শিবালয়ে অধ্যক্ষ বাসুদেবের নানা অনিয়ম, প্রমাণ মিলেছে তদন্তে শিবালয়ে অধ্যক্ষ বাসুদেবের নানা অনিয়ম, প্রমাণ মিলেছে তদন্তে – সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :




শিবালয়ে অধ্যক্ষ বাসুদেবের নানা অনিয়ম, প্রমাণ মিলেছে তদন্তে

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৯১৯ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ: বহুল আলোচিত মানিকগঞ্জের শিবালয় সদর উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষ ড: বাসুদেব কুমার দে শিকদারের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখনও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে জানা গেছে। ইতিপূর্বে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটুক্তি করার দায়ে সাবেক কলেজ পরিচালনা পরিষদ সভাপতি তাকে বহিস্কার করেছিলেন। তবে রহস্যজনকভাবে স্বপদে বহাল হয়ে তিনি আরো বেপরয়া হয়ে উঠেন। থেমে নেই তার একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কলেজ ও শিক্ষক কর্মচারীরা। এমতবস্থায় কলেজটি রক্ষার্থে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও এলাকাবাসি অধ্যক্ষের অপসারনের দাবি জানিয়েছেন।

সুত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি কয়েকজন অভিভাবক ও এলাকাবাসি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও কলেজ কমিটির সভাপতির কাছে নানা অনিয়ম- দুর্নীতির অভিযোগ করেন। অভিযোগের বলা হয়েছে কলেজ আঙ্গিনায় মাটি ভরাট বাবদ প্রায় ২লাখ টাকা, কলেজ ভবনের সংস্করন বাবদ প্রায় ১লাখ টাকা, আসবাবপত্র তৈরী ও মেরামত বাবদ প্রায় ২লাখ ৫০ হাজার টাকা কমিটি’র অনুমোদন ছাড়াই অধ্যক্ষ ব্যয় দেখিয়েছেন। অথচ এর অর্ধেক টাকাও ব্যয় হয়নি। বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা বিভিন্ন ফি রসিদ জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে অডিট রিপোর্ট গোপন করেও টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এমনকি কলেজ ফান্ডের টাকা দিয়ে নিজের ছেলের গৃহশিক্ষকের বেতন দিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক এসএম ফেদৌস স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ফৌজিয়া খানকে দায়িত্ব দেন।

ফৌজিয়া খান জানান, প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

এদিকে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিয়োগের তদন্ত চলার কারনে কলেজের ১৫ জন নন এমপিও এবং কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রেখেছেন পরিচালনা পরিষদ। এতে অধ্যক্ষের দুর্নীতির কারনে শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন অতিবাহিত করছেন।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস জানান তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অধ্যক্ষকে কারন দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ইতিমধ্য কারন দর্শানোর জবাব দিয়েছেন। এখন বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ড পাঠানো হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ড: বাসুদেব কুমার দে শিকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটা ষড়যন্ত্র। তিনি জানান কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদনে অননিয়-দুর্নীতি উঠে আসল কি ভাবে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, তদন্ত কমিটি কিভাবে প্রতিবেদন দিল এটা আমার বোধগম্য নয়।

অপরদিকে সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষর নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট মো. আমজাত হোসেন বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ হঠাৎ করেই অলৌকিকভাবে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন । সে এখন ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন এবং সরকারের কোন বিধি-বিধানের তোয়াক্কা করছেন না। এমন দুর্নীতিগ্রস্থ অধ্যক্ষের যথাযোগ্য শাস্তি না হলে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়বে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

প্রসঙ্গত এর আগে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কটুক্তি করায় এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে কলেজের সাবেক পরিচলানা পরিষদ ড, বাসুদেব কুমার দেকে সাময়িক বহিস্কার করে।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর