গেল তাতে বোঝা গেল এর কাছে মেয়ে রুপাকে বিয়ে না দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। আজাদ বলতে বাধ্য হল, আচ্ছা আমি দেখি।

এরপর স্ত্রী আজিজা এর কাছে মেয়ে রুপার বিয়ের কথা খুলে বলে আজাদ।

আজিজা স্বামীকে বলে, তুমি পাগল হও নি তো? বড় মেয়ে রেখে ছোট মেয়েকে বিয়ে দেব এই বুড়ো লোকের সাথে।

আজাদ স্ত্রীকে বলে, আরে ছোট মেয়ের জন্য কি বড় মেয়েদের সর্বনাশ করব? আমার কথার উপর দিয়ে মাতুব্বারি করো না, যা বলি তাই করো।

রহিম বলে আজাদকে, আপনাকে আমি এখন থেকে আব্বা ডাকবো। বিয়ে তো হয়েই যাবে। আজাদ কোন কথাই বলে না, মুখটা গম্ভীর করে রেখেছে। দেরি না করে কাজী ডেকে নিয়ে আসেন। আমি কাজী আনতে গেলে কেমন দেখা যায়। রুপা তার বিয়ের কথা শুনে কিছুতেই সে বিয়ের জন্য রাজি হয় না। সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। বুড়ো রহিম সে মহা আনন্দতে আছে। আজাদ বাড়িতে কাজী ডেকে নিয়ে আসে, কনে দেখে কাজীও বিয়ে পড়াতে অনিচ্ছুক। রহিম কোনভাবে গাজীকে ম্যানেজ করে ফেলে। এরপর রুপা আর রহিমের বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের দিন রাতে রহিম তার শ্বশুর বাড়ি রাত কাটায়।

পরদিন সকালে সে তার বউকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঢাকায় এসে মিরপুর বারো নম্বরে একটি টিনের ঘর ভাড়া নেয়। রুপা বাবা-মা বোনদের রেখে তার দূরে থাকায় এই প্রথম। তাদের রেখে কিছুই তার ভালো লাগে না। স্বামী রহিমকে বলে রুপা, আমাকে আমাদের বাড়ি রেখে আসেন।

রহিম ধীরে ধীরে তার স্বরূপ প্রকাশ করতে থাকে। সে রুপার সঙ্গে কর্কশ ব্যবহার শুরু করে দিল। তোকে এখানে এনেছি কি বাড়ি দিয়ে আসতে? তুই বাসায় থাকবি। আমি সিএনজি চালাই সারাদিন খাটাখাটনি করি। আমার খেদমত করবি, তোকে তো বসাইয়া খাওয়াইতে আনিনি। বাসায় সংসারের কাজ করবি। রুপা কোন কাজ না পারলে গায়ে হাত তোলে, মারা-ধোর শুরু করে দেয়। রহিম কাজে যাওয়ার সময় রূপাকে ভিতরে রেখে বাহির থেকে তালা মেরে যায়। একা ঘরে এমন অবস্থায় থাকায় রুপার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। একে তো অপরিচিত জায়গা তারপরে ঘরে থাকা অবস্থায় বাহির থেকে তালা।

রহিম বাসায় এলেই শুরু হয় বকাঝকা বলে, এটা কি রান্না করেছিস, ওটা এমন হল কেন? রুপাকে আঘাত করার জন্য রহিমের মুখ হাত দুটোই চলায়। রহিমের শারীরিক এবং মানসিক আঘাতের যন্ত্রণায় রুপা অস্থির হয়ে ওঠে। ভেবে পায় না এর সমাধান কি? কেউ রহিমকে ঘরে তালা মারার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে রহিম বলে, আমার ঘরে আমি তালা মারি তাতে কার কি? রহিমের এমন বলায় কারো কোন মুখে উত্তর থাকে না।

রহিম নতুন বিয়ে করে আগের পক্ষের স্ত্রীদের খোঁজ নেয় নি। একদিন রহিমের চার নাম্বার স্ত্রী আনীহা স্বামীর বর্তমান বাসা খোঁজ পায়। খোঁজ পেয়ে এসে জানতে পারে রুমের ভিতর রহিমের স্ত্রী আছে। আনীহা বলে, কি বুইড়ার বিয়ের সাধ মিটে না। বউদের খাওয়াতে পারেনা, বিয়ে ঠিকই করতে পারে। এই নিয়ে এক এক করে এই পাঁচ বিয়ে করল আমি হয়েছি ওর চার নাম্বার স্ত্রী। অনীহা রাগে জিদ্দে তালা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে, দেখতে পেল অল্প বরুসী অনেক সুন্দরী এক মেয়ে খাটে বসে আছে। দেখে মাথায় আগুন ধরে যায় তার। ও আমার স্বামীরে তোর এই রুপ দেখাইয়া পাগল করছোস? আমার পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াইছোস। আমি আজ তোরে আস্থা রাখুম না। তোরে শায়েস্তা করতে হইবো। এই কথা বলতে দেরি আছে তো রুপারে মারতে দেরী নেই।

রূপা কাঁদতে কাঁদতে বলে, আপনি না জেনে শুনে আমাকে কেন মারছেন?

আমাকে আবার জিজ্ঞেস করছোস তোকে কেন মারছি? তোর জন্য আমার স্বামী আমার কোন খোঁজ খবর রাখে না। আমার সন্তানের মুখে খাবার দিতে পারছিনা।

আপনি আমার কথা শুনেন আমি ওনাকে বিয়ে করতে চাইনি। উনি আমাকে ষড়যন্ত্র করে বিয়ে করেছেন। উনাকে বিয়ে না করলে আমার আর আমার বোনদের নামে অপবাদ দিবে। আমার বাবা-মাকে ভয় দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করেছে।

আনীহা বলে, তোর কথা সত্যি যদি হয়? তোকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেব, তুই এখান থেকে চলে যাবি।

আপনি আমাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিবেন? তাহলে দেন আমি চলে যাব আমার বাবা-মায়ের কাছে।

রহিম এসে হাজির সেখানে। আনীহাকে দেখতে পেয়ে ধরে মারা শুরু করে দিলো। আমি তোর জ্বালায় কোথাও থাকতে পারিনা। বড় বৌদের তুই দেখতে পারস নাই।

আনীহা বলে, কোন বউ তো থাকলো না আপনার কাছে সবাই তো চলে গেল।

আমারে কটাক্ষ কইরা কথা বলিস। তুই এখানে আসছিস কেন? যেখানেই যাই তুই আমারে খুঁজে বের করস। তোরে যে আমি চাই না তা কি তুই জানোস না।

আনীহা বলে, আপনার এই অত্যাচার জুলুম আল্লাহ সহ্য করবে না। করেন যত অত্যাচার করতে পারেন। আমি সহ্য করে নিমু।

রহিম রুপাকে মারে আর বলে, তুই এখান থেকে পালাতে চাইছোস? তুই তোর বাবা-মার কাছে যাবি। তা আর দিচ্ছি না তোরে। রুপা ভয়ে কোন কথা বলে না। এরপর রহিম গোসলের জন্য যায়। সেই সুযোগে আনীহা বলে রুপাকে, শোন আমি তোকে ভুল বুঝেছিলাম। এই যে আমাদের স্বামী এর বুকে কোন দয়া মায়া নাই। আমি তোর জীবন নষ্ট হতে দিব না। তোকে নিয়ে পাঁচ-পাঁচটা বিয়ে করেছে। এই বুইড়া যারে দেখে তারেই বিয়ে করতে চায়? সে কেউরে ভালবাসেনা। তার মধ্যে কোন ভালোবাসা নাই। তুই আমার প্রতি ভরসা রাখ। তাকে তুই বুঝতে দিবি না তুই এখান থেকে চলে যাবি।

রহিম গোসল থেকে বের হয়ে, আনীহারে বললো তুই আবার ওকে কিছু শিখিয়ে দিচ্ছিস না তো?

আনীহা না ওরে আমি কি শিখিয়ে দিব? সতীন কি কখনো আপন হয়? ও তো আমার বারা ভাতে আগুন দিয়েছে।

রহিম বলে আনীহাকে, তুই এখান থেকে চলে যা।

আমি কোথায় যাব? আপনার আমি বিয়ে করা বউ হাসি দিয়ে বলে, আমার কি আপনার উপরে অধিকার নেই।

তা আছে থাকবেই বা না কেন? তবে আমি কিন্তু তোকে খাওয়াতে পরাতে পারবো না। তোর নিজের কাজ করে খেতে হবে এখানে থাকতে হলে।
ঠিক আছে, দেখি কাজ একটা জোগাড় করে নেবো।

রহিম রুপাকে বলে আমাকে ভাত দে। এরপর সবাই খাওয়া-দাওয়া করে রাত্রে শুয়ে পরে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে রহিম কাজে যাবে। যাওয়ার সময় দুই স্ত্রীকে ভিতরে রেখে তালা মেরে যাবে। এমন সময় আনীহা বলে স্বামীকে, তালা মারা আপনার দরকার নেই। আমিতো আর আপনার কাছ থেকে পালাই যাবো না। আমার তো আবার কাজ খুঁজতে যেতে হবে।
আমি তোকে বিশ্বাস করিনা তুই যদি রূপাকে পালিয়ে যেতে সুযোগ করে দেস।

আরে না আপনি না কি যে বলেন, আমি যদি কাজে যাই তখন রুপাকে রুমে তালা মেরে যাব। আপনি আমার স্বামী আপনার কথা না শুনে কি পারি।

ঠিক আছে, আমি কাজে যাচ্ছি তুই রুপাকে দেখে রাখবি।

তাহলে আপনি যান আমি রূপাকে ভালোভাবে দেখে রাখব।

রহিম রুপাকে বলে, থাক তাহলে আমি কাজে যাই।

রুপা বলে, ঠিক আছে। এরপর রহিম কাজে চলে যায়।

রুপা বলে অনীহাকে, আপা আপনি আমাকে পালিয়ে যেতে দিতে চেয়ে ছিলেন?

হ্যাঁরে তোর জন্য আমার মায়া লাগে। তোরে আমি পালাই যাইতে দিমু, তোর জন্য যদি আমারে অত্যাচার করে বুইড়া করুক। চল আমি তোকে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসি। এরপর একসাথে দুজনে বের হলো।

গাড়িতে তুলে দিয়ে রূপাকে বলে আনীহা, এবার তুই মুক্ত পাখি।

হ্যাঁ আপা, মুক্ত আকাশে উড়বো আমি। আপা তুমি আমাকে বড় উপকার করছো। আমার বাবা-মা এই বুড়োর কাছ থেকে আমাকে রক্ষা করতে পারেনি, তুমি পেরেছ। আপা তুমি এই বুড়োর কাছে থাকবা?

আনীহা একটা হাসি দিয়ে বলে, তুই যা।

রুপার গাড়ি ছেড়ে দিল। এরপর গাড়ি তার গন্তব্য স্থানে পৌঁছালো। রুপা গাড়ি থেকে নেমে, মুক্ত হবার পর রুপার মনের চিরন্তন আকাঙ্গক্ষা জেগে ওঠে। দুই হাত আকাশের দিকে তুলে আপন মনে বলে, আজ আমি মুক্ত আকাশের পাখি। আমার আপন ভুবনের আকাশে উড়বো আমি। কেউ কি আমার সঙ্গী হবে।

সবখবর/ নিউজ ডেস্ক




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর