স্বপ্ন যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
স্বপ্ন যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ - সব খবর | Sob khobar




স্বপ্ন যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯
  • ৩৪৪ জন পড়েছে

ইতিমধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে গেছে। কেউ সফল হয়েছে, কেউ আবার ব্যর্থতা আর হতাশার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে আছে। ঢাকা আর চট্টগ্রামের মাঝামাঝি কুমিল্লা শহর। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ০৮ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে সুবিখ্যাত মৌর্য-সাম্রাজ্যের প্রাচীন সভ্যতার নীরব সভ্যতার নীরব সাক্ষী ময়নামতির পাশে অবিরাম সবুজ শালবন ও লালমাই পাহাড়ের মাঝে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নান্দনিক ক্যাম্পাস। ধূমপান ও রাজনীতিমুক্ত ব্যানার নিয়ে ২০০৬ সালে শুভ যাত্রা শুরু করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

আর বেশিদিন বাকি নেই এই নান্দনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার। সামনেই কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা।প্রতি ইউনিটে লড়বে ৬৫ জন ভর্তি যোদ্ধা। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগিতা ‘এ’ ইউনিটে। এই ইউনিট শুধু বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। তাই এ ইউনিটের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থী উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাময়ন আহমেদের নানান পরামরর্শের কথা জানাচ্ছেন সবখবরের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তানভীর আহমেদ রাসেল।

‘এ’ ইউনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে দুইটি অনুষদ। ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে সিএসসি, আইসিটি এবং বিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ফার্মেসী, রসায়ন, পদার্থ, গনিত, পরিসংখ্যান।

ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিঃ ভর্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ১৫০। এর মধ্যে এমসিকিও পদ্ধতির ১০০ নম্বর এবং এসএসসি- এইচএসসি জিপিএ ( চতুর্থ বিষয়সহ) থেকে ৫০ নম্বর নেয়া হবে।

‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টনঃ বাংলা-১০, ইংরেজি-১৫, পদার্থ-২৫, রসায়ন-২৫, গনিত/জীববিজ্ঞান-২৫।

‘এ’ ইউনিটে গনিত আর জীববিজ্ঞান এর মাঝে যেকোনো একটি উত্তর করতে হবে। গনিত উত্তর দিলে সকল বিষয়ে ভর্তি হতে পারবে। জীববিজ্ঞান উত্তর দিলে আইসিটি, সিএসই ও গনিত ছাড়া সকল বিষয়ে ভর্তি হতে পারবে।

এখন শেষ মূহুর্তে যেভাবে পড়া উচিত-

বাংলা : এ ইউনিটে ভর্তিপরীক্ষায় ভালো করতে হলে বাংলায় ভালো নম্বর তুলতে হবে। কারণ সমস্যা হলো যে, আমাদের প্রজন্ম ছোটবেলা থেকেই ব্যাকরণকে ভয় করে আসছে, আর তাদের এই ব্যাকরণ ভয়ের কারনে অনেকে ভর্তি পরীক্ষার পিছিয়ে পড়ছে। এই ভয়কে জয় করতে হবে ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হতে হলে।
আর ব্যাকরণ এমন কঠিন কিছু নয়, শেষ মুহূর্তে এসে ব্যাকরণ নিয়ে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখতে থাকো আর কোন কোন টপিক বেশি দরকারি, সেগুলো খুব করে প্র্যাকটিস করতে থাকো। প্রথম পত্রের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশেষ করে কবিতার লাইন, কবি ও লেখক পরিচিতি এবং গল্প ও কবিতার উৎস, গল্পের উপজীব্য বিষয় ভালোভাবে পড়তে হবে।

ইংরেজি : সাধারণত গ্রামার থেকেই বেশি প্রশ্ন করা হয় ইংরেজিতে। গ্রামারে ভালো দখলে থাকলে এ বিষয়ে ভালো নম্বর তোলা সহজ।

শব্দভিত্তিক অর্থাৎ vocabulary, synonym, antonym থেকেও অনেক প্রশ্ন হয়। বিশেষ করে বোর্ড নির্ধারিত বইয়ের কঠিন কঠিন শব্দগুলো আয়ত্তে আনতে হবে।

মনে রাখা উচিত বাংলা আর ইংরেজির ২৫ নম্বরএকজন শিক্ষার্থীকে ভাল পজিশন, ভাল সাব্জেট পাওয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

রসায়ন : রসায়নে গাণিতিক ও তাত্ত্বিক প্রশ্ন প্রায় সমানুপাতিক হারে আসে। গাণিতিক অংশে ভালো করার জন্য বিভিন্ন একক ও সংকেত ভালোভাবে আয়ত্তে আনতে হবে। কারণ একক কিংবা সংকেত থেকেও অনেক প্রশ্নের সম্ভাব্য উত্তর খুঁজে বের করা যায়।

তাত্ত্বিক অংশের জন্য যোজনী, বিক্রিয়া, ভর, তুল্য সংখ্যা, সংকেতসহ সব অধ্যায় মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে। রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো নাম সহ বুঝে পড়তে হবে।

রসায়নের ক্ষেত্রে ভুল উত্তর ও সঠিক উত্তরের মধ্যে পার্থক্য খুব কম থাকে। তাই সতর্ক থাকতে হবে উত্তর করার সময়।

বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবক, তাপমাত্রার চাপের মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে বুঝতে ভুল না হয়। কারণ এই অংশেই মান চেন্স করে কনফিউশন তৈরি করা হয়।

আর মৌলিক সূত্র এবং ইলেকট্রন বিন্যাসের সূত্রগুলো কোনভাবেই ভুলে গেলে চলবে না। এগুলা ভালোভাবে রিভিশন দেওয়া উচিত এখন।

পদার্থবিজ্ঞান : পদার্থবিজ্ঞানে তাত্ত্বিক প্রশ্নের সাথে সাথে কিছু গানিতিক সমস্যাও আসে। তাই গাণিতিক প্রশ্ন, এই ভাগে আলাদা নজর দিতে হবে।

গাণিতিক প্রশ্নের সমাধানের জন্য প্রতিটি সূত্র এমনভাবে পড়তে হবে, যাতে পরীক্ষার হলে আর চিন্তা করে বের করতে না হয়। কারণ সূত্র চিন্তা করে বের করার কোন সময় নাই।

পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ব্যবহারের সুযোগ নেই। তাই পদার্থবিজ্ঞানের যে ক্যালকুলেশন গুলো আমরা সচারচর হাতে করতে অভ্যস্ত নই, এমন কিছু ক্যালকুলেশন হাতে করার প্র্যাকটিস করতে হবে।

বইয়ের সকল লেখচিত্রের ব্যাখ্যা বুঝতে হবে। কারণ এই লেখচিত্র থেকে প্রায়ই প্রশ্ন আসে।

তাত্ত্বিক প্রশ্নগুলোর উত্তর করার জন্য বেশি গভীরে যাওয়া লাগবে না। পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক বিষয়গুলো থেকেই তাত্ত্বিক প্রশ্ন বেশি আসে।

গনিত : ক্যালকুলেটর না থাকায় অনেকের গণিত করতে একটু সমস্যা হবে। এতে লাভও হয়েছে। কারণ জটিল গাণিতিক সমস্যা আসার সম্ভাবনাও কমে গেছে। অর্থাৎ মৌলিক ও টেকনিক্যাল অংকগুলো বেশি আসে। ছোট-মাঝারী অঙ্কগুলোও যত সংক্ষিপ্ত আকারে সমাধান করা যায় ততই ভালো। গণিতে ভালো করার জন্য নিয়মিত অনুশীলন ও সূত্র মনে রাখার কোন বিকল্প নাই। তাই সূত্রগুলা মনে রাখার জন্য বারবার পড়া উচিত। সাথে বিগত বছরগুলোতে কি প্রশ্ন আসছে সেগুলা সলভ উচিত এখন।

জীববিজ্ঞান : জীববিজ্ঞানে প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র থেকে সাধারণত সমানসংখ্যক প্রশ্ন থাকে। এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হয়। প্রতিটি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন আসে বলে কোনো কিছুই বাদ দেওয়া উচিত নয়।

বৈজ্ঞানিক নাম, বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিন্যাস বেশি বেশি পড়তে হবে। কারণ এই দিকটা না পারলে আন্দাজ করে কিছুই পারা যায় না। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বইয়ের পড়াই যথেষ্ট।

জীববিজ্ঞানের জন্য বিগত বছরের প্রশ্ন সব ব্যাখা সহ মুখস্ত করতে হবে। কারণ জীববিজ্ঞানে প্রশ্ন রিপিট হতে দেখা যায়।যে টপিকস থেকে বিগত কোন এক বছরে আসছে, সেই টপিকসগুলোর বিস্তারিত আগে ভালোভাবে পড়তে হবে। এভাবে পড়লে জীববিজ্ঞান সাবজেক্টে ৭০% থেকে ৮০% পর্যন্ত কমন ফেলানো যাবে। পরিশেষে সকল ভর্তিযোদ্ধাদের প্রতি রইল শুভকামনা। স্বাগতম লাল মাটির কুবি ক্যাম্পাসে।

লেখক : সায়মন আহমেদ, ফার্মেসী বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সেশন – ২০১৫-১৬ ।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর