সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিংগাইরের উত্তর জামসা আশ্রয়ন প্রকল্প - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিংগাইরের উত্তর জামসা আশ্রয়ন প্রকল্প - সব খবর | Sob khobar




সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সিংগাইরের উত্তর জামসা আশ্রয়ন প্রকল্প

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮১ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সংস্কারের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে উত্তর জামসা আশ্রয়ণ প্রকল্প। নির্মাণের ১৮ বছরেও কোন সংস্কার না করায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন আশ্রয়ণের বাসিন্দারা। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বার বার জানিয়েও মেলেনি প্রতিকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে তৎকালীন সরকার সিংগাইরের উত্তর জামসা গ্রামে দুস্থ ও ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণ করেছিল। প্রকল্পের ৬০টি ঘরে ভূমিহীন, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসহায় পরিবার পেয়েছিল স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ। বর্তমানে এ ঘরগুলো হয়ে পড়েছে বসবাসের অনুপযোগী। জরাজীর্ন ঘরগুলোতে একটু বৃষ্টি হলেই চুইয়ে পরে পানি। ভেঙ্গে গেছে ঘরের বেড়া ও দরজা-জানালা। ঘরের চালায় পলিথিন দিয়ে কোন রকম বসবাস করে আসছেন আশ্রয়ণের বাসিন্দারা। গোসলখানা, টয়লেট ও টিউবওয়েল গুলোরও বেহাল দশা। প্রায় তিন বছর আগে আগুন লেগে পুড়ে যায় ১০ টি ঘর। অন্যত্র সরে যাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই ভাঙাচোরা ঘরে বসবাস করছেন তারা।

আশ্রয়নের বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, আশ্রয়ের মোট ৬টি প্লটে ১০টি করে ঘর রয়েছে। এই ৬০টি ঘরে প্রায় ২৫০ জন মানুষ বসবাস করে। ঘরগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করার কারণে আমরা অনেক কষ্ট করে এখানে বসবাস করছি। এর মধ্যে তিন বছর আগে আগুন লেগে ১০টি ঘর পুড়ে গিয়েছিল। পুড়ে যাওয়া ঘরের মানুষগুলো আশেপাশের ঘরগুলোতে কষ্টে বসবাস করছে।

রিজিয়া নামের আরেক নারী জানান, টিনের চাল, দরজা, জানালাগুলোও ভেঙ্গে গেছে। ভাঙ্গাচোড়া এই ঘরে ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট হয়। বৃষ্টি ঠেকাতে আমরা পলিথিন টানিয়ে ঘরে বসবাস করছি। কিন্তু এতেই আমরা বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছিনা। বাইরে বৃষ্টি পড়ার আগেই যেন আমাদের ঘরে বৃষ্টি পরে এমন অবস্থায় আমরা চলছি।

নুরজাহান নামের আরেক বাসিন্দা জানান, আবাসনের টয়লেট, গোছলখানারও খুব খারাপ অবস্থা। চাল ও বেড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চট ও বস্তা দিয়ে সেগুলো আমরা ব্যবহার করছি। এর আগে অনেকেই এসেছে, ঠিক করে দেওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।

সিদ্দিকুর রহমান নামের এক বৃদ্ধ জানান, এখানকার সবাই অসহায় দু:স্থ মানুষ। আমাদের কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলেই আমরা আবাসনে থাকি। এটি যে আমরা ব্যক্তিগত ভাবে ঠিক করবো সেই অর্থও আমাদের নেই। যদি তাই থাকতো তাহলে এত কষ্ট করে এখানে থাকতাম না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন তিনি যেন আমাদের আশ্রয়ন প্রকল্পটিকে সংস্কার করে দেন।

জামসা ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মহোদয়কে একাধিকবার জানানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে এখানকার বাসিন্দার অত্যন্ত মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানাচ্ছি এটিকে দ্রুত সংস্কার করে বাসিন্দারের বসবাসের উপযোগী করে দেওয়ার।

এব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনা লায়লা জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটিকে সংস্কার করা হবে।

আ/লি




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর