রহস্যময় দেশ : যেখান থেকে কেউ ফেরে না - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
রহস্যময় দেশ : যেখান থেকে কেউ ফেরে না - সব খবর | Sob khobar




রহস্যময় দেশ : যেখান থেকে কেউ ফেরে না

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩৫১ জন পড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারত আশ্চর্যজনক রহস্যময় এক দেশ। দেশটির অনেক ধর্মীয় স্থান, রাজপ্রাসাদ এমনকি গ্রাম ঘিরে রয়েছে রহস্য।দেশের মধ্যে কয়েকটি রহস্যজনক স্থান।

ভানগড় দুর্গ: বিশ্বের সবচেয়ে ভীতিকর স্থানগুলোর একটি রাজস্থানের ভানগড় দুর্গ। ভারত সরকার সূর্যাস্তের পরে এই দুর্গে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কারণ সন্ধ্যার পরে এই দুর্গে যারা প্রবেশ করেছিল তাদের অনেকের খোঁজ মেলেনি। যাদের মিলেছে, তাদের পাওয়া যায় অর্ধমৃত অবস্থায়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার সময় গাড়ি দুঘর্টনায় মৃত্যু হয়। এই স্থান নিয়ে অনেকগুলো ভীতিকর কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।

তার মধ্যে একটি হচ্ছে, কালো জাদুর এক তান্ত্রিক ভানগড়ের রাজকন্যার প্রেমে পড়ে। রাজকন্যাকে বশ করতে সুগন্ধীর মধ্যে সে মন্ত্রপড়া তেল মিশিয়ে দেয়। কিন্তু রাজকন্যা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিশাল একটি পাথরের ওপর সুগন্ধীটুকু ফেলে দেয়। সেই জাদুর তেলের প্রভাবেই পাথরটি তান্ত্রিককে পিষ্ট করে। মৃত্যুর আগে তিনি অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর প্রতিবেশী রাজ্যের সঙ্গে ভানগড়ের যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধে রাজপরিবারসহ পুরো শহর ধ্বংস হয়ে যায়। তখন থেকেই এটি ভীতিকর স্থান হিসেবে পরিচিত।

রামোজি ফিল্ম সিটি: ভারতের বৃহত্তম ফিল্ম সিটিগুলোর একটি হলো রামোজি ফিল্মসিটি। চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য ১৯৯৬ সালে তেলেঙ্গানা রাজ্যে ৬ বর্গকিলোমিটারের বেশি স্থানজুড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই অতিপ্রাকৃত কার্যকলাপের ঘটনায় এটি বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। রামোজি ফিল্মসিটি এবং এর আশেপাশে প্রচুর হোটেল রয়েছে। বেশিরভাগ হোটেলেই ভৌতিক কাণ্ডকারখানার গল্প শোনা যায়।

হোটেলে আসা অনেক দর্শনার্থীরা রহস্যজনক কিছু ছায়া দেখতে পেয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, ঘরগুলো ভেতর থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় পেয়েছেন কিংবা রাতে দরজা বা বাথরুমে অদৃশ্য কেউ ধাক্কা দেয়। এখানে হঠাৎ করেই লাইট উপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙে যায়। জামাকাপড় আপনা থেকেই ছিঁড়ে যায়।

এসব কারণে ভারতের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রায়ই প্রকাশিত হয় রামোজি ফিল্মসিটির নানান ভৌতিক কাহিনি। এর কারণ হিসেবে অনেকে মনে করেন জায়গাটি অসংখ্য মৃত সৈনিকের আত্মা দ্বারা পরিবেষ্টিত। কেননা রামোজি ফিল্মসিটি যে স্থানটিতে তৈরি করা হয়েছে তা মূলত মহাবীর নিজাম-এর যুদ্ধক্ষেত্র অনাজপুর। এই স্থানটিতে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। প্রতিটি যুদ্ধে শত শত সৈনিক নিহত হয়েছিল এখানে।

মুকেশ মিলস: শাহরুখ খান অভিনীত ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমাটির কথা নিশ্চয়ই মনে আছে। অদ্ভুতভাবে সিনেমাটির গল্পের সঙ্গে মুম্বাইয়ের এই টেক্সটাইল কারখানার মিল রয়েছে। মুকেশ টেক্সটাইল মিলস ১৮৭০ এর দশকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিল। আকস্মিকভাবে আগুন লেগে ১৯৮০ সালে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত নানা আজব ঘটনা ঘটে চলেছে সেখানে। মুম্বাইয়ের এই পরিত্যক্ত স্থানটি হিন্দি ভৌতিক সিনেমার শুটিংয়ের জন্য দুর্দান্ত লোকেশন হিসেবে খ্যাত। তবে বেশ কয়েকজন পরিচালক, এমনকি অভিনেতাও এখানে অলৌকিক কার্যকলাপের অভিজ্ঞতা অর্জনের পরে শুটিং করতে অস্বীকার করেছেন।

কুলধারা গ্রাম: রাজস্থানের কুলধারা গ্রামটি জনশূন্য প্রেতাত্মার গ্রাম হিসেবে পরিচিত। ১৮০০ শতকের পর থেকে গ্রামটি এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। প্রচলিত রয়েছে যে, গ্রামটি অভিশাপ বহন করে চলেছে। সাত শতকের বেশি সময় ধরে সেখানে থাকার পরে হঠাৎ একদিন পুরো গ্রামের মানুষ নিখোঁজ হয়েছিল। ১৮২৫ সালের দিকে মাত্র এক রাতের মধ্যেই গ্রামের অধিবাসীরা হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। তাদের আর দেখা পাওয়া যায়নি।

এই জায়গার রহস্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যে, রাজ্যটির মন্ত্রী সেলিম সিং একবার ওই গ্রামে গিয়েছিলেন এবং গ্রামের সর্দারের মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। গ্রামবাসীদের মন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তারা যদি তার সাথে মেয়েটির বিয়ে না দেন তাহলে তিনি উচ্চ কর আদায় করবেন। আশেপাশের গ্রামের মানুষজনের সাথে গ্রামটির প্রধান মেয়েটির সম্মান রক্ষার জন্য গ্রাম ত্যাগ করে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সেলিম সিং এরপর নতুন করে গ্রাম বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ সেই গ্রামে রাত কাটাতে পারত না। তাদের মৃত্যু হতো। মৃত্যুর কারণও জানা যেত না।

এরপর থেকে নানা কাহিনি প্রচার হতে থাকে। অধিকাংশ লোকেই মনে করে কুলধারার অধিবাসীদের অভিশাপের কারণেই আর কেউ এই এলাকায় বসতি স্থাপন করতে পারেনি। গায়েব হয়ে যাওয়ার আগে তারা নাকি অভিশাপ ছড়িয়ে দিয়েছিল নগরীর বাতাসে- কেউ এখানে বাস করতে পারবে না। যেমনটা তারাও পারেনি! সেই থেকে কুলধারা এক পরিত্যক্ত নগরী হয়ে পড়ে রয়েছে।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর