হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কিত কিছু কথা | সব খবর | Sob khobar হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কিত কিছু কথা | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :




হোম কোয়ারেন্টাইন সম্পর্কিত কিছু কথা

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০
  • ১৫১ জন পড়েছে
Sobkhobar

বাংলাদেশে বেড়েই চলেছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। মূলত দেশে নভেল করোনা ভাইরাস বা (কোভিড-১৯) এর উৎপত্তি সেই সকল ব্যক্তি হতে যারা সংক্রামিত দেশ থেকে এসেছে। প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। বর্তমানে কিছু প্রবাসীর অসতর্কতার কারণে আজ তারা হয়ে উঠছে দেশের সকলের আতঙ্কের কারণ। নিরাপত্তার জন্য দেশে আসার পর পরই তাদের কয়েক দিন কোয়ারেন্টাইন থাকা আবশ্যক। নিজের স্বার্থে পরিবারের স্বার্থে তথা দেশের স্বার্থে এটা সকল প্রবাসীর মেনে চলা উচিত। কুমিল্লা, লক্ষীপুর ও নোয়াখালীতে তুলনামূলক প্রবাসীর সংখ্যা বেশি থাকার কারণে এই এলাকাগুলো একটু বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতালি, ইরানের মতো করুণ অবস্থায় যাতে বাংলাদেশকে পড়তে না হয় তা ঠেকাতেই দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে নানা রকম সতর্কতা। ৩১ই মার্চ পর্যন্ত সমস্ত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও দোকান মালিক সমিতি, সকল বিপণী বিতান এবং শপিংমল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের ঝুঁকিপূর্ণ সকলকেই হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে বলা হচ্ছে, যার বাংলা অর্থ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সেকথা মানছেন না অনেকেই। কেউবা শপিং এ ব্যাস্ত আবার ছুটি ভেবে অনেককে ঘুরতেও দেখা যাচ্ছে। কেউ আবার জানেন না, কোয়ারেন্টাইন কি বা কিভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এ সম্পর্কে কিছু কথা-

হোম কোয়ারেন্টাইন কি এবং কিভাবে তা নিশ্চিত করতে হবে?

বাসার একটি কক্ষে যেখানে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা আছে, এমন একটি কক্ষে অবস্থান করতে হবে এবং চিকিৎসা বিষয়ক জরুরি প্রয়োজনীয়তা ছাড়া ঘরের বাইরে একেবারেই যাওয়া যাবে না। ঘরের মাঝে ও অন্যান্য সদস্যদের থেকে পৃথক থাকতে হবে। তা যদি সম্ভব না হয় তবে, অন্যদের থেকে অন্তত এক মিটার (৩ ফুট) দূরে থাকুন, ঘুমানোর জন্য পৃথক বিছানা ব্যবহার করতে হবে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিকে ডিসপোসাবলে প্লেট ও গ্লাসে খেতে দিতে হবে। যদি সম্ভব হয় আলাদা টয়লেট ব্যবহার করা ভালো। ধারণা করা হচ্ছে পশু পাখি এই রোগের বাহক তাই নিজেদের সাথে কোনো পশু-পাখি না রাখা ভালো। সর্বদা মাস্ক ব্যবহার করতে হবে আর মাস্ক পরার পর বারবার তাতে হাত দেওয়া যাবে না। এছাড়াও মাস্ক পরা অবস্থায় যদি সর্দি, কাশি, বমি ইত্যাদি হলে সাথে সাথে মাস্ক খুলে ফেলতে হবে এবং এই মাস্ক আর ব্যবহার না করাই ভালো। ব্যবহৃত মাস্ক ব্যবহারের পর ঢাকনিযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলতে হবে এবং সর্বদা সাবান দিয়ে ভাল ভাবে হাত ধুতে হবে।

হোম কোয়ারানটিন এর সময়সীমা কতদিন?

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কোয়ারেন্টাইনের সময় নির্ধারণ করা হয়। তবে, এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ সময়সীমা ১৪দিন।

কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সাথে কিভাবে পরিবারের সদস্যরা যোগাযোগ রাখবে?

যদি কেউ কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে বা তার ঘরে ঢুকে তাহলে তাকে অবশ্যই হাত মুখ ধুতে হবে। এছাড়াও খাবার তৈরির আগে ও পরে ভালো করে হাত পরিষ্কার করতে হবে। আমাদের ব্যবহৃত গ্লাভস পরার আগে ও খোলার পরে হাত ধুতে হবে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির ব্যবহৃত বা তার পরিচর্যায় ব্যবহৃত মাস্ক, গ্লাভস, টিস্যু ইত্যাদি অথবা অন্য আবর্জনা ওই রুমে রাখা ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে যেন রাখি। এ সকল আবর্জনা খোলা জায়গায় না ফেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে নিকটস্থ স্বাস্থসেবা কেন্দ্রের মোবাইল নম্বর সংগ্রহে রাখতে হবে।

কিভাবে নিজেকে ও অন্যদেরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবো?

করোনার সবচেয়ে ভয়াবহতা হলো সংক্রমণ। এটি খুব দ্রুত একজনের দেহ থেকে অন্য জনের দেহে ছড়িয়ে পরে। এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে সবসময় হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে (অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে)। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। ময়লাযুক্ত হাতে কখনো ও চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। হাঁচি বা কাশি দেয়ার সময় অবশ্যই মুখ ঢেকে দিতে হবে। এ সময় টিস্যু পেপার, মেডিকেল মাস্ক, কাপড়ের মাস্ক বা বাহুর ভাঁজে মুখ ও নাক ঢেকে রাখতে হবে। নিজের ব্যবহৃত সামগ্রী অন্য কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার না করাই ভালো। সবকিছু ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন গোসল করতে হবে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন পরিমিত পরিমানে খেতে হবে।

পরিশেষে, আজ পুরোবিশ্ব করোনা আতঙ্কে আতঙ্কগ্রস্থ। সেই তুলনায় আমরা এখন পর্যন্ত সচেতন হতে পারিনি। আমাদের একটু অসচেতেনতা কেড়ে নিতে পারে হাজার হাজার প্রাণ। আমরা সবাই হোম কোয়ারেন্টাইন বিধি মেনে চলি, নিজে বাঁচি দেশের সবাইকে বাঁচাই।

সৈয়দ কৌশিক আহমেদ

সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ফার্মেসী বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর