সম্পত্তি বন্টন ও মুসলিম আইন | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
সম্পত্তি বন্টন ও মুসলিম আইন | সব খবর | Sob khobar




সম্পত্তি বন্টন ও মুসলিম আইন

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২০
  • ২২৮ জন পড়েছে
সম্পত্তি বন্টন ও মুসলিম আইন
মো: আব্দুর রাজ্জাক

কোন মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির উপর তার ওয়ারিশ গণের যে অধিকার জন্মায়, তার প্রেক্ষিতে মৃত্যু ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তার সুষ্ঠ সমাধান মহান আল্লাহপাক পবিত্র কুরআন এ সুরা নিসায় উল্লেখ করেছেন। এরপরও মৃত্যু ব্যক্তির সম্পত্তি সঠিকভাবে বন্টন না করলে, তা মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অমান্যকরন তথা সরাসরি কোরআন শরীফ উল্লেখিত আদেশ অমান্যকরন।

বাংলাদেশ এ মুসলিমদের ক্ষেত্রে দেখা যায় নারীদের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন শরীফ এ নারীদের অধিকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তথাপি বাবা মায়ের মৃত্যুর পর ভাই বোনের অংশ দিতে নারাজ, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী তার প্রাপ্য পায়না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয় ওয়ারিশদের মধ্যে বন্টন সমস্যা। এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে বন্টনের মামলা। বন্টনের মামলার জন্য ওয়ারিশগণের যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন তা হলো

সম্পত্তির মালিকানা সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র যেমন ভূমি জরিপ খতিয়ান, নামজারি খতিয়ান, মালিকানা দলিল, উত্তরাধিকার সনদ ইত্যাদি সংগ্রহে রাখতে হবে। সম্পত্তি বন্টন করা জটিল হলে আদালত The partition Act, 1893 অনুযায়ী বিক্রির আদেশ দিতে পারেন। মুসলিম আইন অনুযায়ী তিন ধরনের প্রধান শ্রেণীর উত্তরধিকার রয়েছে-অংশীদার, অবশিষ্টভোগী, দূরবর্তী আত্ত্বীয়। পবিত্র কোরআন এ ১২ জন উত্তরাধিকারের কথা বলা হয়েছে। ৮ জন মহিলা ও ৪ জন পুরুষ। অংশীদারদের অংশ প্রদানের পর মা থাকবে তা বন্টিত হবে অবশিষ্টভোগীদের মধ্যে।

অংশীদারদের অংশ উল্লেখ করা হলো:

স্বামীঃ স্বামীর কোন ঔরষজাত সন্তান না থাকে তাহলে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবেন। আর যদি ঔরষজাত কোন সন্তান থাকে তাহলে ১/৪ অংশ (এক চতুর্থাংশ)

স্ত্রীঃ স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর দুই ধরনের অবস্থা হতে পারে। যদি মৃত স্বামীর কোন সন্তান না থাকে তাহলে ১/৪ অংশ (এক চতুর্থাংশ) পাবেন।আর যদি কোন সন্তান থাকে তাহলে ১/৮ অংশ (এক অষ্টমাংশ) পাবেন।

উল্লেখ্য, একাধিক স্ত্রী জীবিত থাকলেও সবাই মিলে এক স্ত্রীর প্র‍্যাপ্য অংশ পাবেন এবং এক স্ত্রীর প্র‍্যাপ্য অংশ সবাই নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিবেন।

পিতাঃ সন্তান মারা গেলে পিতার তিন অবস্থা। যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র (আপন পুত্র বা পুত্রের পুত্র- এভাবে অধস্তন কোন পুরুষ) থাকে তাহলে পিতা সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবেন।যদি মৃত সন্তানের কোন পুত্র (আপন পুত্র বা পুত্রের পুত্র- এভাবে অধস্তন কোন পুরুষ) না থাকে কিন্তু তার কোন কন্যা (আপন কন্যা বা কন্যার কন্যা- এভাবে অধস্তন কোন নারী) থাকে তাহলে পিতা ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে এবং অবশিষ্ট অংশ পাবেন।যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তানই না থাকে (চাই তা যত অধস্তনই হোক না কেন) তাহলে পিতা সকল অংশ পাবেন।

মাতাঃ সন্তান মারা গেলে মায়ের তিন অবস্থা হতে পারে। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান থাকে কিংবা একাধিক ভাইবোন থাকে তাহলে মা সমুদয় সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবেন। যদি মৃত ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রীর সাথে পিতা মাতা উভয়ে থাকে তাহলে সম্পত্তি থেকে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেয়ার পর মা বাকি সম্পত্তির ১/৩ অংশ (এক তৃতীয়াংশ) পবেন। যদি মৃত ব্যক্তির কোন সন্তান না থাকে বা ভাইবোন ২ জনের কম থাকে এবং স্ত্রী কিংবা স্বামী জীবিত না থাকে তাহলে মা সমুদয় সম্পত্তির ১/৩ অংশ (এক তৃতীয়াংশ) পাবেন।

দাদাঃ দাদা দ্বারা উদ্দেশ্য হল পিতার বাবা, পিতামহের বাবা, প্রপিতামহের বাবা এভাবে পুরুষযোগে ঊর্ধ্বতন সকলেই দাদার হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে তাহলে দাদা বঞ্চিত হবে। তবে মৃত ব্যক্তির পিতা যদি জীবিত না থাকে তাহলেই শুধুমাত্র দাদা মিরাসের সম্পত্তি পাবে। আর দাদার মিরাসের সম্পত্তির ক্ষেত্রে পিতার ন্যায়। অর্থাৎ পিতা যে অবস্থায় যতটুকু পেয়েছে দাদা সে অবস্থায় ততটুকু পাবে।

দাদী বা নানীঃ দাদী দ্বারা উদ্দেশ্য হল পিতার মা, পিতামহের মা, পিতা মহীর মা, প্রপিতামহের মা, প্রপিতামহীর মা এভাবে ঊর্ধতন সকলেই দাদীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে নানী দ্বারা উদ্দেশ্য মায়ের মা, নানীর মা, নানীর নানী এভাবে ঊর্ধ্বতন সকলেই নানীর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। দাদী ও নানীর তিন অবস্থা হতে পারে। যদি মৃত ব্যক্তির পিতা-মাতা, দাদা বা ঊর্ধ্বতন কেউ যদি জীবিত না থাকে তাহলে দাদী এবং নানী উভয়ে সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে। যদি মৃত ব্যক্তির মা জীবিত থাকে তাহলে দাদী এবং নানী উভয়ে বঞ্চিত হবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির পিতা জীবিত থাকে তাহলে দাদী বঞ্চিত হবে কিন্তু নানী যথারীতি ১/৬ অংশ হবে।

কন্যাঃ বাবার মৃত্যুর পর কন্যার তিন অবস্থা হতে পারে। যদি শুধুমাত্র একজন কন্যা থাকে এবং কোন পুত্র না থাকে তাহলে সে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবে। আর কন্যা যদি একাধিক থাকে এবং কোন পুত্র না থাকে তাহলে সবাই ২/৩ অংশ (দুই তৃতীয়াংশ) পাবে। আর যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র এবং কন্যা একসাথে থাকে তাহলে পুত্র-কন্যা ২:১ অনুপাতে পাবে।

পুত্রের কন্যা: পুত্রের কন্যা দ্বারা উদ্দেশ্য হল আপন পুত্রের কন্যা, পৌত্রের কন্যা, প্রপৌত্রের কন্যা এভাবে অধস্তন সকল পুত্রের কন্যা। তারা একে অপরের অবর্তমানে দাদার সম্পত্তি থেকে অংশ লাভ করবে। এদের অংশ পাওয়ার জন্য শর্ত হল মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র কিংবা একাধিক কন্যা জীবিত না থাকা। পুত্রের কন্যাদের ছয়টি অবস্থা হতে পারে। যদি মৃত ব্যক্তির কোন পুত্র-কন্যা না থাকে এবং শুধুমাত্র একজন পৌত্রী থাকে তাহলে সে সম্পত্তির ১/২ অংশ (অর্ধেক) পাবে।আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক পৌত্রী থাকে তাহলে সবাই মিলে সম্পত্তির ২/৩ অংশ (দুই তৃতীয়াংশ) পাবে। আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির কোন পৌত্র থাকে এবং সাথে এক বা একাধিক পৌত্রী থাকে তাহলে পৌত্রীগণ অবশিষ্টভোগী হয়ে যাবে এবং অংশীদার কে তাদের অংশ দেয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তা পৌত্র এবং পৌত্রীগণ ১:২ অনুপাতে পাবে। যদি মৃত্যু ব্যক্তির কোন পুত্র না থাকে কিন্তু একজন মাত্র কন্যা থাকে এবং সাথে এক বা একাধিক পৌত্রী থাকে তাহলে পৌত্রীগণ সবাই মিলে সম্পত্তির ১/৬ অংশ (এক ষষ্ঠাংশ) পাবে। আর যদি উল্লেখিত অবস্থায় মৃত ব্যক্তির একাধিক কন্যা থাকে তাহলে ২/৩ পাবে

আপন বোন: যদি মৃত ব্যক্তির পুত্র-কন্যা, পিতা ভাই কেউ জীবিত না থাকে এবং আপন বোন একজন থাকে তাহলে বোন অংশীদার হিসেবে ১/২ পাবে ।আপন বোন একাধিক থাকলে ২/৩ অংশ পাবে।আপন ভাইয়ের সাথে বোন অবশিষ্টভোগী হিসেবে ২:১ অনুপাতে পাবে।যদি আপন ভাই না থাকে এবং একজন কন্যা থাকে তবে আপন বোন ১/৬ পাবে। একাধিক কন্যা থাকলে আপনবোনরা অবশিষ্টভোগী হবে। মৃত ব্যক্তির পুত্র কিংবা পিতা থাকলে আপন বোনেরা বন্ঞ্ছিত হবে।

বৈপিত্রেয় বোন: মৃত ব্যক্তির পুত্র কন্যা অধস্তন কেউ বা পিতা দাদা উর্ধ্বতন কেউ না থাকে আর বৈপিত্রেয় বোন একজন হলে ১/৬ অংশ পাবে। একাধিক থাকলে ১/৩ অংশ পাবে।

বৈমাত্রেয় বোন: মৃত ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র, বা অধস্তন কেউ বা পিতা দাদা উর্ধ্বতন কেউ না থাকে আর বৈমাত্রেয় বোন একজন থাকে তাহলে ১/২ অংশ পাবে। একাধিক থাকলে ২/৩ পাবে। মৃত ব্যক্তির একজন আপন বোন থাকলে পাবে ১/৬ অংশ। একাধিক আপন বোন থাকলে বৈমাত্রেয় বোন বাদ যাবে। একাধিক আপন বোন থাকলে ও বৈমাত্রেয় ভাই বোন থাকলে অবশিষ্টভোগী হিসেবে ২:১ পাবে। আপন বোন না থাকলে বৈমাত্রেয় বোন অবশিষ্টভোগী হবে।

বৈপিত্রেয় ভাই: ব্যক্তির পুত্র, পুত্রের পুত্র, বা অধস্তন কেউ বা পিতা দাদা উর্ধ্বতন কেউ না থাকে আর একজন বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তাহলে ১/৬ অংশ পাবে। একাধিক বৈপিত্রেয় ভাই থাকে তাহলে সবাই মিলে ১/৩ অংশ পাবে।

The Muslim Family Laws Ordinance, 1961 এর ৪ ধারা অনুযায়ী কোন মৃত ব্যক্তির সন্তান তার পূর্বে মারা গেলে তার নাতি নাতনি মৃত ব্যক্তির মৃত সন্তানের স্থলাভিষিক্ত হবেন। সাধারণত মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে তার দেনা পরিশোধ, দাফন কাফন শেষ করেই তার সম্পত্তি বন্টন করা উচিত।

লেখক: মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, আইনজীবী, ঢাকা জজকোর্ট।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর