শুধু শ্লোগানে নয়, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শকে কর্মে অনুসরণ করতে হবে - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
শুধু শ্লোগানে নয়, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শকে কর্মে অনুসরণ করতে হবে - সব খবর | Sob khobar




শুধু শ্লোগানে নয়, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শকে কর্মে অনুসরণ করতে হবে

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১
  • ১৬৯ জন পড়েছে

মোঃ আলাল সরকার ( কালিয়াকৈর) গাজীপুর: বাঙ্গালী জাতির হাজার বছরের কাংখিত মহা মানব, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের মহান শিক্ষক, রাজনীতির মহা কবি ও মহান স্বাধীনতার স্থপতি বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সাহারা খাতুনের কোলকে আলোকিত করে পৃথিবীতে পদার্পণ করেছিলেন খোকা মুজিব। সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অসীম সাহস, আর গর্জনে বেড়ে শেখ মুজিব। হৃদয়ে জন্ম নেয় শোষিত বঞ্চিত, অবহেলিত মানুষের জন্য অকৃত্রিম ভালোবাসা।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সময় থেকে অসহায় মানুষের অধিকার আদায়ে এবং ছাত্রদের অধিকার আদায়ে তার দৃঢ় চেতনা ও সাহস মানব হৃদয়ে দাগ কাটবে যুগে যুগে। মেহনতী মানুষের পাশে দাঁড়ানো,সত্যের জন্য বজ্রকন্ঠে কথা বলা,জনগনের অধিকার আদায়ে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করা, জনগণের প্রতি আস্থা এসব ছিলো আদর্শ। এসব গুণাবলী ধারন করতে হবে আজকে আমরা যারা ছাত্র রাজনীতি করি বা করতে ইচ্ছুক।

আমরা যারা আওয়ামী পরিবারে রাজনীতি করি,, বাঙ্গালি জাতিসত্তায় বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের আদর্শ ও অনুপ্রেরণা এবং এটায় হওয়া উচিত বলে আমি স্বীকার করি, করতে হবে।তাঁর আদর্শ আমাদের মধ্যে লালন করতে হবে।

আওয়ামী পরিবারের রাজনৈতিক নেতা কর্মী হিসেবে আমরা ফেসবুক, বেনারে কিংবা শ্লোগানে বলে থাকি মুজিব আমার আদর্শ, মুজিব আমার ঠিকানা।

“কে বলেরে মুজিব নাই,মুজিব সারা বাংলায়” এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে ” কিন্তু দুংখের বিষয় এসব শুধু মুখের বলি! এগুলো কারও অন্তরে লালিত হচ্ছে বলে মনে হয় না। আর সত্যিকার অর্থে যদি বঙ্গবন্ধু কে রাজনৈতিক আদর্শে ধারণ করি তাহলে তার কর্মকান্ড তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আমাদের উপলব্ধি করতে হবে।

শেখ মুজিবর রহমান ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ,১৯৫২ সালে ভাষার জন্য লড়াই,ছাত্র সংগঠন গঠন করা, সত্যের জন্য কারা বরণ, মাথা না নোয়ানোর যে স্বভাব, এসব কি আজকের ছাত্র রাজনীতি কিংবা মূল রাজনীতি জগতে আছে? আমার মনে হয় নেই। তবে যদি থাকে তা আরো জোড়দার হওয়া উচিত। শেখ মুজিবের আদর্শ কিভাবে বাংলা ভাষার আন্দোলনে জোগান দিলো? কিভাবে সকল শ্রেনীর ছাত্রদের উদ্ভুদ্ধ করলেন-এসব অনুসরণ করতে হবে আজকের ছাত্রসমাজ কে।বঙ্গবন্ধু কে ব্যানারে ব্যবহার করে যারা আমরা আওয়ামী লীগ করি, প্রশ্ন করতে হবে নিজেকে – কতটুকু আদর্শ ও নিষ্ঠাবান চিন্তা ভাবনা এনে দিলো ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়, কিভাবে সম্ভব হলো?, কি জাদু প্রয়োগ করলো শেখ মুজিব? কিভাবে আশ্বস্থ করলেন তৎকালীন পাকিস্তানে বসবাসরত বাঙ্গালী সহ সকল সাধারণ মানুষকে যেকারণে ভোট বাক্স ভরে গেল নৌকার সীলে। কি আকষ্মিক ক্ষমতা ছিলো তার? তা হলো জনগনের প্রতি তার ভালোবাসার কমিটমেন্ট। এগুলো কি আছে আমাদের মাঝে!

আমরা যারা রাজনীতি করি সকলেই জানি কোন না কোন দলকে ঐক্যবদ্ধ করেই জনগনের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়, জনগনের কাজ করতে হয়। অর্থাৎ একটি দলকে জনগণের আস্থার ও ভরসার জায়গা দখল করতে হয়। নিজের কতটুকু স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে একটি দলকে গোছাতে হয় তা ১৯৫৬ সালে মন্ত্রীত্ব থেকে শেখ মুজিবের স্বেচ্ছায় যে পদত্যাগ তা নিয়ে ভাবলেই আমরা বুজতে সক্ষম হবো। তিনি বুজে ছিলেন দল না গোছালে, দল শক্তিশালী না হলে পুর্ব বাংলার আপমার জনসাধারণের স্বপ্ন পূর্ণ হবে না। পারবো কি আমরা? দল ও জনগনের স্বার্থে নিজের এমন বৃহৎ স্বার্থ তো দুরের কথা কোন ছোট্ট স্বার্থ ত্যাগ করতে।

ত্যাগ করা শিখতে হবে শেখ মুজিবের মতো। কিন্তু আমরা আজকে এটাও চাই, ওটাও চাই আবার ঐইটা হলেও আমি খুশি হতাম এমন স্বভাব নিয়ে রাজনীতি করতে আসি।

১৯৫৮ সালে সৈর শাসক আইয়ুব সরকার বিরুদ্ধে তার যে আদর্শবাদী এক বজ্রকন্ঠ। এগুলো অনুসরণ করতে হবে, বুকে লালন করতে হবে। ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন থেকে পর্যায় ক্রমে আগমন ঘটে সেই ১৯৬৬ সাল। কতটুকু আদর্শ ও সৎ সাহস নিয়ে শেখ মুজিব ১৯৬৬ সালে তুলে ধরলেন বাঙ্গালির মুক্তির সনদ “ছয় দফা “। জনগণের প্রতি অসীম ভালোবাসা থাকার কারনে এটা সম্ভব হয়েছিলো। নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে, নিজের ভোগ বিলাস, আলীসান বাড়ী, গাড়ী এসব চিন্তা না করে মেহনতী মানুষের জন্য, বাঙ্গালির অধিকার আদায়ে তুলে ধরলেন মুক্তির সনদ” ছয় দফা “।

তাঁর কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে পাক সরকার এক বিশাল চক্রান্ত করে তাঁকে ( শেখ মুজিব) প্রধান আসামি করে ৩৫ জনের নামে ” আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা” দায়ের করেন। জেল জুলুম অত্যাচারে কারাগারে সময় কাটালেন শেখ মুজিব। যেখানে তিনি ইচ্ছে করলে রাষ্ট্রের বড় কোন দায়িত্ব নিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে পারতেন। আজকের আমরা দল ও দেশের জন্য নিজের বিন্দু পরিমান স্বার্থ ত্যাগ করতে পারি না। শুধু চাই, চাই আরো চাই। জনগণের কতটুটু বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করলে দলমত ভূলে গিয়ে ১৯৬৯ সালে বাঙ্গালী তাদের প্রিয় নেতাকে মুক্তি করতে রাজপথে নেমে এসে আন্দোলন করে যা ইতিহাসে” গণ অভ্যুথ্যান” নামে পরিচিত। পাক সরকার বাধ্য হয় শেখ মুজিব সহ অন্যান্যদের মুক্তি দিতে।

নিজেকে একবার প্রশ্ন করি- কয়জন রাস্তায় নামবে আমার জন্য, কয়জন বুলেটের গুলি উপেক্ষা করে বলবে অমুকের মুক্তি চাই?
বলবে না কারণ আমাদের রাজনীতিতে শেখ মুজিবের আদর্শ নাই। শুধু শ্লোগানে শেখ মুজিব বাস্তবে ঠন ঠণা ঠন ঠন।

১৯৭০ সালে পাক সরকারের অধিনে থেকেও জাতীয় নির্বাচন। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নিরংকুশ বিজয় এটা কত বড় পাওয়া, একবার ভাবি না কেন আমরা? কেবল বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক নেতৃত্বের কারণে সম্ভব হয়েছিলো। সেই আদর্শ ধরুন, এখনো সময় আছে, তা না হলে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে। আমার নেতা, তোমার নেতা, অমুক ভাইয়ের ভয় নাই,রাজপথ ছাড়ি নাই, এসব শ্লোগান বাদ দিতে হবে।
এবার বলি ইতিহাসের সেই চরম মহূর্তের কথা ; কতটুকু আদর্শ ও জনগণের প্রতি প্রেম ভালোবাসা নিয়ে ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ ঘটালেন ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। মাত্র ১৮ মিনিটের বক্তব্যে এনে দিলো লাল সবুজের পতাকার স্বপ্ন। কয়জন পারি আমরা বক্তৃতা করে দশজন মানুষকে আকৃষ্ট করতে? ,মানুষের মন গলাতে। যে দুই একজন পারি তাও শুধু নিজের স্বার্থ হাসিল করে জনগনকে পরে দেয় খাদে ফেলে। বেশীর ভাগ রাজনীতিবিদরা আজ ন্যায়ের জন্য সত্যের পক্ষে কথা বলতে পারি না কারন নিজের মধ্যেই তো যতো গোলমাল।

২৫ মার্চ, ১৯৭১ সাল গ্রেফতার হওয়ার পূর্ব মুহুর্তে নিজের জীবনের দিকে লক্ষ না করে ৭ মার্চের ভাষণের সাথে সুর মিলিয়ে ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের “স্বাধীনতা “। বাঙ্গালী জাতিকে যার যার অবস্থান থেকে লড়াই করার আহবান রেখে বললেন এদেশ থেকে পাক সেনারা বিতাড়িত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই করে যাবে, সেই ঘোষণাটি পরে বিভিন্ন জনের দ্বারা কেবল পঠিত হয়েছিলো। পাকিস্তান কারাগারে বসে সব সময় বিভোর ছিলেন বাঙ্গালির অস্তিত্ব ও বাঙ্গালির মুক্তি নিয়ে,বাঙ্গালির বিজয় নিয়ে।

কত লোভ দেখানো হয়েছিল তাঁকে কিন্তু প্রত্যাখ্যান করেছে দৃঢ় চিত্তে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের মুক্তি চাই” । কত ভয় দেখানো হয়েছে তাকে কিন্তু তিনি বিন্দু পরিমান টলে পরেন নি বরঞ্চ সাহসী কন্ঠে বলেছেন তোমরা আমাকে মেরে ফেললেও আমার দুঃখ নাই – আমার লাশটা আমার বাঙ্গালির কাছে পৌঁছে দিও। দেশ স্বাধীন হলো, নেতা দেশে ফিরলেন, জন্মভূমিতে ফিরেই যুদ্ধ বিদধস্ত দেশকে গড়বার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করলেন। তিলে তিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন, এনে দিলেন জাতিসংঘের সদস্য পদ।
কতটুকু ভালোবাসা নিয়ে জাতিসংঘে বক্তৃতা করলেন বাংলায়, বাংলায় বক্তৃতা করে শুধু তিনি নিজে গৌরব বোধ করেন নাই, গৌরবান্বিত করলেন বিশ্ব বাঙ্গালীকে । আমরা কি পারি- বিন্দু পরিমান লোভ সামলাতে? পরের স্বার্থে নিজের কিছু বিসর্জন দিতে? পারি না। আমরা কি পারি! পদ পদবীর জন্য ব্যানারে বঙ্গবন্ধুর ছবি, শেখ হাসিনার ছবি, ইদানীং আমাদের তারুণ্যের প্রতীক সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি কোন রকমে দিয়ে, কোন এক ভাইয়ের ছবিটাকে বড় করে তুলে ধরতে।

আজকে আমরা ভাই লীগ হয়ে গেছি, আর শ্লোগানে শেখ মুজিব শেখ হাসিনা বলে চিল্লা চিল্লি করি। কিভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়,কোথায় কোন ব্যবসা ধরা যায়, কতটুকু চাটুকারিতা করলে এই পদ পাবো, এই ব্যবসা পাবো এসব ঠিকঠাক মতো পারি। এগুলো কি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ? মোটেও না আসুন শোকের মাসে প্রতিজ্ঞা করি, বঙ্গবন্ধুকে শুধু শ্লোগানে নয়, নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়ন করি, তাঁর সেই সোনার বাংলা, শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে মানুষের জন্য কাজ করি । তবেই আমাদের রাজনৈতিক জীবন হবে অন্যের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরঞ্জীবী হোক।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর