২৫ মার্চের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে | সব খবর | Sob khobar
  1. admin@sobkhobar.com : admin :
  2. editor@sobkhobar.com : editor :
২৫ মার্চের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে | সব খবর | Sob khobar




২৫ মার্চের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে

সব খবর রিপোর্ট
  • প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২০
  • ৬৮ জন পড়েছে

ধর্মের ভিত্তিতে ভারত এবং পাকিস্তান ভাগ হলো।ধর্মের ভিত্তিতে রাষ্ট্রকে দ্বিখণ্ডিত করা কতটা বোকামি তা পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের উপর নজর দিলেই স্পষ্ট হওয়া যায়।ভারত ও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র হয়েই থেমে থাকে নি এই স্ফুলিঙ্গ।পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ভাগ হয় যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ।

যতটা সহজে বলা যায় স্বাধীনতার কথা। স্বাধীনতা ততটা সহজ ছিল না।পাকিস্তান এবং ইন্ডিয়া ভাগ হওয়ার ফলে আমাদের প্রথমে পাকিস্তানের অংশে অর্থাৎ তাদের নেতৃত্বে চলতে হয়েছে।আমরা পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তান এই দুই ভুখন্ড মিলিয়ে একটি দেশ ধরেছিলাম।কিন্তু, পশ্চিম পাকিস্তানিরা কখনোই আমাদের তাদের অংশ বলে ভাবে নি।প্রতিনিয়ত তারা আমাদের উপর অত্যাচার করে গিয়েছে।প্রথম আঘাত আসে আমাদের ভাষার উপর।সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক বাংলায় কথা বললেও তৎকালীন শাসকেরা মুখের জোরে না পেরে পেশির জোরে উর্দু আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল।কিন্তু আমরা আমাদের জাতীয়তাবাদের জোরে তাদের সকল চক্রান্ত ধূলিসাৎ করে দেই। এইতো গেল বায়ান্নের কথা একাত্তর পর্যন্ত যেতে আরো বহু অন্যায়-অত্যাচার তারা আমাদের উপর চালিয়েছে।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলকে দমাতে ১৯৭১সালে ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত পরিকল্পিত গণহত্যা।

অপারেশনটির আসল উদ্দেশ্য ছিল ২৬ মার্চ এর মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সব বড় বড় শহর দখল করে নেয়া এবং রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধীদের এক মাসের ভেতর নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। এই সামরিক আক্রমণ ১৯৭১ সালের গণহত্তাকে ত্বরান্বিত করে। এই দিন বাঙালির জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তারা গ্রেফতার করেছিল।এছাড়াও, এই সামরিক আক্রমনের মধ্য দিয়ে বাঙালিকে তারা করে চেয়েছিল মেধাশূন্য। অনেকটা পেরেছেও।অনেক বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের তারা ধরে ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাদের বাসা থেকে কিন্তু আজও তাদের বাসায় ফেরা হয়ে উঠে নি।

পিছনে রয়েছে আরো কিছু ঘটনা, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করলে সবার প্রত্যাশা ছিল তারা ঐতিহাসিক ৬ দফার উপর সরকার গঠন করবে কিন্তু তা হতে দেয়া হয় নি।২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭১ এ তৎকালীণ রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধান ইয়াহিয়া পিপিপি এর জুলফিকার আলী ভুট্টোর প্ররোচনা ও চাপে জাতীয় বিধানসভার কার্যাবলি মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করে দেন। এর প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সরকার ৭ই মার্চ ১৯৭১ এ একটি গণসমাবেশ আয়োজন করেন। সেই গণসমাবেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ দেন। একটি তর্জনী, একটি জাতি, একটি ভাষা, একটি স্বাধীনতা অর্থাৎ পুরো বাঙালি জাতির কর্ণধার রূপে আবর্তিত হন তিনি।

আমরা সেদিনকার যুদ্ধে পাকিস্তানিদের বিপক্ষে ৩০ লক্ষ লোকের রক্তের বিনিময়ে এবং অগণিত মায়ের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছিলাম।আজ, বাঙালি স্বাধীন কিন্তু এক ক্ষুদ্র ভাইরাসের কাছে অসহায় এই জাতি।শুধু এই জাতি সেরকম নয়।পুরো বিশ্ব এই ভাইরাসে আক্রান্ত।প্রতিনিয়ত এই রোগে রুগীর সংখ্যা বেড়েই যাচ্ছে।তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
বাঙালি জাতি হিসেবে কতটা একতাবদ্ধ, কতটা অপরাজেয় সেটা জানা গিয়েছিল ১৯৭১ এ।এখনকার সময়ে ঢুকে ঢুকে মানুষ মারা যাচ্ছে করোনা ভাইরাসে।দরকার সবার সহযোগিতা।সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে।যাকে কোয়ারেন্টাইন বলা হচ্ছে ইংরেজিতে।

জাতির এই দূরত্ব শুধু আত্মিক, মনস্তাত্ত্বিক একতাবদ্ধ করতে পারে আমাদের এই রোগ থেকে মুক্তি। সবাই সবার জায়গা থেকে ছোট ছোট সাহায্য করে গেলে এবং ভয় না পেয়ে সাহসের সাথে লড়ে যেতে পারলে করোনা ভাইরাসের বিপক্ষে জয় আমাদের হবে।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। এই দিনের বাঙালি হারিয়েছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। আমরা চাই না আমাদের মাঝ থেকে আবার আমাদের নতুন প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা হারিয়ে যাক। তাই, আমাদের ২৫ মার্চের শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

ইকবাল হাসান, শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়




Comments are closed.

এই বিভাগের আরো খবর




ফেসবুকে সব খবর