২০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা রঞ্জন - সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
২০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা রঞ্জন - সব খবর | Sob khobar




২০ বছর ধরে শিকলে বাঁধা রঞ্জন

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৩৭৮ জন পড়েছে

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওরে রঞ্জন চন্দ্র কর্মকার নামে এক যুবকের শিকলে বাঁধা বন্দিজীবন কাটছে ২০ বছর ধরে।স্বজনরা জানান, ৬ বছর বয়স থেকেই তিনি মানসিকভারসাম্য হারান। সহায়-সম্বল বিক্রি করেও সুস্থ করতে পারেনি পরিবার। উন্নত চিকিৎসার আশায় মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি সাহায্য।

ঘিওর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সাহাপাড়া এলাকার রুপন চন্দ্র কর্মকারের একমাত্র সন্তান রঞ্জন। ৬ বছর বয়সে রঞ্জনের অস্বাভাবিক আচরণ ধরা পড়ে মা-বাবার চোঁখে। বড় হওয়ার সাথে সাথে মানসিক সমস্যা স্পষ্ট হতে থাকে।একদিকে গেলে আর ফিরতে চাইতো না। মাঝে মাঝে উধাও হয়ে যেত। তাই ছাড়া পেলেই যদি হারিয়ে যায়, সেই ভয়ে পায়ে লোহার শিঁকলের বেড়ি পড়েছে রঞ্জনের।

কাঁচা ঘরের ভাঙ্গাচোরা বাড়ান্দার একটি ছোট্ট কক্ষে দিন-রাত কাটে তার।খাওয়া, ঘুমানোসহ প্রকৃতির ডাকেও সাড়া দেন সেখানে।আত্বীয়-স্বজন সকলেই রঞ্জনের শিকলে বাঁধা এমন জীবন দেখে এক প্রকার অভ্যস্ত। পরিবার সু-চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেছেন অনেকবার।কিন্তু মেলেনি সাহায্য।ছেলের পিছনে সময় দিতে গিয়ে বাবা হয়েছেন কর্মহীন।

রঞ্জনের বাবা রুপণ চন্দ্র কর্মকার জানান, একমাত্র সন্তানের পেছনেই তাকে সারাদিন সময় দিতে হয়।তার স্ত্রীও অসুস্থ।তাদের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি নিঃশ্ব হয়েছেন।অর্থাভাবে সুচিৎসা করাতে পারছেন না।ওয়ারিশান সূত্রে পাওয়া মাত্র ১ শতাংশ জমি ছিলো তার।সেখানেই ঘর করে বসবাস করতেন।কিন্তু সেই জমিটিও বিক্রি করেছেন এক বছর আগে।মালিককে অনুরোধ করে ওই বাড়িতেই আপতত থাকছেন তারা।

রুপন কর্মকার আরো জানান, ছেলের চিকিৎসার জন্য জনপ্রতিনিধি,সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন।বহু আশ্বাস মিললেও, বাস্তবে এগিয়ে আসেননি কেউ।একটু আশ্রয়ের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে খাস জমি চেয়ে আবেদন করেছেন।কিন্তু সেখানেও কোন উদ্যোগ না দেখায় হতাশ তিনি।

রঞ্জনের মা সুমতি রাণী কর্মকার জানান,২৪ ঘন্টাই বাড়ান্দার রুমে পায়ে শিকল বেঁধে রাখা হয় রঞ্জনকে।সারাক্ষণ বেঁধে রাখার কারনে পা দুটি ফুলে গেছে। রঞ্জন নাম ঠিকানা সবই বলতে পারে।কোন মানুষ দেখলেই বাবাকে নাম ধরে ডেকে বার বার বলতে থাকে-মারবে নাকি? সাথে সাথে উত্তর দিতে হয়।তা না হলে ক্ষিপ্ত হয়ে যায় সে।

তিনি জানান,রঞ্জনের খাওয়া ধাওয়ার তেমন চাহিদা নেই।কখনো কাঁদেও না সে।শুধু হাসে অর ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।ছোট বেলায় ডাক্তাররা জানিয়েছিলো উন্নত চিকিৎসা পেলে ও ভালো হয়ে যাবে।কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারিনি।

প্রতিবেশিরা জানান,দরিদ্র পরিবারটির খুবই মানবেতর দিন কাটছে।রঞ্জনকে বর্তমানে মা-বাবা আগলে রাখছেন।কিন্তু তাদের অর্বতমানে ছেলেটির ভবিষৎ কি হবে। বন্দিজীবনই বা কাটবে কতদিন?

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম(টুটুল)জানান, মানসিকভারসাম্যহীন সন্তান নিয়ে পরিবারটি খুবই কষ্টে আছে।তাদের থাকার মতো কোন জায়গাও নেই।কয়েকমাস আগে রঞ্জনের নামে তিনি একটি প্রতিবন্ধী ভাতা করিয়ে দিয়েছেন।সেই ভাতার টাকা দিয়েই তারা কোনমতে বেঁচে আছেন।

এ প্রতিবেদকের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইরিন আক্তার জানান, রঞ্জন কর্মকারের যাতে সু-চিকিৎসা হয় এজন্য তিনি উদ্যোগ নিবেন।পাশাপাশি তাদের নামে খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়ার ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর