স্বাধীনতা পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
স্বাধীনতা পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য - সব খবর | Sob khobar




স্বাধীনতা পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১২৬ জন পড়েছে

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে অসামান্য অবদান রাখাসহ ২২ হাজার নারী-পুরুষকে নিজ হাতে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ করানোর বিরল রেকর্ডের অধিকারী এই মানুষটির “স্বাধীনতা পুরস্কার”( মরনোত্তর) প্রাপ্য।

কেন এই দাবি, এমন প্রশ্ন করার পাশাপাশি আসুন একটু পড়ে নেই কেন এই দাবি।

প্রথমেই বলে রাখি,যে ক্যাটাগরিতে তাঁর জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার দাবি করছি,সে ক্যাটাগরিটি নীতিমালায় আছে এবং পুরস্কৃতও করা হয়েছে।

“গরিবের ডাক্তার”খ্যাত, সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডাঃ সামসুর রহমান। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন আমৃত্যু প্রগতিবাদী এ মানুষটি। ডাক্তার হিসেবে নিজ হাতে ২২ হাজার মানুষের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ করানোর অনন্য রেকর্ডটিও তাঁর। সংখ্যাটা মাথায় রাখি,২২ হাজার,তাও বিরুদ্ধ সময়ে।

শুরুতেই বলেছি, তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের তুলনায় অনেক অগ্রসর চিন্তা এবং বিশ্বাসের মানুষ।

সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে যখন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহনকে আমাদের সমাজ “পাপ” বলে ভাবতো সে সময়ই তিনি পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি নিয়ে ভেবেছিলেন,মাঠে নেমে কাজ করেছিলেন।

১৯৭২-৭৩ সালের দিকে বন্ধু, সমমনাদের নিয়ে মানিকগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন “জনসংখ্যা সিমীতকরণ সমিতি”। এই সংগঠনটি মানিকগঞ্জ তথা সারাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচীর সফলতার অগ্রদূত।

চমকে দেয়ার মত আরও একটি তথ্য প্রকাশ্যে আসা জরুরী,সেটি হল পাকিস্তান আমলে তিনিই প্রথম পুরুষ যিনি নিজের ভ্যাসেক্টমির মাধ্যমে জন্মনিয়ন্ত্রন পদ্ধতি গ্রহন করেছিলেন। সে সময়ে যা ছিল দুঃস্বপ্ন।

ডাক্তার হিসেবে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ করিয়েছেন ২২ হাজার নারী,পুরুষের। যা বাংলাদেশের একক কোন চিকিৎসকের গড়া বিরল রেকর্ড।

ডাঃ সামসুর রহমান ব্যক্তিজীবনে একজন সংগ্রামী মানুষ ছিলেন। ৪০ দশকের শুরুতেই কলকাতার তৎকালীন ক্যাম্পবেল মেডিকেল কলেজের (বর্তমানের এনআরসি মেডিকেল কলেজ) ছাত্র থাকাকালে অবিভক্ত ভারতবর্ষের বিখ্যাত বাম নেতা কমরেড মুজাফ্ফর আহাম্মদের সাহচর্য লাভ করেন।

ডাক্তারী পাশের পর কলকাতার একাধিক হাসপাতালে চাকুরী করেছেন । এরপর চিকিৎসক হিসেবে যোগ দেন সরকারি চাকুরীতে। কিন্তু খাপড়া ওয়ার্ড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরকারি চাকুরী ছেড়ে দেন।

৪৭ এর দেশ ভাগের পর মানিকগঞ্জ শহরে স্থায়ীভাবে থেকে প্র্যাকটিস শুরু করাসহ বাম ধারার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন, জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন রাজনীতি, সাধারণ মানুষ আর সমাজসেবাকে।

পাকিস্তানী অপশাসনের বিরুদ্ধে ডাঃ সামসুর রহমান ছিলেন সোচ্চার প্রতিবাদী মানুষ। পাকিস্তানী শাসনের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের অগ্রসৈসনিক হিসেবে মানিকগঞ্জের মানুষের কাছে শ্রদ্ধার আসন পেয়েছিলেন।

৫২’র ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় সৈনিক এ মানুষটি পাকিস্তানী শাসকদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সহযোদ্ধাদের সাথে থেকে নির্মান করেছিলেন মানিকগঞ্জের প্রথম শহীদ মিনার। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

তাঁর বাড়ির দরজা ছিল প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের জন্য অবারিত, তিনি ছিলেন তাঁদের দুঃসময়ের ঠিকানা,আশ্রয়।

একজন জনপ্রিয় চিকিৎসক, রাজনীতিক,সমাজসংগঠক হিসেবে গণমানুষের আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালবাসায় সিক্ত হয়ে ১৯৯৫ সালের ৩০ আগস্ট পরলোকে গমন করেন।

২৬ তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে মহৎপ্রাণ মানুষটিকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অসামান্য অবদান রাখার জন্য ‘স্বাধীনতা পুরস্কার'( মরনোত্তর) প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পদকের বিভিন্ন ক্যাটাগরির মধ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে অবদান রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

১৯৭৭ সালে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরউল্লাহ চৌধুরীকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে অবদান রাখায় ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়েছিল।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, খান বাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজ, মানিকগঞ্জ।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর