হার না মানা একজন রজ্জব আলী - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
হার না মানা একজন রজ্জব আলী - সব খবর | Sob khobar




হার না মানা একজন রজ্জব আলী

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৫১৯ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ: পা দুটো অচল, ব্যাটারি চালিত ছোট্ট একটি তিন চাকার গাড়িতে চলাচল করেন প্রতিবন্ধী রজ্জব আলী শিকদার। বয়স পেড়িয়েছে ৬০ কোঠায়। প্রতিবন্ধী হয়েও জীবনে কোনদিন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে ঘুরেননি দ্বারে দ্বারে। এই বয়সেও তিন চাকার ছোট রিকশা চালিয়ে বাজারে বাজারে ঘুরে আতর বিক্রি করে সংসার চালান রজ্জব।

রজ্জব আলী সিংগাইরের পাড়িল গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর সন্তান। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়েই তার পরিবার। তিন ছেলে মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে বেশ কয়েক বছর আগেই। তিন বছর আগে ছেলে জাকির হোসেন ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় ফ্রি ভিসা নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন সৌদি আরবে। কিন্তু ছেলে সৌদি আরবে খুব খারাপ অবস্থায় দিনযাপন করছে বলে জানান তিনি। এখন পরিবার বলতে তিনি ও তার স্ত্রী।

রজ্জব আলী জানান, ১২ বছর বয়সেই টাইফয়েড জ্বরে তার পা দুটি একেবারেই অচল হয়ে যায়। ছোট বেলাতেই জীবনের তাগিদের জন্য শিখেন দর্জির কাজ। ১৫ বছর দর্জি কাজ করার পর শারীরিক সমস্যার কারনে আর কাজ করতে পারছিলেন না। তখন পেট চালানোই দায় হয়ে পড়ে তার। অভাবের তাড়নায় প্রতিবন্ধী হয়েও ভিক্ষা না করে কঠিন পরিশ্রম করে সিংগাইরের আনাচে কানাচে আতর বিক্রি করে চলছে তার সংসার।

তিনি আরো বলেন, আমি তো অচল মানুষ আমার চলার একমাত্র মাধ্যম হলো এই ব্যাটারি চালিত ছোট গাড়িটি। আগে সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নানা রকমের আতর বিক্রি করতে পারতাম এখন আমার বয়স আর গাড়ির খরচ বাড়াতে বেশি ঘুরতে পারিনা। এখন জামশা বাজার, চারিগ্রাম, বরুন্ডি ও সিংগাইরের হাটবাজারে আতর বিক্রি করি। আল্লাহর রহমতে প্রতিদিন ২/৩শ টাকার আতর বিক্রি করি। হাটের দিন মাঝে মাঝে চার পাঁচশো টাকাও বিক্রি হয়।

আতর কোথা থেকে কিনে আনেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যে আতর গুলো বেশি বিক্রি করি তা হলো গোলে লায়লা, ম্যাগনেট, দরবার, কাঁচাবেলি, পয়জন। এগুলো আমি ঢাকার মিডফোর্ড থেকে কিনে আনি। যেদিন আতর কিনতে ঢাকা যাই সেদিন সকালে আমার স্ত্রী আমাকে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে বাসে বসিয়ে দেয়। মিডফোর্ডে সে দোকানের সামনে গেলে যে আতরগুলো আমার লাগবে তা তারা প্যাকেট করে রাখে ওই বাসে করেই ফেরার পথে তা নিয়ে আসি।

কোন সাহায্য সহযোগিতা পান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী। আমার সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড আছে। প্রতিমাসে ৭০০ প্রতিবন্ধী ভাতা পাই তা সংসারের কাজে লাগে। এছাড়া অন্য কোন সাহায্য সহযোগিতা পাই না।

স্থানীয় বাবুল হোসেন জানান, রজ্জব কাকা অনেক দিন ধরেই বাজারে বাজারে আতর বিক্রি করে আসছে। আগে তিনি দর্জি কাজ করতো। তার এমন অবস্থায় তিনি কখনো কারো কাছে হাত পাতেননি। বয়সের ভারে আগের মত এখন আর ঘুরতে পারেন না। যদি কোন ব্যক্তি তার পাশে দাড়াতো তাহলে বাকি জীবনটা একটু হলেও ভালো যেত।

সবখবর/ আআ




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর